২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন সাকিব-তামিম

শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন সাকিব-তামিম

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) শুরু থেকেই দেশী ক্রিকেটারদের নজরকাড়া নৈপুণ্য দেখা গেছে। সেটা চট্টগ্রামে শেষ হওয়া দ্বিতীয় পর্বের পরও ধরে রেখেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। চট্টগ্রাম পর্বে বিপিএলে বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগ হয়েছেন তারকা ক্রিকেটাররা। এর মধ্যে আছেন শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, আহমেদ শেহজাদ, উমর আকমল, ওয়াহাব রিয়াজ ও সোহেল তানভীররা। আর আগে থেকেই বিভিন্ন দলের হয়ে খেলছেন লঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা, তিলকারতেœ দিলশান, অজন্থা মেন্ডিস, নুয়ান কুলাসেকারা, সচিত্র সেনানায়েকে, থিসারা পেরেরা, ইংল্যান্ডে রবি বোপারা, জশুয়া কব, জিম্বাবুইয়ের ব্রেন্ডন টেইলর, এলটন চিগুম্বুরা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন সামি, ফিদেল এ্যাডওয়ার্ডস, লেন্ডল সিমন্সরা। কিন্তু সবাইকে টেক্কা দিয়ে ব্যাট-বলের নৈপুণ্যে এগিয়ে আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাই। বিশেষ করে চলতি বিপিএলে দারুণ দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশী বোলাররা। সমান ১৩ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত চলতি আসরে শীর্ষ দুটি অবস্থান সাকিব আল হাসান ও পেসার আবু হায়দার রনির। আর ব্যাটিংয়ে সবার ওপরে তামিম ইকবাল।

প্রথম পর্ব শেষে ১০ উইকেট নিয়ে এককভাবে বোলিং নৈপুণ্যে শীর্ষে ছিলেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। তবে মাঝে এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি। চট্টগ্রাম পর্বে দারুণ উত্থান ঘটেছে অনুর্ধ ১৯ দলের উদীয়মান পেসার আবু হায়দার রনির। আর তাকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সবমিলিয়ে গতির ঝলক দেখিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন এ তরুণ। যুব ক্রিকেট দলের হয়ে নিয়মিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চমকের জন্ম দেয়া এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত খেলা এ তরুণ বিপিএল দিয়ে নিজেকে যেন আরও চিনিয়ে দিয়েছেন। সাকিবের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলেছেন, তবে উইকেট নিয়েছেন সমান ১৩টি। ম্যাচ বেশি খেলা এবং বোলিং গড়ে তিনি চলতি বিপিএলে উইকেট শিকারির তালিকায় দুইয়ে। সাকিব ৬ ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। মাত্র ৯.২৩ গড়ে তার শিকার সংখ্যা ১৩। ১১ উইকেট করে নিয়ে বোলিং গড়ের কারণে যথাক্রমে পরবর্তী তিনটি স্থান বরিশাল বুলসের কেভন কুপার, চিটাগাং ভাইকিংসের পেসার মোহাম্মদ আমির ও বরিশাল বুলসের আল-আমিন হোসেন। শুরুর দিকে কুপার, আমির ও কুলাসেকারা দুর্দান্ত বোলিং করে ওপরের দিকে থাকলেও তাদের টপকে গেছেন দেশীও বোলাররা। ৯ উইকেট নিয়ে কুলাসেকারা এখন ৭ নম্বরে। ঢাকায় প্রথম পর্ব শেষে উইকেট শিকারির তালিকায় সুপারস্টারসের পেসার মোহাম্মদ শহীদ থাকলেও তিনি সেই নৈপুণ্য ধরে না রাখতে পেরে সেরা পাঁচের বাইরে চলে গেছেন। এছাড়া ডায়নামাইটসের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও স্পিনার মোশাররফ হোসেনও চলে গেছেন সেরা পাঁচের বাইরে।

ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রাম পর্ব শেষেও নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন চিটাগাং ভাইকিংস অধিনায়ক তামিম। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জাতীয় দলের এ ওপেনার এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে ৪১.৪২ গড়ে করেছেন ২৯০ রান। দল একের পর এক হেরে গেলেও তামিমের সতীর্থ তিলকারতেœ দিলশানও দারুণ ব্যাটিং করছেন। তিনি সমান ম্যাচে ৩২.৫৭ গড়ে ২২৮ রান করে দুইয়ে আছেন। প্রথম পর্ব শেষে ব্যাটিং নৈপুণ্যে তামিম ছাড়া বাংলাদেশের বাকি ব্যাটসম্যানরা কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। তবে তারা চট্টগ্রাম পর্বে জ্বলে উঠেছেন। ধারাবাহিকভাবে দারুণ ব্যাটিং করে সিলেট সুপারস্টারসের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম উঠে এসেছে ৫ নম্বরে। এছাড়া প্রথম পর্বে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অনেকেই রান খরায় ছিলেন। তাদের মধ্যে রানে ফিরেছেন রংপুর রাইডার্সের ওপেনার সৌম্য সরকার, ভিক্টোরিয়ান্সের লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস এবং ডায়নামাইটসের নাসির হোসেন। তবে এখনও নিজেকে ফিরে পাননি বরিশাল বুলসের সাব্বির রহমান রুম্মান। সৌম্য প্রথম পর্বে পুরোপুরি ব্যর্থ থাকলেও এখন ৭ ম্যাচে ২০.৮৩ গড়ে ১২৫ রান নিয়ে আছেন তালিকার ১০ নম্বরে। একটি ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংসও উপহার দিয়েছেন তিনি। ইমরুল উঠে এসেছেন ৮ নম্বরে।