২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খুলনা নগরীতে নিয়ন্ত্রণহীন ইজিবাইক

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনা মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (অটো ও রিক্সার ছড়াছড়ি। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচলের কারণে রাস্তায় বিশৃঙ্খল আবস্থা ও মোড়ে মোড়ে মারাত্মক যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। পথচারীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের এই বিশৃঙ্খলা রোধের বিষয়টি বিভিন্ন সভায় আলোচিত হলেও সমাধানে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেই।

জানা যায়, বর্তমানে খুলনা মহানগরী এলাকায় প্রায় ২০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করছে। এর মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ২ হাজার ইজিবাইক চলাচলের অনুমোদন দিয়েছিলেন। বাকি ইজিবাইকগুলোর নগরীতে চলাচলের কোন প্রকার বৈধতা নেই। নগরীতে লাইসেন্সকৃত রিক্সার সংখ্যা হচ্ছে ১৭ হাজার। অথচ রিক্সা চলাচল করে ৩০ হাজারের অধিক। এর মধ্যে বহু নতুন ও পুরনো মডেলের রিক্সায় অবৈধভাবে ব্যাটরিচালিত ইঞ্জিন সংযোজন করা হয়েছে। ব্যাটারিচালিত ইঞ্জিন লাগিয়ে অনেক রিক্সা ভ্যানও নগরীতে চলাচল করছে।

যাত্রীরা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে অনেকটা সাশ্রয়ী মূল্যে চলাচল করছে। এজন্য জনগণের কাছে এই যানবাহনটির কদর রয়েছে। কিন্তু ইজিবাইক ও রিক্সা চালকদের অধিকাংশই বেপরোয়া। ইজিবাইক চালকেরা নিয়মকানুনের ধার ধারে না। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা নামা করায় আবার মোড়ে মোড়ে এমনকি বিভিন্ন ছোট রাস্তাগুলোতেও ইজিবাইক ও রিক্সা ইচ্ছামতো দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। পথচারীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আর ইঞ্জিনচালিত রিক্সা অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চালানো হয়। এ বাহনটি হালকা হওয়ায় দ্রুতগতি নিয়ন্ত্রণ করার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে রিক্সায় ইঞ্জিন লাগিয়ে রাস্তায় নামানো হচ্ছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ও অনেক প্রভাবশলী ব্যক্তির মালিকানাধীন অবৈধ ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত রিক্সা নগরীতে চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস আগে খুলনা সার্কিট হাউসে স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যবৃন্দ, প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নগরীতে ইজিবাইক চলাচলের বিষয়টি আলোচিত হয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে ৫ হাজার ইজিবাইক চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মেজাম্মেল হক মিলন বলেন, ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদানের ব্যাপারে তাদের কাছে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। সিদ্ধান্ত পেলে লাইসেন্সের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ কলিমুল্লাহ জানান, ইতোপূর্বে সিদ্ধান্ত হয়েছিল নগরীতে ৫ হাজারের বেশি ইজিবাইক চলাচল করতে পারবে না। সে অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন থেকে ওই ইজিবাইকগুলোকে হলুদ রং দিয়ে চিহ্নিত করে দেয়ার কথা। কেসিসির কাছ থেকে তালিকা পাওয়া গেলে অবৈধ ইজিবাইকগুলোকে শহর থেকে সরিয়ে দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ইজিবাইকের কারণে নগরীতে যানজট হচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগে পর্যাপ্ত জনবল নেই। অপর্যাপ্ত জনবল দিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।