২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরবেই কেটে গেল উজিরপুর মুক্ত দিবস

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে পরাস্থ হয়ে ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর ভোরে ৫৫জন পাকসেনা ও ৩৫জন রাজাকার, আলবদর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পন করেছিলো। ফলে সারাদেশের চূড়ান্ত বিজয়ের ১১ দিন আগে বরিশালের উজিরপুর হয়েছিলো শত্রুমুক্ত।

সেই থেকে দীর্ঘদিন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ৫ডিসেম্বর উজিরপুর মুক্ত দিবস পালন করে আসলেও সরকারি উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে কোন কর্মসূচী পালন না করায় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এবারও দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে আলোচনাসভা ছাড়া আর কোন কর্মসূচী পালন করা হয়নি। এমনকি স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও স্বীকৃতি মেলেনি মুক্তিযুদ্ধ মিলন কেন্দ্রটির।

সূত্রমতে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২৬টি উপজেলার একমাত্র যুদ্ধকালীন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ৯নং সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিলো উজিরপুরের বড়াকোঠার দরগাবাড়ি। এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন উজিরপুরের কৃতি সন্তান মেজর এম.এ জলিল। তাই পাকসেনাদের মূল টার্গেট ছিলো উজিরপুরের ওপর। ’৭১ সালের ১৭ অক্টোবর দরগাবাড়ির মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটিতে আক্রমন চালাতে গিয়ে ওই এলাকাসহ পাশ্ববর্তী ২১টি গ্রামে নারকীয় তান্ডব চালায় ঘাতকেরা। সেদিন ওইসব এলাকার কয়েক হাজার নিরিহ মানুষকে হত্যা করা হয়। ঘাতকদের হাত থেকে সেদিন রক্ষা পায়নি মায়ের কোলে থাকা দেড় মাসের শিশু কন্যা আনারকলি। মায়ের কোল থেকে নবজাতক শিশুটিকে কেড়ে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে পাকবাহিনী। একইদিন ধামুড়া বন্দরসহ বেশ কয়েকটি বাজারে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে অসংখ্যা নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় পাকসেনারা। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ওই বছরের ৫ডিসেম্বর ভোরে ৫৫ জন পাকসেনা ও ৩৫ জন রাজাকার, আলবদর ৯ নং সেক্টরের বেইজ কমান্ডার আব্দুল ওয়াদুদ সরদারের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার হারুন-অর রশিদ জানান, ১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো বড়াকোঠা দরগাবাড়ির মুক্তিযোদ্ধা মিলন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা মিলন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও নবম সেক্টরের একমাত্র ঘাঁটি মুক্তিযোদ্ধা মিলন কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত কোন উন্নতি হয়নি।