২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছয় নম্বরে বাংলাদেশ

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বোচ্চ ঝুঁকির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ছয় নম্বরে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঝড়, বন্যা, ভূমিধস ও খরার মতো বিষয়গুলো সামনে রেখে এই অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকায় সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রথম তিনটি দেশ হচ্ছে হন্ডুরাস, মিয়ানমার ও হাইতি। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে জার্মানির বন শহরভিত্তিক জলবায়ু পরামর্শক গোষ্ঠী ‘জার্মানওয়াচ’। বরাবরের মতো এবারও তারা ‘বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক-২০১৬’ প্রকাশ করে। তালিকায় চতুর্থ ফিলিপিন্স ও পঞ্চম অবস্থানে নিকারাগুয়া। তালিকার এক থেকে সাত নম্বর পর্যন্ত দেশগুলো গত বছরও মারাত্মক ঝুঁকির সূচকে ছিল। বিশ্লেষকরা মনে করেন, গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন রোধ করা না গেলে এসব দেশের সমুদ্রসীমার উচ্চতা, ঝড়, বন্যা ও খরা আরও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ঝুঁকির সূচকে থাকা দেশগুলোতে আরও দুর্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। সংবাদটি বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের জন্য দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের। এ থেকে উত্তরণের পথ বের করার বিকল্প নেই।

পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশ মাথাপিছু মাত্র ০.৪ টন কার্বন নির্গমন করে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মাথাপিছু কার্বন নির্গমনের পরিমাণ যথাক্রমে ১৭ ও ৭.১ টন। কার্বন নির্গমনের কারণেই জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে। এ কারণে কারণে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশ। তিন দশকের মধ্যে এ দেশের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০৮০ সাল নাগাদ সাগরপৃষ্ঠ হবে প্রায় ২ ফুট উঁচু! হিমালয়ের বরফ গলবে আরও দ্রুতগতিতে, ফলে আরও ফুলে ফেঁপে উঠবে বঙ্গোপসাগর। সাইক্লোন দেখা দেবে আরও বেশি, আরও তীব্রভাবে। লবণাক্ত পানির কারণে পানযোগ্য পানি চরম সংকট হবে। উর্বর জমি ধ্বংস হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে এসবের কিছু আলামতও দৃশ্যমান। নানা গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ঢাকায় যারা ভাগ্যের সন্ধানে পাড়ি জমায়, তাদের বেশিরভাগই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা। সেসব এলাকা ইতিমধ্যে সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধি, বর্ধিত লবণাক্ততা, ধ্বংসাত্মক বন্যা ও সাইক্লোনে ভুগছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, প্রতিবছর কমপক্ষে চার লাখ মানুষ ঢাকায় বসবাসের জন্য আশ্রয় খোঁজে। বস্তিতে বসবাসরত ৭০ শতাংশই কোন না কোন পরিবেশগত আঘাতের কারণে ঠাঁই নিয়েছে রাজধানীতে। শুধু বাংলাদেশই নয়। সারাবিশ্বের মানুষ স্থানান্তরের মধ্যে আছে। আফ্রিকায় খরা এড়াতে কেউ অভিবাসিত হচ্ছে অন্যত্র, আর বন্যা এড়াতে ২০৬০ সাল নাগাদ বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষ পরিবেশ অভিবাসীতে পরিণত হতে পারে। তবে এবার প্যারিস বৈঠকে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমানো, লস এ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল, দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন, অভিযোজন তহবিল ও গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থায়ন ঝুলিয়ে দিতে শিল্পোন্নত দেশগুলো নানা ফাঁকফোকর খুঁজেছে। নানা অজুহাতে অর্থায়নে বিলম্ব সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছে শিল্পোন্নত দেশগুলো। তবে জলবায়ু সম্মেলনে এবার বাংলাদেশ অর্থায়ন ইস্যুতে জোরালো দাবি তুলেছে।

আশার কথা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর ও বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে, যার সাফল্যও পেয়ে যাচ্ছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার পরও নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড তৈরি করে গোটা বিশ্বের রেকর্ড করেছে। ইতোমধ্যে এই ফান্ডের ৩ হাজার কোটি টাকায় ৩৬৮টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বীকৃতি স্বরূপ দেয়া হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ পুরস্কার। বিশেষজ্ঞরা প্রত্যাশা করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় প্যারিসে সদ্য শেষ হওয়া জলবায়ু সম্মেলনের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দেয়া হবে।