২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাট রফতানি বন্ধ ঘোষণা

বাংলাদেশকে সোনালি আঁশের দেশ বলা হয়। এর কারণ বাংলাদেশের পাটের বিশ্বময় সুখ্যাতি। এছাড়া বৈদেশিক আয়ের সিংহভাগ আসত পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি থেকে। পরবর্তীকালে কৃত্রিম তন্তু প্রচলন হওয়ায় পাটপণ্যের চাহিদা হ্রাস পায় মারাত্মকভাবে। সোনালি আঁশ পরিণত হয় চাষির গলার ফাঁসে। পাট খাতের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে কিছু কিছু সাফল্য এসেছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাঁচা পাট রফতানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তে দেশের পাটের বাজার চাঙা হয়ে ওঠার উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। গত মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশের পাটকলগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এক মাস কাঁচা পাট রফতানি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। এবার উৎপাদন কম হওয়ার যুক্তি দেখিয়ে পাটকল মালিকরা বেশ কিছুদিন ধরে কাঁচা পাট রফতানি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে চলতি মাস থেকে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রচুর পরিমাণে পাটের প্রয়োজন পড়বে। পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

পাটের ব্যবহার সংক্রান্ত আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় গ্রহণ করতে যাচ্ছে নানা পদক্ষেপ। যে সব প্রতিষ্ঠান পাটের ব্যাগ ব্যবহার করবে না, সেসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংকঋণও পাবে না। আমদানি-রপ্তানি সনদ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, ব্যবসায় পরিচালনার লাইসেন্স ইত্যাদি পেতে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করার পূর্বশর্ত মেনে নিতে হবে।

পলিথিনসহ অন্যান্য কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অন্যদিকে পাটের ব্যাগ পরিবেশবান্ধব। ব্যক্তি পর্যায়ে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েও তেমন সুফল মেলেনি। এর পেছনে রয়েছে পলিথিনের সহজলভ্যতা এবং পাটের ছোট ব্যাগ তৈরিতে ব্যবসায়ীদের অনীহা। পরবর্তীকালে দেশব্যাপী পরিবহনের জন্য খাদ্যপণ্য মোড়কজাতের ক্ষেত্রেও পাটের ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত হয়ে আসে। তবে এখন থেকে ধান, চাল, চিনি, গম, ভূট্টা, প্রভৃতি পণ্য পাটের বস্তায় মোড়কজাত করা না হলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে কড়াকড়ি আরোপ হলে পরিস্থিতি অবশ্যই বদলে যাবে। জনসচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে এবং বাজারে সাশ্রয়ী দামে ছোট ছোট চটের ব্যাগ সুলভ হলে মানুষ নিত্য প্রয়োজনে আগের মতো পাটের ব্যাগ ব্যবহার করবে বলে আশা করা যায়। পাটের ব্যাগ ছাড়াও এই কৃষিপণ্যের আরও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পাট খাত বাংলাদেশের ইতিহাস ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য একটি অতি সংবেদনশীল খাত। যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পাটের সোনালী দিন আবারও ফিরে আসবে। পাট খাতকে লাভজনক করতে ১০ বছরের একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে সরকার। পাটকলগুলোকে আধুনিকায়ন বা বিএমআরআই করা ও পাটকলগুলোর অব্যবহৃত জমি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পাটকলগুলোর সংকট কেটে যাবে। সেইসঙ্গে পাটের তৈরি মোড়কের ব্যাপক প্রচলন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে পাট তার হারানো গৌরব নিশ্চয়ই ফিরে পাবে।