২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একুশ শতক ॥ ডিজিটাল মুক্তিবাহিনী গড়ে তোল

  • মোস্তাফা জব্বার

[গত সপ্তাহে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছিলাম। ধারাবাহিক সেই লেখাটির দ্বিতীয় কিস্তির বদলে আজ আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। সামনের সপ্তাহে আবার ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ফিরে আসব]

একাত্তরের বিজয়কেই এতদিন আমাদের গৌরবের বড় অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছিলাম। প্রতি ডিসেম্বরে পুরো জাতি সেই গৌরবের স্বাদ অনুভব করে। এবার যেন সেই স্বাদটা আরও একটু মধুর হলো। বিজয়ের ৪৪ বছর পর যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তাদের যুদ্ধাপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইল। এই ডিসেম্বর মাসে নিজামী তার অপরাধ স্বীকার করে উচ্চ আদালতের কাছে সাজা কমানোর আবেদন করল। ৪৪ বছর ধরে আমরা যা বলে আসছি, তিন যুদ্ধাপরাধী তার স্বীকৃতি প্রদান করল। আমরা যে সত্য বলেছি, ওরা যে ঘাতক এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার যে সঠিক সেটিই এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো। জয় বাংলা!

অন্যদিকে এটিও প্রমাণিত হলো যে, পাকিস্তান তার একাত্তরের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ায়নি। ওরা প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াত-বিএনপি পাকিস্তানের দালাল এবং একাত্তরের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার বদলে তারা একাত্তরের সীমানাটিতেই থাকতে চায়। এবার আরও স্পষ্ট হলো যে, তারা বাংলাদেশের জন্ম থেকেই একাত্তরে তাদের চরম পরাজয়ের প্রতিশোধের জন্য ষড়যন্ত্র করে চলেছে। এজন্য আমরা সঠিকভাবে ৪৪ বছর পরও বলছি যে বাংলাদেশের রাজনীতি একাত্তরকে অতিক্রম করেনি। পুরো পাকিস্তানের একজন মানুষ আসমা জাহাঙ্গীর ছাড়া সরকারী বিরোধী সকল দলই যে বাংলাদেশবিরোধী এটিও এবার নগ্নভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এখন আরও স্পষ্ট করে বলা যায়, পাকিস্তানীরাই বঙ্গবন্ধু, তার পরিবার, জাতীয় চারনেতা ও স্বাধীনতা উত্তরকালে নিহত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল মানুষকে খুন করার নেপথ্য কারিগর। তারা যে বিএনপি জামায়াতকে অর্থসহ সকল প্রকারের মদদ দিয়ে যাচ্ছে সেটি নিয়ে আর নতুন করে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।

আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে পারি যে, মুজাহিদ ও সাকার ফাঁসির পর পাকিস্তান তাদের পক্ষাবলম্বন করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা বাংলাদেশে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের কথা অস্বীকার করেছে এবং দুই ঘাতককে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানের সরকারের পাশাপাশি ইমরান খান ও জামায়াতও তাদের পক্ষাবলম্বন করেছে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের সেই ঘৃণ্য কৃতকর্মের প্রতিবাদ করায় তারা পাকিস্তানস্থ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে প্রতিবাদ করেছে। কাকতালীয়ভাবে পাকিস্তানী কুলাঙ্গারদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও কথা বলেছে। তারা এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের দাবি করেছে।

আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত হবে না যে, এর আগেও কাদের মোল্লার ফাঁসির সময়ও পাকিস্তান অত্যন্ত নগ্নভাবে বাংলাদেশে বসবাসকারী পাকিস্তানের দালাল ও পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বনকারী একাত্তরের ঘাতকদের জন্য চোখের পানি ফেলেছে। তখন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি, কাদের মোল্লার সঙ্গে পাকিস্তানের সংহতি ও পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, তখনকার হরতাল ও অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচীর জন্য দেশব্যাপী সহিংস অস্থিরতা, আওয়ামী লীগ-বিএনপির বৈঠক ও ব্যর্থতা, আলোচনা-সমালোচনা-পর্যালোচনা, জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব তারানকোর সফর ও ব্যর্থতা; তথা বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরের সকলেই প্রশ্ন করেছিলেন, কি হচ্ছে বাংলাদেশে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র ২০ দিনে ১২৩ মৃত্যু ভয়ঙ্করতার একটি প্রতিফলন ছিল মাত্র। প্রতিদিনই রক্ত, মৃত্যু, আগুন, সন্ত্রাস আর দমবন্ধকর অবস্থা দেশের সকল নাগরিকের জন্যই চরম ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছিল। আতঙ্কিত ও ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে এমন আশ্বাসের পর যৌথবাহিনীর অভিযান চলেছিল। কিন্তু সহিংসতা ও মৃত্যুর মিছিল তখন থামেনি। ঢাকা শহরের জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক হলেও দেশের নানা প্রান্তে জামায়াত-শিবিরের তা-ব চরম সহিংস রূপ নিয়েছিল। এখন নিশ্চিত করে বলা যায় যে, তখন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশে এমন চরম অস্থিরতা তৈরির জন্য কাজ করেছিল। জামায়াত-বিএনপি ও তাদের দোসররা মরণকামড় দিয়ে একাত্তরে পাকিস্তানের পরাজয়ের বদলা নিতে চেয়েছিল।

আমরা যারা দেশের ভেতরে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি তারা যাই ভাবিনা কেন, বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি প্রবাসী, প্রতিবেশী দেশসমূহের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে একটি ভীতিকর অবস্থার চিত্র উপস্থাপিত হয়েছিল তখন। প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘের মহাসচিব ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন, ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সফর, চীন-মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ ইউরোপ-এশিয়ার কূটনীতিকদের সরব পদচারণা এবং সেই বছরের বিজয় দিবসে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের স্মৃতিসৌধে না যাওয়া ইত্যাদি পুরো বিষয়টিকেই আন্তর্জাতিক করে দিয়েছিল। কোন কোন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এমনভাবে পুরো চিত্রটি তুলে ধরেছিল যেন বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। কোন কোন মহল ইসলাম বা ধর্মকে এর সঙ্গে যুক্ত করেছিল। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিল। বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল, কাগজের মাধ্যম ও চায়ের আড্ডায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল তখনকার চরম পরিস্থিতি। কেউ কেউ এমনটাও ভেবেছিলেন যে বাংলাদেশ কি এমন চরম অবস্থা অতিক্রম করবে পারবে?

আন্তর্জাতিকতার ক্ষেত্রে নতুন করে যে পরিস্থিতিটি যুক্ত হয়েছিল, সেটি ছিল, পাকিস্তানের সংসদে কাদের মোল্লার ফাঁসির বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ করা এবং পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশ আক্রমণ করার আহ্বান জানানো। পাকিস্তানের তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলা করার হুমকি দিয়েছিল। কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করার পর দেশের কোথাও কোথাও আকস্মিকভাবে সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

দু’বছর পর আবারও ফাঁসির পর কিন্তু ২০১৩ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়নি। খুব সহজেই বোঝা যায় পাকিস্তানের বাগাড়ম্বর শেষ হয়েছে। জামায়াতের কোমর ভেঙ্গেছে। বিএনপি মাঠে নামার কথা কল্পনাও করতে পারেনি। ’৭৫-এর পর বিএনপি-জামায়াতকে এতটা দুর্বল সম্ভবত আর কখনও দেখা যায়নি। কিন্তু একাত্তরের লড়াইটা যে শেষ হয়নি সেটি সম্ভবত ভুলে যাবার কোন কারণ নেই।

লড়াইটা একাত্তরের: আমার নিজের পর্যবেক্ষণ হলো একাত্তরে দেশ স্বাধীন হলেও একাত্তরের রাজনীতি সেই সময়েই শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের বিগত চার দশকেরও বেশি সময়ের রাজনীতির কেন্দ্র একাত্তরের মূল নীতি ও আদর্শেই কেন্দ্রীভূত ছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানীদেরকে পরাজিত করতে পারলেও তাদের দালালরা বাংলাদেশেই বেঁচে ছিল। ৪৪ বছরে তারা তাদের বংশধরসহ মহীরুহে পরিণত হয়েছে। জিয়া-এরশাদ-খালেদার পৃষ্ঠপোষকতায় তারা বিশাল রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। দেশব্যাপী তাদের সংগঠন গড়ে তোলা ছাড়াও ধর্মকে ব্যবহার করে তারা দেশটিকে সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের ঘাঁটিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছে। বিষয়টি গত ছয় বছরে একটি ক্লাইমেক্স পেয়েছে মাত্র। বিশেষ করে শেখ হাসিনার সরকার এবার ক্ষমতাসীন হবার পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করায় সেটি একাত্তরের পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি জামায়াতে ইসলাম ও তার পৃষ্ঠপোষক বিএনপির কাছে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। জামায়াত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শক্তিশালী শরিক দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পুরো জোটকেই প্রভাবিত করে আসছে। ফলে আমরা যারা দেশের ভেতরের উত্তাপটি অনুভব করতে পারি তারা এটি বুঝি যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিটি প্রকাশ্য দাবি হলেও মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ভ-ুল করা এবং বাংলাদেশকে একটি পাকিস্তানপন্থী তালেবানী রাষ্ট্রে পরিণত করা।

বাংলাদেশের রাজনীতির মেরুকরণটি যদি কেউ ভালভাবে বিশ্লেষণ করেন তবে তার পক্ষে এটি উপলব্ধি করা সহজ হবে। আমি মনে করি দেশের সকল মানুষের জন্য এবারের চ্যালেঞ্জ বড় হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে রাজনীতির মূল স্রোতে একাত্তরের রাজনীতির প্রবল ধারার প্রবাহ বিরাজ করছে। ৪৪ বছর আগে দেশে মুক্তিযুদ্ধ নামক যে বিষয়টি ঘটেছিল সেটির রাজনৈতিক প্রবাহ দেশ থেকে কখনও বিদায় হয়নি। দেশটি স্বাধীন হওয়ার পরও বিষয়টি মীমাংসিত হয়নি। একদিকে একটি রাজনৈতিক ধারা মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও শোষণহীন সমাজের জন্য লড়াই করে আসছে। তারা দেশটিকে তার জন্মের অঙ্গীকারে দৃঢ়তার সঙ্গে স্থাপন করতে চায়। অন্যদিকে বিপরীত একটি পক্ষ স্পষ্টতই পাকিস্তানপন্থী, সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গীবাদী ধারাকে ধারণ করছে। জিয়াউর রহমানের সময় থেকে রাজনীতির এই দুটি ধারা প্রবল হতে থাকে। অন্য অর্থে বলা যায়, জিয়া দেশে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিকে প্রবলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি যে কেবল গোলাম আযমকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন তাই নয়, জামায়াত, মুসলিম লীগসহ অন্য সকল পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক দলকে তিনি পুনর্বাসিত করেন, তাদেরকে ক্ষমতার অংশীদার করেন এবং সেই পরাজিত শত্রুদেরকেই রাজনীতিতে মহীরুহে পরিণত হতে সহায়তা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতির সেই পতাকাটিকে দৃঢ়ভাবে বহন করছেন। এমনকি তার পুত্র তারেক জিয়া লন্ডনে বসে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের রাজনীতিকে সম্প্রসারণে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই ঘরানার রাজনীতির অতীতটাও এই ধারার। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহেরকে হত্যা করাসহ স্বাধীনতার পক্ষের জাসদ ও তার সহযোগী সকল রাজনৈতিক শক্তিকে নির্মূল করার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন। বেগম জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে একই ছকে কাজ করেছিলেন।

এবার মহাজোট ক্ষমতায় এসে একাত্তরের ইস্যুটিকেই রাজনীতির প্রধান ইস্যু হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তারা কেবল যে সংবিধানের অগণতান্ত্রিক বিধানগুলোর পরিবর্তন করেছে তা-ই নয়, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে, বিচার করে রায়ও প্রদান করার ব্যবস্থা করেছে। বস্তুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অনুষ্ঠান দুটি রাজনৈতিক ধারাকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়াসহ একটি পক্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার দাবি করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি এটিও বলেছেন যে, মুক্তিযোদ্ধারাও গণহত্যা করেছে। এতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

মহাজোট ও তার সমর্থকরা দেশটিকে একাত্তরের মূল নীতির কাছাকাছি নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে দাঁড় করাতে চায়। আওয়ামী লীগ সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রেখে ধর্ম নিরপেক্ষতা প্রশ্নে কিছুটা সরে দাঁড়ালেও বা সমাজতন্ত্র শব্দটি স্পষ্টভাবে না বললেও বাংলাদেশকে অন্তত একটি তালেবানী রাষ্ট্রে পরিণত করতে দিতে চায় না। তাদের জন্য গোঁড়ামি, কুসংস্কার, জঙ্গীবাদ ও প্রগতিবিরোধী একটি রাষ্ট্রের কথা ভাবাও কঠিন। খুব সাম্প্রতিককালে জামায়াত-হেফাজতকে মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক মহলে অন্তত এটি প্রমাণ করতে পেরেছে যে, তারাই একটি মধ্যপন্থী উদার অসাম্প্রদায়িক অথচ মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম। ২০ দলীয় জোট ও হেফাজতের উত্থান যে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয় সেটিও তারা কূটনৈতিক মহলে প্রমাণ করতে পেরেছে।

তবে একথা সত্য যে, একাত্তরের মতো যুদ্ধটা এখন আর বন্দুকের ডগায় নেই। লড়াইটা এখন ডিজিটাল হয়ে গেছে এবং সেই লড়াইতেও আমাদেরকে জিততে হবে। এই লড়াইয়ে স্বাধীনতার পক্ষকেই জিততে হবে। আমরা যারা একাত্তরে দেশটাকে স্বাধীন করার জন্য অস্ত্র নিয়ে লড়াই করেছি তারা যথেষ্ট সরব হওয়া সত্ত্বেও আমরা পাকিস্তানপন্থীদের দক্ষতা, কৌশল ও প্রযুক্তির সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছি না। ওরা কেবল ব্লগার, প্রকাশকদেরকে হত্যা করছে না, ওরা ডিজিটাল প্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অবস্থাটি এমন যে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির হলেও পাকিস্তানী চক্রের বিরুদ্ধে ডিজিটাল লড়াইতে সরকারকে এমনকি ফেসবুক পর্যন্ত বন্ধ করতে হয়েছে। জঙ্গীরা দেশীয় জোটের বাইরে আন্তর্জাতিক জঙ্গীদেরও সহায়তা নিচ্ছে। তারা বাংলাদেশ পাকিস্তানের লড়াইটাকে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা যারা বাংলাদেশকে গড়ে তুলছি তারা কেবল বক্তৃতা বিবৃতি সমাবেশ বা মানববন্ধন করে এই চরম অবস্থা মোকাবেলা করতে পারব না। একাত্তরের বন্দুকের লড়াইটাকে এখন ডিজিাল লড়াইতে রূপান্তর করতে হবে। আসুন ফেসবুক ভাইবার হোয়াটস এ্যাপ বন্ধ করে নয় এসব ডিজিটাল প্লাটফরমকে ব্যবহার করেই একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে মোকাবেলা করি। আর সেই কাজটি করার জন্য আসুন বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করি। ওরাই হোক আমাদের একাত্তরের ডিজিটাল মুক্তিযোদ্ধা।

ঢাকা, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক ॥

mustafajabbar@gmail.com

www.bijoyekushe.net,ww w.bijoydigital.com