২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিনাজপুরে ঐতিহাসিক কান্তজিউ রাসমেলায় বোমা হামলা

দিনাজপুরে ঐতিহাসিক কান্তজিউ রাসমেলায় বোমা হামলা
  • আহত দশজনের ৬ জন হাসপাতালে ভর্তি, আটক ৫ ॥ আঙ্গুল জঙ্গীদের দিকে

সাজেদুর রহমান শিলু, দিনাজপুর ॥ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তজিউ রাসমেলায় শুক্রবার রাতে বোমা হামলায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জনকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। মেলার ইজারাদার বাদী হয়ে বিস্ফোরক ধারায় কাহারোল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন, এই বিস্ফোরণের ঘটনা দেশে চলমান জঙ্গী কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বোমা হামলার পরপরই যাত্রাপালা বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কান্তজিউ মেলার ভোলানাথ যাত্রার পরিচালক মহাদেব কুমার জানান, শুক্রবার রাত সোয়া ১টার দিকে রাসমেলার ভোলানাথ যাত্রা প্যান্ডেলে পর পর ৩ বার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাতে রাসমেলার ভেতরে ভোলানাথ নামে একটি যাত্রা প্যান্ডেলে যাত্রা দেখছিলেন বেশ কিছু লোক। রাত সোয়া ১টার দিকে যাত্রাপালায় পরপর তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে ৬ জনকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তিকৃতরা হলেন-রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার দামুদরপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মোকাদ্দেস (২৩), লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ থানার কাশীরামপুর গ্রামের ননীগোপালের ছেলে সাধন রায় (৩৫), দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার দশমাইল এলাকার সিরাজুল ইসলামের পুত্র জব্বার (২৮), একই এলাকার করিমের ছেলে সাইদুর (২৭), বীরগঞ্জ উপজেলার কাশীপুর গ্রামের মিহির দাসের ছেলে উমাকান্ত (২২) ও নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপাড়া মহল্লার মোসলেম উদ্দীনের ছেলে মিঠু (৩০)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যাত্রা প্যান্ডেলের বাঁশের সঙ্গে একটি বোমা বেঁধে রাখা হয়েছিল। লোকজনের চাপে অথবা অন্য কোনভাবে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় শব্দগুলো বেশ তীব্র ছিল। ঘটনায় ৬ জন গুরুতর ছাড়াও অনেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। বিস্ফোরণের মাত্রা অনুযায়ী ককটেল নয়, বরং অন্য কোন বড় ধরনের বোমা হতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, বীরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুজন সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ নাদের হোসেন জানান, আহত ৩ জন উমাকান্ত দাস, আব্দুল জব্বার ও সাধন রায়ের শরীরে স্পিøন্টার রয়েছে বলে এক্সরে-তে পাওয়া গেছে। তিনি জানান, শরীরের ভেতরে স্পিøন্টার থাকায় এ মুহূর্তে তাদের পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ দিনাজপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক পরিমল চক্রবর্তী তপন জানান, ধর্মীয় মেলায় বোমা হামলার ঘটনা, সাধারণ কোন ঘটনা নয়। এটা অন্যকিছুর ইঙ্গিত বহন করে। তিনি বলেন, এই বিস্ফোরণের ঘটনা দেশে চলমান জঙ্গী কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজ দেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট বাবু অমলেন্দু ভৌমিক বলেন, ঘটনাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে আঘাত দিয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। রাজ দেবোত্তর এস্টেটের ট্রাস্টি দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম বলেন, ঘটনাটিকে আমরা ছোট করে দেখছি না। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার রুহুল আমিন জানান, এগুলো ককটেল জাতীয় বোমা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আটক করতে রাত থেকেই পুলিশী তৎপরতা শুরু হয়। ঘটনাস্থলে দিনাজপুর সদর ও কাহারোল পুলিশ একযোগে কাজ করছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে কাহারোল থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি আটক ৫ জনের নাম জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। কান্তনগর মেলার ইজারাদার হারেস উদ্দীন বাদী হয়ে শনিবার বিকেল তিনটায় কাহারোল থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ইতোপূর্বে ঢেমঢেমিয়া কালীর মেলায় ভোলানাথ যাত্রা প্যান্ডেলে অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে মেলাটি দ্রুত বন্ধ করে দেয়া হয়। উল্লেখ্য, ২৫ অক্টোবর থেকে মাসব্যাপী এ মেলাটি শুরু হচ্ছিল। এ ঘটনার পরপরই মেলায় যাত্রাপালা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। তবে রাসমেলা চলছে।