১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই আজ শেষ হচ্ছে

  • একাধিক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ হচ্ছে আজ। কমিশন জানিয়েছে আজ বাছাই শেষে যারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন তারা আগামী ৯ ডিসেম্বর থেকে প্রতীক ছাড়া নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে প্রতীক নিয়ে প্রচারের জন্য ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে। এদিকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক রাখতে ১৯ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বৈঠকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।

এদিকে কমিশন জানিয়েছে প্রথম দিনে যাচাই-বাছাই শেষে একাধিক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়নপত্র ফরম সঠিকভাবে পূরণ না করা, প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন না করা, তথ্য গোপন করা, আয়কর রিটার্নিং দাখিল না করা এবং দলীয় চিঠি না থাকার অভিযোগে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়। জানা গেছে, মেয়র পদে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে ফেনীর দুটি পৌরসভায় এবং চাঁদপুরের একটি পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়পত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে আপীলে তাদের প্রার্থিতা ফিরে না পেলে ওই তিনটি পৌরসভায় বিএনপির কোন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না। কারণ ইসির বিধান অনুযায়ী কোন দলের পক্ষে একক প্রার্থীর বেশি মনোনয়নপত্র জমাদানের কোন সুযোগ রাখা হয়নি।

ফেনী পৌরসভায় ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন ফজলুর রহমান বকুল ও পরশুরাম পৌরসভায় মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। তদের দুজনই মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তবে পরশুরামে বিএনপির প্রার্থী বাতিল হওয়ায় আর কোন প্রার্থী না থাকায় বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের নিজাম উদ্দিন আহাম্মেদ চৌধুরী সাজেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণায় অপেক্ষায় রয়েছেন। অপরদিকে চাঁদপুরের ছেংগারচর পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাওয়া এসব প্রার্থীদের তিনদিনের মধ্যে আপীল কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানাতে হবে। আপীলে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলে নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে প্রার্থীদের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করার সুযোগ রয়েছে। সেখানে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

গত ৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে আওয়ামী লীগ বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে পৌরসভা নির্বাচনে ২৩৫টি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এক হাজার ২২৩টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯ হাজার ৭৯৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৬৬৮ জন মোট ১৩ হাজার ৬৮৯ জন মনোনয়নপত্র দিয়েছেন।

এবারই দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে দলীয় প্রার্থীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই দলের নিবন্ধিত প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এর বাইরে যারা স্বতন্ত্রভাবে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন তাদের জন্য ইসির পক্ষ থেকে আলাদা প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরা ইসির বরাদ্দকৃত প্রতীক ব্যবহার করবেন। আগামী ১৩ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে ১৪ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। ইতোমধ্যে ইসির পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে জন্য প্রতীক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ইসির নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের জন্য আলাদা প্রতীক বরাদ্দ রয়েছে। এসব প্রতীকের মধ্যে রয়েছে ছাতা, বাইসাইকেল, চাকা, গামছা, কাস্তে, নৌকা, ধানের শীষ, কবুতর, কুঁড়েঘর, হাতুড়ি, কুলা, লাঙ্গল, মশাল, তারা, গোলাপফুল, মই, গরুর গাড়ি, ফুলের মালা, বটগাছ, হারিকেন, আম, খেজুর গাছ, উদীয়মান সূর্য, মাছ, বাঘ, গাভী, কাঁঠাল, চাবি, চেয়ার, হাতঘড়ি, মিনার, রিকশা, হাতপাখা, মোমবাতি, হুক্কা, কোদাল, দেয়াল ঘড়ি, হাত (পাঞ্জা), ছড়ি ও টেলিভিশন।

অপরদিকে যারা মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন তাদের জন্য ১২টি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব প্রতীকগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইস্ত্রি কম্পিউটার, ক্যারামবোর্ড, চামচ, জগ, টাই, নারিকেল গাছ, বড়শি, মোবাইল ফোন, রেলইঞ্জিন, হ্যাঙ্গার ও হেলমেট। তবে ইসি জানিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী এর বেশি হলেও প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।

এদিকে কাউন্সিলর পদে সব প্রার্থীকেই নির্দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। ফলে তারা দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণ কাউন্সিলর পদের জন্য ১২টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব প্রতীকগুলোর মধ্যে রয়েছে, উটপাখি, গাজর, টিউব লাইট, টেবিল ল্যাম্প, ডালিম, ঢেঁড়স, পাঞ্জাবি, পানির বোতল, ফাইল কেবিনেট, ব্রিজ, ব্লাকবোর্ড, স্ক্রু ড্রাইভার। এছাড়া সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০টি প্রতীকের মধ্যে রয়েছে আঙ্গুর, কাঁচি, গ্যাসের চুলা, চকোলেট, চুড়ি, পুতুল, ফ্রক, ভ্যানিটি ব্যাগ, মৌমাছি ও হারমোনিয়াম। ইসি জানিয়েছে স্বতন্ত্রী মেয়র ও নির্দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। ইসির উপসচিব মোঃ সামসুল আলম স্বাক্ষরিত প্রতীকের প্রতীক বরাদ্দে পরিপত্র ইতোমধ্যে সব পৌরসভার রিটার্নিং অফিসে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ভোট সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ১৯ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, এপিবিএন, কোস্টগার্ডের শীর্ষ ব্যক্তি, সশস্ত্রবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় ও আঞ্চলিক পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে সবার মতামত নিয়ে ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমের সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ, কেন্দ্রের নিরাপত্তা সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কিভাবে দায়িত্ব পালন করবেন তা নির্ধারণ করা হবে।

ইসি জানিয়েছে ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য সারাদেশে সাড়ে তিন হাজার ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকার গেজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্র-ভোটার তথ্য মোবাইলে জানানোর সুযোগ দেয়া হতে পারে। ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়র প্রার্থীদের নাম প্রতীক এবং নির্দলীয় কাউন্সিলরদের প্রতীকসহ ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ শেষে ২৬ ডিসেম্বর থেকে কমিশন থেকে তা বিতরণ এবং ভোটের আগের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে।