১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএস হুমকিতে ভারত, বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি

শংকর কুমার দে ॥ বাংলাদেশ ও ভারতের চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত পথ এখন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে ও ঝুঁকি মোকাবেলা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের প্রতি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হুমকির ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বাংলাদেশেও। এ জন্য সীমান্ত এলাকায় সতর্ক নজরদারির ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা ও সীমান্তবর্তী জেলার আইনশঙ্খলা বাহিনীকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত পথে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জঙ্গী তৎপরতা, মাদক চোরাচালান ও জাল টাকার লেনদেন রোধের চ্যালেঞ্জ হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতের প্রতি আইএস হুমকি। শুধু তাই নয়, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানে যে আইএস তৎপরতা, যুদ্ধ হুমকি চলছে তাতে বাংলাদেশের নামটিও যুক্ত করেছে ইন্টানেটভিত্তিক নিজের লেখা বই ‘ব্ল্যাক ফ্ল্যাগস ফ্রম দ্য ইসলামিক স্টেট’-এ আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি। এই বিষয়টিতে উদ্বেগের সঙ্গে তদন্ত সূত্র জানায়, ভারত তার দেশের প্রতি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হুমকি রুখতে যখন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তখন তাড়া খেয়ে বাংলাদেশের ভূখ-ে অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। যেমনটা ঘটেছিল বাংলাদেশ থেকে তাড়া খেয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ঘাটি গেড়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান খাগড়াগড়ে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত পথের নিরাপত্তার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে। সতর্ক নজরদারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গত নবেম্বর মাসে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) মোকাবেলায় বাংলাদেশ ও ভারত একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা মোকাবেলায় বাংলাদেশের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে ভারত। অপরদিকে সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিএসএফ এবং বিজিবি যেন নিজ নিজ দেশের সীমান্ত ক্রস না করে, আন্তর্জাতিক নিয়মশৃঙ্খলা যেন মেনে চলে এবং দুই দেশের জনসচেতনতা বৃৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়েছে। বৈঠকে আইএস, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গীগোষ্ঠী আইএসের তৎপরতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেন উভয় দেশের কর্মকর্তারা। জঙ্গী তৎপরতা রুখতে স্থল সীমান্তের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচলকারী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারেও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে আইএস গোষ্ঠীর কোন তৎপরতা নেই।

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন আইএসের হুমকির মোকাবেলায় সতর্কতা জারির পাশাপাশি এখন আবার নিজের লেখা বইতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন খোদ আবু বকর আল-বাগদাদি। তার সদ্য প্রকাশিত বই ‘ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ ফ্রম দ্য ইসলামিক স্টেট’-এ বাগদাদির ঘোষণা, এবার ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে আইএস। ইন্টারনেটে প্রকাশিত বাগদাদির এই নতুন বইয়ে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশে পা রাখবে বলে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে। এতে ভারতের মাটিতে যে আইএস হুমকির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে সীমান্তের চোরাই পথে তারা বাংলাদেশের ভুখ-ে ঢুকে পড়াটা বিচিত্র নয়, আশঙ্কার পথ তৈরি করেছে। এ জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত পথে অনুপ্রবেশ, জঙ্গী তৎপরতা, মাদক চোরাচালান, জাল নোটের কারবার বন্ধে বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা ও সীমান্তবর্তী জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক নজরদারি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে নতুন করে ভারতের ভূখ- থেকে বাংলাদেশের ভূখ-ে যাতে আইএসের অবৈধ অনুপ্রবেশ না ঘটে এবং তাদের হুমকি রুখতে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় সতর্ক নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।