২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিজ দল ও জোটের বিদ্রোহী প্রার্থী সামাল দিতে গলদঘর্ম আওয়ামী লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ একদিকে নিজ দলের ৭১ বিদ্রোহী প্রার্থী। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের দুই প্রধান দল জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির ৩৫ মেয়র প্রার্থী। দু’দিক সামাল দিয়ে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী করতে গলদঘর্মই হতে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে। ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যেই সর্বত্র একক প্রার্থী নিশ্চিত হবে, কেন্দ্রীয় নেতারা এমন আশার বাণী শোনালেও বাস্তবচিত্র যে সম্পূর্ণই ভিন্ন তা তারা নিজেরাও জানেন। নিজেদের বিদ্রোহী প্রার্থী আর নিজেদের জোটের এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীকে সামাল দিয়ে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিকে ভোটের মাধ্যমে পরাজয়ের নানা অঙ্ক ও পরিকল্পনা নিয়েই এগুচ্ছে শাসক দলটি।

আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের ভোটযুদ্ধ হয়েছিল সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। তাই দীর্ঘ সাত বছর পর নৌকা-ধানের শীষের নির্বাচনী লড়াইকে ঘিরে তৃণমূলে চলছে উৎসবের আমেজ। এ নির্বাচনী লড়াইয়ের মাধ্যমে সরকারের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করে নিতে চায় আওয়ামী লীগ। সবদিক থেকে অনুকূল পরিবেশ ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে প্রতিপক্ষ বিএনপির চেয়ে এগিয়ে থাকলেও অধিক বিদ্রোহী প্রার্থী এবং বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কোন্দলই দলটির হাইকমান্ডের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমনিতেই ৭১ বিদ্রোহী প্রার্থীকে বসিয়ে দিতেই বেগ পেতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের। তারওপর ‘গোঁদের ওপর বিষ ফোঁড়া’র অবস্থা হয়েছে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের প্রধান দুই শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির ৯টি এবং জাসদের ২৬টি পৌরসভায় মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের ঘটনায়। এ দু’দলের মোট ৩৫ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেও এদের মধ্যে বেশ ক’জন প্রার্থী রয়েছেন যারা নির্বাচনী এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। সেদিক থেকে শরিক দলগুলোর মেয়র প্রার্থীরা ভোট কাটাকাটি করলে সেক্ষেত্রে বিএনপির প্রার্থীরা লাভবান হবে, এই বাস্তবতায় চিন্তায় ফেলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ নীতিনির্ধারকদের।

সূত্র জানায়, জোটগতভাবে পৌরসভা নির্বাচন করার জন্য গত দুই সপ্তাহ আগে ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন শরিক দলগুলোর নেতারা। ওই সময় মোহাম্মদ নাসিম বিষয়টি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে জানাবেন বলে জোটের নেতাদের আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু গত বুধবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার/পৌর মেয়র মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জোটগত নয়, এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে আওয়ামী লীগ। ওই বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলা হয়, স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করলে তৃণমূলে দলগুলোর নেতৃত্ব তৈরি হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৪ দলীয় জোটের শরিক রাজনৈতিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ২৬টি পৌরসভায় মেয়র পদে তারা প্রার্থী দিয়েছে। জাসদ মনোনীত প্রার্থীরা হলেন- কুষ্টিয়া পৌরসভায় গোলাম মহসিন, ভেড়ামারায় আবদুল আলীম স্বপন, কুমারখালীতে আফজাল হোসেন সাচ্চু, ঝিনাইদহের মহেশপুরে রমজান আলী ম-ল, নড়াইল পৌরসভায় সৈয়দ আরিফুল ইসলাম পান্ত, রাজবাড়ীর পাংশায় মাসুদুর রহমান, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সবেদ আলী, শরীয়তপুর পৌরসভায় আমির হোসেন, নীলফামারীর জলঢাকায় অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম, পাবনার চাটমোহরে আবু হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় মোঃ মনিরুজ্জামান, বগুড়ার নন্দীগ্রামে একেএম মাহবুবুর রহমান, জয়পুরহাট পৌরসভায় আমেজ উদ্দিন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সাহাদত হোসেন সবুজ, ময়মনসিংহের নান্দাইলে আমরু মিয়া, মুক্তাগাছায় শরিফুল ইসলাম বিপ্লব, টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মোঃ জুলহাস মিয়া, গাজীপুরের শ্রীপুরে আবুল কাশেম, সিলেটের কানাইঘাটে তাজউদ্দীন, কুমিল্লার বরুড়াতে অজিত কুমার দত্ত, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গোলাম মোস্তফা জিন্নাহ, নোয়াখালীর বসুরহাটে ডাঃ মোকাররম বিল্লাহ, সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় নাজমুল ইসলাম মুকুল, সুনামগঞ্জের দিরাইতে মোজাম্মেল হক, রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভায় এমএম জিয়াউল হক এবং পঞ্চগড় পৌরসভায় আব্দুল মজিদ বাবুল।

অন্যদিকে ওয়ার্কার্স পার্টি মোট ৯টি পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীরা হলেন- রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, দুর্গাপুরে শফিকুল ইসলাম, নাটোর পৌরসভায় মাহবুব আলম, গুরুদাসপুরে সুলতান আহমেদ, মৌলভীবাজার পৌরসভায় সনিক চৌধুরী, বরিশালের বানারীপাড়ায় অধ্যাপক মন্টু লাল কু-ু, মুলাদী পৌরসভায় মোঃ সেলিম চৌকিদার, নড়াইল পৌরসভায় পারভেজ আলম বাচ্চু এবং গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় মতিন মোল্লা। তবে ১৪ দলীয় জোটের শরিক সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।

পৌর নির্বাচনে একক প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা দিনরাত দৌড়ঝাঁপ করছেন। শনিবারও ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় বসে কেন্দ্রীয় নেতারা সারাদেশে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাকসহ অন্যান্য নেতারা স্ব স্ব এলাকার বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে দু’জন নেতা জনকণ্ঠকে বলেন, ইতোমধ্যে ৫ বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন। দু’একদিনের মধ্যে আরও বেশ ক’জন বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন।