২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাবির হলের ছাত্রলীগ কর্মীকে তিন তলা থেকে ফেলে দেয়া হলো

  • গুরুতর আহত

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ হলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে বেধড়ক পিটিয়ে তিন তলা থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই ছাত্রের নাম এমএইচ তুষার খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং হল শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক। শুক্রবার রাত সোয়া তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তুষারের মাথা, মেরুদ- ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। একই ঘটনায় আহত দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের হুমায়ুন কবির এবং সঙ্গীত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মাহবুবুল বাশার শুভও চিকিৎসা নিয়েছেন। শনিবার তুষারের সহপাঠীরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, মারধরের পর তাকে তিন তলা থেকে ফেলে দেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রকে হলটির দুই পদপ্রত্যাশী নেতা মাসুদ আলম ও এইচ এম ইমরানের মধ্যে বেশকিছু দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তুষার ছিলেন মাসুদের অনুসারী। ঘটনার দিন কক্ষ দখলের নামে রাত তিনটার সময় মাসুদের আনুসারীদের ওপর ইমরানের কর্মীরা হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আহতদের বেধড়ক পিটিয়ে রুম থেকে বের করে দেয়া হয়। এ সময় কয়েকটি কক্ষের আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়।

ঘটনা তদন্তে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আফতাব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সংঘর্ষে জড়িতদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে সিনিয়র আবাসিক শিক্ষককে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স জনকণ্ঠকে বলেন, ঘটনাটি আমরা খতিয়ে দেখছি। দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রোগ্রামে যেতে দেরি হওয়ায় জিয়া হলের ১০ জনকে মারধোর ॥ প্রোগ্রামে যোগ দিতে দেরি হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ১০ ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করেছেন একই হলের এক ছাত্রলীগ নেতা। শনিবার সকালের এ ঘটনায় আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিন নেতার মাজারে ফুল দিতে যাওয়ার কর্মসূচীতে অংশ নিতে সবাইকে সকাল সাতটার মধ্যে হলের গেস্টরুমে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন জিয়া হলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বনি আমিন মোল্লা। এর আগে হলটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। কয়েকজন দেরি করে কর্মসূচীতে আসায় কর্মসূচীস্থল থেকে হলে ফিরে বনি আমিন মোল্লার নেতৃত্বে হল গেস্টরুমে ১০ জনকে বেধড়ক পেটানো হয়। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভিাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আশিক মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং অজ্ঞান হয়ে যান। তিনি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ ঘটনায় বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আলমগীর, দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের লিটন, ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের জুয়েল, ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ফুয়াদ ও ফিরোজ, আইইআর দ্বিতীয় বর্ষের কামাল, ফিনান্স দ্বিতীয় বর্ষের শাহাদত ও সাগরসহ মোট ১০ জন আহত হন। এরা সবাই জিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মী।

এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে ‘ভারপ্রাপ্ত’ ওই নেতা প্রাথমিকভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কর্মসূচীতে আসতে দেরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে জাস্ট জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আর কিছু না। জুনিয়রদের আমরা আদরও করি আবার শাসনও করি।