২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ট্রাইব্যুনালে ৩২ মামলায় দু’শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার চলছে

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি হবার পর নতুন পুরাতন মিলিয়ে এখন ৩২টি মামলায় প্রায় দু’শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলাগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। ২৮টি মামলা সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটদের মধ্যে বিলিবন্টন করে দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত নতুন যে ৪টি মামলা এসেছে তা প্রসিকিউটরদের মধ্যে বন্টন করা হয়নি। উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ২১টি মামলায় ২৪ জনকে দ- প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনকে মৃত্যুদ-, ১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ-, একজনকে ৯০ বছরের কারাদ- ও ৫ জনকে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মৃত্যুদ- প্রদান করেছে নয়টি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -২ মৃত্যুদ- প্রদান করেছে ৮টি। তদন্ত সংস্থায় এ পর্যন্ত ৩২২৯ আসামির বিরুদ্ধে সর্বমোট ৫৮৫টি অভিযোগ এসেছে। তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে এই ৫৮৫টি অভিযোগ থেকে পর্যায়ক্রমে মামলা তদন্ত করা হচ্ছে।

বর্তমানে যে ৩২টি মামলা আছে তার মধ্যে একটি মামলা প্রায় শেষের দিকে। নেত্রকোনার রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেয়ার জন্য ৪ জানুয়ারি পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সে দিন সাফাই সাক্ষ্য না হলে প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক শুরু করবেন। অন্য মামলাগুলোর মধ্যে কোনটি তদন্তাধীন, ফরমাল চার্জ দাখিলের দিন, অভিযোগ গঠনের অপেক্ষা, গ্রেফতারি পরোয়ানা জরি আবার কোনটার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে মৌলবীবাজারের আলাউদ্দিন চৌধুরী, লালমিয়া, মোঃ মতিন মিয়া, নেত্রকোনার মহসীন হায়দার চৌধুরী, সালামত উল্লাহ খান ওরফে আঞ্জুবর পাচাইয়া রাজাকার, আব্দুল খালেক তালুকদার, আলবদর কমান্ডার সামছুল হক, রাজাকার কমান্ডার নেছার আলী, রাজাকার কমান্ডার ইউনুস মৌলবী, ভালুকাজানের রাজাকার আজিজ হাবলু, রাজাকার আব্দুল মতিন, রাজাকার আজিজ হাবলু, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ফকির, গাইবান্ধার আবু ছালেহ মোঃ আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়া আজিজ, হবিগঞ্জের মহিবুর রহমান বড় মিয়া, ময়মনসিংহের আবুল ফালাহ মুহাম্মদ ফাইজুল্লাহ, হবিগঞ্জের লিয়াকত আলী, ঢাকার সৈয়দ মোহাম্মদ হুসাইন হোসেন, গোপালগঞ্জের এনায়েত মোল্লা, নোয়াখালীর আমির আহম্মেদ ওরফে রাজাকার আমির আলী, পটুয়াখালীর আয়নাল খাঁ, মোঃ আশ্রাব আলী খা, বাহ্মণবাড়িয়ার এমদাদুল হক, যশোরের সাখাওয়াত হোসেন, সাতক্ষীরার আব্দুল খালেক ম-ল, নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী, জামালপুরের আশরাফ হোসেন, কিশোরগঞ্জের এটিএম নাসির, ময়মনসিংহের এম এ হান্নান, শামসুল হোসেন তরফদার, মোঃ এছাহাকা সিকদার সোলায়মান মোল্লা ও আহম্মেদ আলী।

অন্যদিকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের আপীল নিষ্পতিতে এবার জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেমের পালা। ইতোমধ্যে আপীলে ১৭টি মামলার মধ্যে ৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ৪ জনের দ- (কাদের মোল্লা-কামারুজ্জামান-মুজাহিদ-সাকা) কার্যকর করা হয়েছে। দুই জন আসামি (গোলাম আযম- আব্দুল আলীম) মারা যাওয়ায় তাদের আপীল মামলা অকার্যকর হয়েছে। আরও দশটি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে নিজামীর মামলাটির শুনানি চলছে। মীর কাশেমের মামলাটি কয়েকবার কার্যতালিকায় এসেছে। অন্যদিকে ৫টি মামলায় ৬ জন পলাতক থাকায় তাদের দ- বহালই রয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে ৫ বছর ৮ মাসে মোট ২১টি মামলায় ২৪ জনকে দ- প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর মামলা ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হতে পারে। এ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, মামলা যেভাবে চলছে তাতে ডিসেম্বরে আদালত অবকাশে যাওয়ার আগেই নিজামীর মামলার কার্যক্রম শেষ হতে পারে। নিজামীর আপীল মামলার শুনানি চলছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকদিন শুনানি হয়েছে। চলতি সপ্তাহেও হবে। আশা করছি সুপ্রীমকোর্টের অবকাশ শুরু হওয়ার আগে অর্থাৎ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। আসামিপক্ষের পর আমি শুনানি করব। তবে আমি বেশি সময় নেব না। তিনি আরও বলেন, এটা আমার প্রত্যাশা। যদি এর মধ্যে অন্য কোন মামলা এসে যায় তাহলে ভিন্ন কথা।