২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদ্যুত ও জ্বালানি খাত দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী বছর বিদ্যুত এবং জ্বালানি খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিলেন বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। মন্ত্রী নিজেই শনিবার রাজধানীতে এক সেমিনারে বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতের শ্লথগতির জন্য দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে শনিবার সেমস গ্লোবাল ও এ্যানার্জি বাংলা ‘প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুত : দিকনিদের্শনা চায় উদ্যোক্তা’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে। বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর নিজের এলাকা কেরানীগঞ্জে পল্লী বিদ্যুত গ্রাহকদের এক সমাবেশে নসরুল হামিদ জানতে চান কেউ ঘুষ ছাড়া বিদ্যুত সংযোগ পেয়েছেন কি-না? সমাবেশে উপস্থিত সকলে একযোগে হাত উঁচু করে বলেন, ঘুষ ছাড়া সংযোগ পাওয়া যায় না। তখন থেকেই মন্ত্রী বলে আসছেন, সংযোগে ঘুষপন্থা বন্ধ করা হবে। তবে এখনও পল্লী বিদ্যুত থেকে শুরু করে অন্য বিতরণ কোম্পানিতে ঘুষ ছাড়া বিদ্যুত সংযোগ পাওয়া ভাগ্যের বিষয়। একই অবস্থা গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রেও। কার্যত সংযোগ বাণিজ্য বন্ধে প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা ব্যর্থ হয়েছে। সরকার চলতি মেয়াদের মধ্যে সকলের ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এজন্য প্রতি মাসে অন্তত সাড়ে তিন লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হচ্ছে। গ্রামে সাধারণত গৃহস্থালি গ্রাহকদের সংযোগপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। শহর এলাকায় বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানিতে এই ঘুষের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি। সরল হিসাবে প্রতি সংযোগে পাঁচ হাজার টাকা করে ঘুষ নেয়া হলে প্রতি মাসে অন্তত ১৭৫ কোটি টাকা গ্রাহকের পকেট থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে চলে যাচ্ছে। জেলা পর্যায়ে আবার এই ঘুষ লেনদেনের জন্য দালাল শ্রেণী গড়ে উঠেছে।

প্রতিমন্ত্রী সেমিনারে বলেন, বিদ্যুত খাতে দুর্নীতি আছে। গ্রামে বিদ্যুত সংযোগের ক্ষেত্রে বেশি দুর্নীতি হয়। তবে এ দুর্নীতি আর থাকবে না। একেবারে দুর্নীতিমুক্ত কোথাও করা সম্ভব নয়। সব ডিজিটাল করা হচ্ছে। তখন দুর্নীতি কমে যাবে। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে ডেঞ্জার পয়েন্টে আছি। তবে হতাশার কিছু নেই। যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে জ্বালানি ঘাটতি থাকবে না। কাজ শুরু হয়েছে। ফল পেতে কয়েক বছর লাগবে।

সেমিনারে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা একেএম ফজলে কিবরিয়া দাবি করেন, সিলেট ও মৌলভীবাজারে ইউরেনিয়াম খনির সন্ধান পেয়েছেন তারা। তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব খনি থেকে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করা হয়, সেগুলোতে ৩০০ থেকে এক হাজার পিপিএম মাত্রায় ইউরেনিয়াম রয়েছে। আর আমাদের সিলেট ও মৌলভীবাজারে রয়েছে ৫০০ পিপিএম মাত্রার ইউরেনিয়াম। সে হিসাবে অনেক সম্ভাবনাময় বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে ৬০-এর দশক থেকে বাংলাদেশে ইউরোনিয়াম খনি থাকার কথা বলা হলেও এখনও তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন লাভজনক কি-না তা কেউ বলতে পারছেন না। এর আগে জিএসবি দেশে ইউরেনিয়াম খনি থাকার কথা বললেও বণিজ্যিকভাবে উৎপাদন লাভজনক কি-না তা বের করতে পারেনি।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন। সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ম. তামিম, এ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউকে ভট্টাচার্য, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, ক্যাবের উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মকবুল ই এলাহী। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সেমস গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট মেহেরুন এন ইসলাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এ্যানার্জি বাংলার সম্পাদক রফিকুল বাসার।

মূল প্রকন্ধে ড. ইজাজ হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ বিদ্যুতকেন্দ্র, সার-কারখানা, শিল্প-কারখানা জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অদক্ষ। এক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করা গেলে জ্বালানি সাশ্রয় করা যাবে। গত কয়েক বছরে নতুন করে কোন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বর্তমানে যে মজুদ আছে তা দিয়ে ৫০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানির চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ঘাটতি পূরণ করতে বিকল্প জ্বালানি আমদানি করতে হবে। তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে শিল্পে গ্যাসের চাহিদা পূরণ করা যায়। কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন করে বিদ্যুত উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব।