২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্থিতিশীল অর্থনীতির জন্য শক্তিশালী পুঁজিবাজার জরুরী

  • ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের ফ্ল্যাট ক্রয়ে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর প্রতি গবর্নরের আহ্বান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, একটি স্থিতিশীল অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার খুবই জরুরী। আমি সব সময় একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের পক্ষে ছিলাম। পরিস্থিতির কারণে কখনও কখনও আমাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ২০১০ সালে পুঁজিবাজার যেভাবে উন্মাদের মতো এগোচ্ছিল, সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে দেশের ৮-১০টি ব্যাংক পড়ে যেত। ওই সময় কঠোর হয়ে পুঁজিবাজারকে যেমন বাঁচানো গেছে, তেমনি মুদ্রাবাজারকে রক্ষা করা গেছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সেন্টার ফর অনাবাসী বাংলাদেশী (এনআরবি) আয়োজিত ‘পুঁজিবাজার ও আবাসন খাতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিনিয়োগ’ শীর্ষক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকরা দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোর সহায়তায় যাতে নিরাপদভাবে ফ্ল্যাট ক্রয় করতে পারেন সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কাজ করার আহ্বান জানান গবর্নর।

সেন্টার ফর এনআরবির সভাপতি এমএস সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, বর্তমান জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য পারভেজ ইকবাল, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান, আহসানুল ইসলাম টিটু, সাবেক সহ-সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী, মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুরুল আমিন, ঢাকা চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ প্রমুখ।

ড. আতিউর রহমান বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে অনেকে অনেক কিছু ভেবেছেন, অনেকে অনেক কথা আমার সম্পর্কে বলেছেন। কিন্তু সন্তান যখন অবাধ্য হয়ে যায়, তখন মাঝেমধ্যে শক্তিশালী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেই শক্তিশালী সিদ্ধান্ত নিয়েই আমি শুধু পুঁজিবাজার নয়, মুদ্রাবাজারকেও বাঁচিয়েছি। অনেকদিন পর এসে আজ এ কথা বলতে পারি। গবর্নর আরও বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, সরকারসহ সবার সম্মিলিত চেষ্টায় এখন বাজার একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে। বাজার এখন অত্যন্ত শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে। আগামী দিনে তা আরও ভাল করবে।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ (এক্সপোজার) বিষয়ে গবর্নর বলেন, পুঁজিবাজারে যেসব ব্যাংকের সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছিল, সেসব ব্যাংক নিজেদের প্রয়োজনে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ইতোমধ্যে প্রায় সমন্বয় করে ফেলেছে। মাত্র কয়েকটি ব্যাংক এখনও সমন্বয় করে উঠতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারাও সমন্বয় করে ফেলতে পারবে।

আতিউর রহমান বলেন, প্রবাসীরা এনআরটিএ (প্রবাসীদের হিসাব) এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ব্যাংকের মাধ্যমে ফ্ল্যাট কেনার জন্য আবেদন করতে পারে, যেখানে ব্যাংক তাদের সকল প্রকার গ্যারান্টি দেবে। ব্যাংক বিভিন্ন ভালমানের রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে নিজেরাই গ্যারান্টার হয়ে প্রবাসীদের ফ্ল্যাট কিনতে সহযোগিতা করবে। এতে করে প্রবাসীদের প্রতারিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রবাসীরা দেশে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ও জাল-জালিয়াতির শিকার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই প্রবাসীরা যাতে বিনিয়োগবিমুখ না হয়, সেজন্য ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের কাজ করার আহ্বান জানান গবর্নর। তিনি বলেন, রিহ্যাবকে (আবাসন খাতের সংগঠন) তাদের আচরণ (একজনের ফ্ল্যাট আরেকজনের কাছে বিক্রি করার মতো জালিয়াতি) বদলানোর জন্য অনুরোধ করেন। তাদের অবস্থানকে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে লিডারশিপের ভূমিকায় আসতে বলেন। আর প্রবাসীরা পাসপোর্ট থেকে শুরু করে তাদের সব ধরনের ডকুমেন্ট ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রেরণ করে এ্যাকাউন্ট (ব্যাংক হিসাব) খুলতে পারবেন বলেও জানান আতিউর রহমান। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো টাকা নিয়ে যদি কোন ব্যাংক প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে তবে তাদের ছাড় দেয়া হবে না বলে সতর্ক করে দেন ব্যাংকগুলোকে। সরকারের সহযোগিতা পেলে প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পেনশন স্কিমের ব্যবস্থা করতে চায়। দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে প্রবাসীদের বেশি বেশি পুঁজিবাজার ও আবাসন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান গবর্নর।

অনুষ্ঠানে এনআরবি সেন্টারের চেয়ারম্যান শাকিল চৌধুরী এ দেশে বিনিয়োগে প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার কথা তুলে ধরে জানান, ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ চুরি করা হয়, যা একটি বড় সমস্যা। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক্ষেত্রে সহযোগিতা করে কিন্তু এটা অনেক সময়সাপেক্ষ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। রাজউকের কিছু কর্মকর্তা ১৫-১৬ বছর আগে বরাদ্দ দেয়া ফ্ল্যাটের কাগজপত্র গায়েব করে, মূল ভলিউম থেকে তথ্য নষ্ট করে যদি নতুন করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয় তবে কিভাবে প্রবাসীরা আবাসন খাতে বিনিয়োগে আসবে। স্বয়ং রাজউক যদি এ ধরনের কাজে জড়িত থাকে তাহলে তো বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে বলে জানান তিনি।