২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সব কারখানায় অগ্নি ও বৈদ্যুতিক ত্রুটি রয়েছে ॥ এ্যালায়েন্স

  • সোমবার থেকে ‘ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক তৃতীয় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী’

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ উত্তর আমেরিকান বায়ার ও ব্র্যান্ডের জোট এ্যালায়েন্সের জন্য পণ্য প্রস্তুতকারী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর অগ্নি ও বৈদ্যুতিক ত্রুটি রয়েছে। শুধু এই ত্রুটি সারাতেই ন্যূনতম আড়াই লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। তবে ভবনের নির্মাণ ত্রুটি বা অন্য কোন ত্রুটি থাকলে এ খরচ প্রায় ২৫ লাখ ডলারে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছেন উত্তর আমেরিকান ক্রেতা জোট এ্যালয়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ রবীন।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে এ্যালয়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। আগামীকাল সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে হতে যাওয়া তিন দিনব্যাপী ‘ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক তৃতীয় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী’ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই প্রদশর্নীর আয়োজন করছে এ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান এলিভেট প্রাইভেট লিমিটেড।

মেসবাহ রবীন জানান, ইতোমধ্যে এ্যালায়েন্স তাদের জোটের জন্য পণ্য প্রস্তুতকারী ৮৩৭টি কারখানা পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে। যাদের সবটির মধ্যেই অগ্নি ও বৈদ্যুতিক ত্রুটি রয়েছে। এ ত্রুটি সারাতে কেমন খরচ হবে- জানতে চাইলে উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যদি কোন কারখানা ৪ থেকে ৬ তলা হয়। এতে ১ হাজার শ্রমিক কাজ করে। ভবনটির বয়স ১৮ থেকে ২০ বছর হয় এবং অন্য কোন ত্রুটি না থাকে, এর সংস্কারে কমপক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যয় করতে হবে। এর সাথে ভবন পুরাতন হলে বা ভবনের নির্মাণ ত্রুটিসহ অন্য কোন ত্রুটি থাকলে সংস্কার ব্যয় ১০ গুণ বেড়ে যাবে।’

এ্যালায়েন্সের পরিদর্শন করা কারখানাগুলোর সংস্কার কাজে ব্র্যান্ডগুলোর ঋণসহায়তাদানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এ্যালয়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সংস্কার ব্যয় মূলত কারখানা মালিককেই করতে হবে। বাংলাদেশের ৫টি বেসরকারী ব্যাংকের মাধ্যমে আইএফসি (ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন) স্বল্প সুদে ঋণ দিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। তবে আইএফসির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির পর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই অর্থ ছাড় হয়। বিদেশী মুদ্রা দেশে ঋণ হিসেবে আসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিনিয়োগ বোর্ডের নানামুখী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ইতোমধ্যে ৩টি কারখানা ঋণের টাকা পেয়েছে। এজন্য তাদের সময় লেগেছে প্রায় ১৬ মাস। আরও ২৮টি এ্যাকর্ড ও এ্যালায়েন্সের মাধ্যমে ২৮টি কারখানা ঋণের জন্য আবেদন করেছে। তাদের অর্থছাড়ের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ২০১৭ সালের শেষনাগাদ এ্যালায়েন্সভুক্ত কারখানাগুলোর সংস্কার প্রক্রিয়ার ভাল অগ্রগতির প্রতিবেদন দেয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মেসবাহ রবীন।

তিনি বলেন, তিন দিনের প্রদর্শনীতে দেশী-বিদেশী ৩৬টি অগ্নি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

পোশাক কারখানায় সংস্কার কাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এসব সরঞ্জাম (ফায়ার ডোর, হাইড্রেন্ট, ফায়ার পাম্প, ¯িপ্রঙ্কলার, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার এ্যালার্ম, ডিটেকশন, প্রটেকশন যন্ত্র) প্রদর্শন করা হবে।