২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশ থেকে লবণ আমদানিতে মেতেছে অসাধু চক্র

  • কক্সবাজারে ৬৫ হাজার একর জমিতে ১৯ লাখ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ গত বছরের বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এবার চকরিয়াসহ কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীর আংশিক মিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে ১৯ লাখ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনে নেমেছে চাষীরা। গত নবেম্বর থেকে উপকূলের বেশিরভাগ এলাকায় লবণ চাষ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মোকামে নতুন লবণ উৎপন্নও হচ্ছে। স্থানীয় চাষী ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, চলতি মৌসুমের লবণ উৎপাদনের শুরুতে রাজধানী ঢাকায় বসে সেই অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ফের বিদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানি করতে বিভিন্নভাবে তোড়জোড় শুরু করছে। গত বুধবার ঢাকায় লবণ আমদানির বিষয়টি নিয়ে ট্যারিফ কমিশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা ভারত থেকে ফের লবণ আমদানির জন্য বিষয়টি সিন্ডিকেট সদস্যরা বাণিজ্য মন্ত্রাণালয়কে অবগত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লবণ আমদানির এ খবর মাঠপর্যায়ে চাষীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ লবণ শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) ও স্থানীয় চাষীদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীর (আংশিক) ১৩টি কেন্দ্রের অধীনে প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে গেল নবেম্বর মাস থেকে লবণ চাষে নেমেছে চাষীরা। বিসিক এবার ১৯ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ২২ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয় চাষী ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, অন্য বছরের তুলনায় এবার লবণ উৎপাদনে প্রায় এক মাস আগে চাষীরা নামার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হতে পারে।

সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ১৩টি কেন্দ্রের অধীনে প্রায় ৬৪ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। তারমধ্যে চকরিয়ার দরবেশকাটা কেন্দ্রে (পেকুয়াসহ) ১২ হাজার ৩৭৫ একর, ডুলাহাজারা কেন্দ্রে ৪৭৫ একর, খুটাখালী ফুলছড়ি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৩৭৬ একর, কুতুবদিয়া লেমশীখালী কেন্দ্রে ৬ হাজার ৪৪৪ একর, মহেশখালী উত্তর নরবিলা কেন্দ্রে ৭ হাজার ৪শ’ একর, গোরকঘাটা কেন্দ্রে ৮ হাজার ৫৭৭ একর, মাতারবাড়ি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৮০৬ একর, কক্সবাজার সদরের গোমাতলী কেন্দ্রে ৪ হাজার এক একর, চৌফলদ-ি কেন্দ্রে ৩ হাজার ২শ’ একর, বাঁশখালী সরল কেন্দ্রে ১ হাজার ৪২১ একর, পূর্ব বড়ঘোনা কেন্দ্রে ৬ হাজার ৯০ একর, টেকনাফে ৩ হাজার ৯শ’ একর ও বিসিকের প্রদর্শনী কেন্দ্রে ৮৬ একর জমিতে পলিথিন ও সনাতন পদ্ধতিতে লবণ চাষ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দরবেশকাটা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও আর্থিক ক্ষতিসাধন অতিক্রম করে চলতি মৌসুমে চাষীরা লবণ উৎপাদনে নেমেছে। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় নতুন লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক চাষী উৎপাদিত লবণ মোকামে পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, এবার চকরিয়া ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী মিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে অতিরিক্ত লবণ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমের লবণ উৎপাদনের শুরুতে ঢাকায় বসে একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ফের বিদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানি করতে বিভিন্নভাবে তোড়জোড় করছে।