২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘দেশে কুকুর-বিড়ালের ৮০ ভাগ বেওয়ারিশ-রোগব্যাধির ধারক’

শেকৃবি সংবাদদাতা ॥ দেশে কুকুর-বিড়ালের মোট সংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি বেওয়ারিশ। প্রাণীবাহী বিভিন্ন রোগব্যাধির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে এসব প্রাণী। বেওয়ারিশ পথচারী প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি রোধকল্পে বিকল্প ব্যবস্থাসমূহ ‘খোঁজাকরণ’ ও ‘বন্ধ্যত্বকরণ’-এর ওপর গুরুত্বারোপ করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশে পথচারী প্রাণীর বর্তমান অবস্থান এবং দেশের সমাজ ও জনস্বাস্থ্যে তাদের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা ঢাকাসহ সারাদেশে এসব প্রাণীর সংরক্ষণ, নিরাপদ বাসস্থান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যথাযথ কাজে ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে সরকারসহ দেশের বেসরকারী বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শনিবার সন্ধ্যায় কৃষি অনুষদের সেমিনার কক্ষে শুরু হয় ‘বাংলাদেশের সমাজ ও জনস্বাস্থ্যে বেওয়ারিশ পথচারী প্রাণীর গুরুত্ব’ শীর্ষক সিম্পোজিয়াম। প্রাণী কল্যাণ বিষয়ক সংগঠন ‘কেয়ার ফর পজ’-এর সহযোগিতায় শেকৃবির মেডিসিন এ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগ যৌথভাবে সিম্পোজিয়ামটির আয়োজন করে। এনিম্যাল সায়েন্স এ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ মোফাজ্জল হোসাইনের সভাপতিত্বে সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ শাদাত উল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ হযরত আলী, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনিম্যাল সায়েন্স এ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন এবং সাউরেস পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল হক বেগ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিকাদান কর্মসূচী ও সিম্পোজিয়াম সমন্বয়ক মেডিসিন এ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কেবিএম সাইফুল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধে ড. কেবিএম সাইফুল ইসলাম জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ কুকুর-বিড়াল আর এই কুকুর-বিড়ালের শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি বেওয়ারিশ পথচারী। বাংলাদেশে বেওয়ারিশ কুকুর-বিড়ালের সঠিক কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও এর সংখ্যা কুকুর-বিড়ালের মোট সংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি বেওয়ারিশ বলে ধারণা করা হয়। বেওয়ারিশ পথচারী প্রাণী প্রাণীবাহী বিভিন্ন রোগব্যাধির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে বিধায় বাংলাদেশের সমাজ ও জনস্বাস্থ্যে এদের গুরুত্ব অপরিসীম। সামাজিক ও জনস্বাস্থ্যে গুরুত্ব বিবেচনায় এসব বেওয়ারিশ পথচারী প্রাণীর সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হলেও বেওয়ারিশ পথচারী প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি রোধকল্পে বিকল্প ব্যবস্থাসমূহ খোঁজাকরণ ও বন্ধ্যত্বকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ শাদাত উল্লা বলেন, রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে এবং টিকটিকি, গিরগিটি ও ইঁদুরসহ আরও কিছু ক্ষতিকর প্রাণী দমনে কুকুর-বিড়ালে জুড়ি নেই। এমনকি রাত্রিকালীন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বদা সজাগ থেকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হলে এসব প্রাণী সমাজ ও জনস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে শাদাত উল্লা জানান।