২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অতিথি পাখির কলতান

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাকৃতিক সৌন্দর্র্যের লীলাভূমি হিসেবে খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এই সবুজ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায় যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল শাপলাশোভিত লেকগুলো অতিথি পাখিতে ভরে ওঠে। শীতের শুরুতেই প্রতিবারের মতো এবারও আগমন ঘটছে অতিথি পাখির। শীতের বার্তা নিয়ে আসা অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ নৈসর্গিক ক্যাম্পাসে কুয়াশায় ঘেরা জগতের মাঝে শিক্ষার্থীদের পদচারণার সঙ্গে তাল রেখে মুখর হয়ে ওঠে অতিথি পাখিরাও। সগৌরবে জানান দেয়, অতিথি হলেও চিরচেনা এই্ সবুজের বুকে আমরা বুনো ছন্দ জাগাতে ফিরে এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয় লেক আর জঙ্গলগুলোতে চলে তাদের অহর্নিশি খুনসুটি। ক্যাম্পাসবাসীর ঘুম ভাঙানির দায়িত্ব এখন যেন তাদের কাঁধে বর্তেছে। আর এ দৃশ্য দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

শীত আর অতিথি পাখি এই শব্দ দুটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিবছর উত্তরের শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, সিনচিয়াং ও ভারত থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশের যে কয়েকটি স্থানে অতিথি পাখিরা অবস্থান নেয় তার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। বাংলাদেশে আসা পাখির এক-চতুর্থাংশ অবস্থান নেয় জাহাঙ্গীরনগরে। অতিথি পাখিরা নবেম্বর মাসের শুরুর দিকে ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে, এরা সাধারণত নবেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ক্যাম্পাসের লেকগুলো মুখর করে রাখে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব পরিব্রাজক পাখিদের মধ্যে রয়েছে ফ্লাইপেচার, গার্গেনি, সরালি, পচার্ড, ছোট জিড়িয়া, লালমুড়ি, বামুনিয়া হাস, মুরহেন, খঞ্জনা, পিনটেইল, নাকতা, জলপিপি, চিতাটুপি, পাতারি, ছোট নগ, লাল গুরগুটি, কোম্বডাক, বেলেহাস, পানকৌরিসহ ভিনদেশী বক।

বাংলাদেশের মধ্যে জাবি ক্যাম্পাসে তুলনামূলক বেশি শীত হলেও তা উপেক্ষা করেই দেশের দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই অতিথি পাখি দেখতে দর্শনার্থী ও পর্যটক আসছে। এ বছরও অতিথি পাখিদের উচ্ছ্বাস দেখতে ক্যাম্পাসে পর্যটকদের ভিড় বেড়ে গেছে। বিদেশী পর্যটকদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে হাসছে লাল শাপলা। আর লাল শাপলাগুলোর ফাঁকে ফাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে অতিথি পাখিরা। পাখিদের সারাদিন অবিরাম ক্যাম্পাসজুড়ে উড়ে বেড়ানো আর লেকের পানিতে খুনসুটি খুবই উপভোগ্য হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে। অবিরত ডুবসাঁতার পাখিপ্রেমীদের আরও পুলকিত করে বার বার। ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ করে শুক্রবার দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। লেকে ফুটে থাকা লাল শাপলা আর পাখির সৌন্দর্য তাদের মন ভরিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭টি লেক থাকলেও পাখিরা সাধারণত রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক এবং পরিবহন চত্বরের পাশের লেকে অবস্থান নেয়। প্রতিবছর শীতের শুরুতে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে পরিব্রাজক পাখি আসলেও এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অমনোযোগিতার কারণে পাখিদের আনাগোনা কম চোখে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ, কচুরিপানার আধিক্য, লেক সংরক্ষণে প্রশাসনের অবহেলা প্রভৃতি পাখি কম আসার মূল কারণ। অন্যান্য বছর শীতের শুরুতেই লেকগুলো অতিথি পাখিদের অবস্থানের জন্য প্রস্তুত করা হলেও এ বছর প্রশাসনের এমন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

দীপঙ্কর দাস

ছবি : মাহবুব রিনাদ

নির্বাচিত সংবাদ