১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএস অনুগত

  • ক্যালিফোর্নিয়া হত্যাকা-ে অংশ নেয়া তাশফিনের ফেসবুক বার্তা

ক্যালিফোর্নিয়া হত্যাকাণ্ড সন্ত্রাসী কাজ ছিল কি না তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে, শুক্রবার এফবিআই একথা জানিয়েছে। হামলায় অংশ নেয়া দুজনের একজন ছিলেন নারী। ইতোমধ্যে খবর পাওয়া গেছে ওই নারী ফেসবুকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস বা আইসিস) প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। আইএস দাবি করেছে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীলরা বুধবারের হামলাটি চালিয়েছে।

সান বারন্রাডিনো ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারের একটি বার্ষিক অফিসিয়াল পার্টি চলাকালে বুধবারের ওই বন্দুক হামলায় ১৪ জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন। ২০১২ সালের নিউটন স্কুলে সংগঠিত হত্যাকা-ের পর এটি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হত্যাকা-। এ হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সৈয়দ ফারুক (২৮) ও তার পাকিস্তানী স্ত্রী তাশফিন মালিক (২৭) নিহত হন। হত্যাকা-ের আসল কারণ কি ছিল তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। ঘটনার পর দুদিন পেরিয়ে গেলেও কাজটি সন্ত্রাসী হামলা না একটি সাধারণ বন্দুক হামলা তা নিয়ে এফবিআই কর্মকর্তাদের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এফবিআইয়ের লস এ্যাঞ্জেলেস অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডেভিড বাউডিচ বলেন, ‘হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে অনেক তথ্য আমরা জানতে পেরেছি। যেসব প্রমাণ বা আলামত পাওয়া গেছে তা থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে এটি সন্ত্রাসী কাজ বলেই মনে হচ্ছে।’ তিনি জানান, তদন্তকারীরা তাশফিনের পোস্ট করা ফেসবুক বার্তাগুলো পরীক্ষা করে দেখছেন। বুধবারের হামলার অল্প কয়েকদিন আগেই তাশফিন আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পায় এরকম কথাবার্তা ফেসবুকে লিখেছিলেন।

তাশফিন যে ভাষায় কথাগুলো লিখেছিলেন তাকে বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ হিসেবেই দেখছেন বাউডিচ। বুধবার গুলি চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যার পর বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ফারুক। এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কামি অবশ্য বলেছেন যে, হামলাকারী দম্পতি কোন বৈদেশিক সন্ত্রাসী গ্রুপের ভাবধারায় প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে।

তবে তারা এরকম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল তেমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাউডিচ বলেছেন, কেন তারা গুলি চালিয়ে এতগুলো লোক হত্যা করল সেটি ওই দম্পতির ঘরের জিনিসপত্র পরীক্ষা করে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, হামলাকারী দুজন নিজেদের আঙ্গুলের ছাপ লুকানোর চেষ্টা করে গেছে। তাদের মোবাইল ফোনগুলো একদম ভগ্নদশা অবস্থায় ডাস্টবিনের কাছে পাওয়া গেছে। আইএসপন্থী সংবাদ সংস্থা আমাক শুক্রবার জানিয়েছে, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীলরা বুধবারের হামলাটি চালিয়েছে।

আইএসপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে বা বাইরে যে কোন জায়গায় এ ধরনের হামল চালাতে উৎসাহ যুগিয়ে থাকে। এফবিআইয়ের কাছে এখন বিবেচ্য বিষয় হলো তাশফিন কি নিজে থেকে আইএসের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন না এর জন্য কেউ তাকে পেছন থেকে উৎসাহ যুগিয়েছিল। ফারুক ও তাশফিনের আত্মীয় স্বজনরা অবশ্য কীভাবে তারা এমন কাজ করল সে ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, যাদের একটি শিশু কন্যা আছে এবং খুব সাধারণ জীবন যাপন করে তারা কিভাবে এমন রক্তপাত ঘটাল সেটি তার বুঝতে পারছেন না। ফারুকের বোন সায়রা খান সিবিএস নিউজকে বলেছেন, ‘আমার ভাই ও ভাবি কিভাবে এটি করতে পারল তা আমার বোধগম্য নয়। তারা ছিল সুখী দম্পতি এবং তাদের ছয় মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তারা এমন কিছু করতে পারে এটি আমার চিন্তারও বাইরে।’ তাদের পারিবারিক আইনজীবী জানিয়েছেন, এই দম্পতি ধর্ম পালন করতেন তবে তারা জঙ্গী বা চরমপন্থী ছিলেন না। -ওয়াশিংটন পোস্ট ও এএফপি।