২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে দুটি সরকারী কলেজে অনিয়ম ॥ আজ সড়ক অবরোধ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে সরকারী মহিলা কলেজ ও সরকারী সিটি কলেজের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এ দুটি সরকারী কলেজে পরিপূর্ণভাবে স্নাতক পাস কোর্সের নির্বাচনী পরীক্ষা না নিয়ে ফল প্রকাশ করার অভিযোগ উঠেছে। এ দুটি কলেজে পরীক্ষায় ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রতি বিষয়ে দেড় শ’ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করার ঘোষণা দেয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। আজ সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে দুটি কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের অনিয়ম বন্ধের কর্মসূচী হাতে নিয়েছে বলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত মাসের শেষ সপ্তাহে স্নাতক পাস কোর্সের শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয় আকস্মিকভাবে। মাত্র দুয়েকদিনের নোটিসেই এ ধরনের পরীক্ষা নেয়ার পদক্ষেপ নেয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার সময় ছিল দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা চলাকালীন একঘণ্টা পার হওয়ার আগেই কর্তব্যরত শিক্ষকরা খাতা ফেরত দেয়ার জন্য চাপাচাপি করত। প্রথম দিনের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষায় আসার সময় ভর্তির সিøপ নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী পরীক্ষায় যারা ভর্তির সিøপ দিতে পারেনি তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়াও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকটি পরীক্ষায় একঘণ্টা পর দায়িত্বরত শিক্ষক খাতা নিয়ে শ্রেণী কক্ষ থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শনি ও রবিবার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক পাস কোর্সের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের ফরম পূরণের অর্থ আদায়ের জন্য সোনালী সেবা সিøপ প্রদানের কথা ছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে প্রকাশিত ফল নোটিস বোর্ডে প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল অবলম্বন করে হিসাব বিভাগ। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও অকৃতকার্যের বিষয়টি চক্রান্তের শিকার বলে অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ তা কানে তোলেনি। বরং যেসব শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে তাদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের পর হিসাব বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এসব শিক্ষার্থীকে সোনালী সেবা সিøপ প্রদান না করায় চূড়ান্ত পরীক্ষার ফি জমা দিতে পারেনি। আজ রবিবার দ্বিতীয় দফায় তৃতীয় শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি জমা দেয়ার নির্ধারিত দিন ধার্য রয়েছে। এক্ষেত্রে আগেভাগেই কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে যেসব শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে তাদের কাছ থেকে প্রতি বিষয়ে দেড় শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হবে। এদিকে, সোনালী সেবা সিøপের অর্থ সরকারী ব্যাংকে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা আদায় করা হচ্ছে আরব বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংকের খুলশী শাখায়।

এদিকে, সরকারী সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনঘণ্টায় চারটি বিষয়ের নির্বাচনী পরীক্ষা নেয়া হয়েছে প্রতিদিন। তুঘলকিভাবে মাত্র দুদিনের মধ্যেই নির্বাচনী পরীক্ষা শেষ করা হয়েছে গত ৩০ নবেম্বরের মধ্যে। এক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ের ওপর ১৩০ টাকা করে জরিমানা আদায় করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার নির্ধারিত ফি ব্যতিত কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪৫০ টাকা করে আদায়ের নোটিস দিয়েছে। তবে ছাত্রলীগ অধ্যুষিত এ কলেজের শিক্ষার্থীরা জরিমানার অর্থ মওকুফ চাইলেও শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ছাত্র সংসদের নেতারা নিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তাদের কিছুই করার নেই। অপরদিকে, ছাত্র সংসদের নেতারা বলছেন, এ ধরনের কোন প্রস্তাবনা অধ্যক্ষকে বা কোন শিক্ষককে দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও গণসংযোগ দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ফয়জুল করিম জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে অনেক লিখিত অভিযোগ রয়েছে। সে অনুযায়ী ওই সকল সরকারী কলেজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। কারণ, সরকারী কলেজগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি মানতে নারাজ।

যশোরের তিন স্কুলকে ফেরতের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার যশোর অফিস থেকে জানান, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে বাড়তি টাকা নেয়ায় যশোর সদর ও বাঘারপাড়ার তিনটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে টাকা ফেরতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ২ ডিসেম্বর এ নির্দেশ দিয়েছে যশোর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। বিদ্যালয় তিনটি হচ্ছে, সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা প্রগতি বালিকা বিদ্যালয়, বসুন্দিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজ ও বাঘারপাড়ার গাইদঘাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

সূত্র জানায়, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয় যশোরের অধিকাংশ স্কুল। তবে এ বিষয়ে বসুন্দিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসক, শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা বোর্ডে স্মারকলিপি প্রদান করে। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কাজ শুরু করে শিক্ষা বোর্ড জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। তদন্তে তিনটি স্কুলের বিরুদ্ধে টাকা বেশি নেয়ার সত্যতা পায় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

এ কারণে ওই তিনটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মৌখিকভাবে টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন। এদিকে, শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধক চন্দ্র রুদ্র জানান, এসএসসির ফরম পূরণে বেশি টাকা নেয়ার বিষয়ে তদন্ত করছেন ১০ জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। সেই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৮ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত বিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।