১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক দিয়ে টেস্ট, আল-রাজী হাসপাতালের জরিমানা

  • আরেকজনের কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় মেডিক্যাল রিপোর্টÑ এমন অভিযোগে ফার্মগেটের আল-রাজী হাসপাতালকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে আল-রাজী হাসপাতাল ও আল ফাতেহ মেডিক্যাল সার্ভিসেস সেন্টারে অভিযান চালানোর পর এ জরিমানা করেন। এছাড়া আল ফাতেহ মেডিক্যাল সেন্টারের ব্যবস্থাপক মোঃ দিদারুল ইসলামকে দেয়া হয়েছে ছয় মাসের কারাদ-।

অভিযানের সময় তিনি দেখতে পান হেপাটাইটিসের মতো রোগ নির্ণয়ে ব্যবহার করা রাসায়নিক উপাদান রিয়াজেন্টের মেয়াদ চলে গেছে সেই ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে। তারপরও মেয়াদোত্তীর্ণ রিয়াজেন্ট দিয়েই হাসপাতালের বিভিন্ন রোগীর মেডিক্যাল রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছিল।

এ সময় প্যাথলজি ল্যাবরেটরি তল্লাশি করে এ রকম আরও বেশকিছু রোগ নির্ণয়কারী রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায়Ñ যেগুলো ৬-৮ মাস আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেনÑ হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে পুরাতন রক্তের দাগ লাগানো কয়েকটি ইট ও বালির প্যাকেট। দেয়ালের প্লাস্টার ধসে পড়ছে নিচে। সেখানেই ময়লাযুক্ত বিভিন্ন কাপড় চোপড়। অপারেশন থিয়েটারে পাশে ড্রেসিং রুমে প্রচুর ধুলো বালিযুক্ত জিনিসপত্র, যা অপারেশনকৃত রোগীর জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ হয়। এছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ডে নাম টানিয়ে রেখেছেন-দুই বৎসর আগে প্রয়াত চিকিৎসক ডাঃ খোরশেদ আলমের নাম। এসব বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন সদোত্তর দিতে পারেননি। আদালত এ সমস্ত অপরাধের কারণে হাসপাতালটিকে ছয় লাখ টাকা অর্থদ- আরোপ করেন এবং নাম ফলকের বোর্ড থেকে মৃত চিকিৎসকের নাম নামানোর নির্দেশ দেন।

একই সময় পাশের আল-ফাতেহ মেডিক্যাল সার্ভিসেস সেন্টারেও অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সে সময় সেখানে কোন চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিসিয়ানকে পাওয়া যায়নি। ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম প্যাথলজি শাখায় তৈরি করা বিভিন্ন মেডিক্যাল রিপোর্ট পরীক্ষা করে দেখেন সেগুলোতে এমন এক ডাক্তারের স্বাক্ষর রয়েছে যিনি গত দশ দিনেও সেখানে যাননি। এতে রিপোর্টগুলো নকল বলে প্রমাণিত হয়। এ ধরনের ৫২টি মেডিক্যাল রিপোর্ট জব্দ করা হয়। এ অপরাধের কারণে আল ফাতেহ মেডিক্যাল সেন্টারের ব্যবস্থাপক মোঃ দিদারুল ইসলামকে ছয় মাসের কারাদ- দেয় হয়েছে।