২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাশ কাটিয়ে গেজেট জারির উদ্যোগ!

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাশ কাটিয়ে গেজেট জারির উদ্যোগ!
  • কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগের বিতর্কিত ধাঁচেই পে-স্কেলের গেজেট তৈরির অভিযোগ

তপন বিশ্বাস ॥ অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ধামাচাপা দিয়ে আগের বিতর্কিত ধাঁচে ৮ম পে-স্কেলের গেজেট জারির উদ্যোগ চলছে। গেজেট জারির লক্ষ্যে শনিবার সচিবালয়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয় খোলাও রাখা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা সরকারকে আবারও বেকায়দায় ফেলতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জনকণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন বাদ দিয়ে গেজেট জারি হতে পারে না। যদি কেউ বলে থাকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত সারসংক্ষেপ বাদ দিয়ে অন্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট জারি হচ্ছে, তা হলে তা ভিত্তিহীন তথ্য।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে ২২ নবেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৮ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠান। প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে এটি অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত এই বেতন স্কেল ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন। অনুমোদিত স্কেলটি না পাঠিয়ে আগের বিতর্কিত স্কেল ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে চাপপ্রয়োগ করেন উত্তরা ষড়যন্ত্রের অন্যতম সদস্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এবং এ অপতৎপরতায় যুক্ত থাকা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা। ভেটিংয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ এক কর্মকর্তাকে অতিউৎসাহী হতে দেখা গেছে। তারা শনিবার রাতে অফিস বসিয়ে দুই সপ্তাহ আগে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো (পুরনো এবং বিতর্কিত) সুপারিশের ভেটিং করে রবিবার তা মন্ত্রীর স্বাক্ষরের জন্য পাঠায়। কিন্তু আইনমন্ত্রী তাতে স্বাক্ষর করেননি বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, মন্ত্রণালয়ে ভেটিং চলছে। ভেটিংয়ে যে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে তা প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ অনুমোদিতটি কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখনও ফাইলটি আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি। হাতে না এলে বলতে পারব না।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ অনুমোদন পাশ কাটিয়ে গেজেট জারি হতে যাচ্ছে- এমন খবরে বিভিন্ন কাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় প্রকৃচি বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতারা অর্থ সচিবের সঙ্গে দেখা করেন এবং কেন প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ অনুমোদিত সারসংক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না, তা জানতে চান। সূত্র জানায়, অর্থসচিব তাদের আশ্বস্ত করেছেন এমন কোন ঘটনা ঘটবে না। এ ব্যাপারে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও তাদের আশ্বস্ত করেন।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদতি সারসংক্ষেপে রয়েছেÑ সিনিয়র সচিবের বর্তমানে ১০টি পদ রয়েছে। এটি সীমিত রাখা হবে। আর জাতীয় অধ্যাপক সিনিয়র সচিবের সমান বেতন পাবেন।

২৭টি ক্যাডারের ৯টি ছাড়া বাকিগুলোতে এক বা একাধিক প্রথম গ্রেডের চাকরি ইতোমধ্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যে সকল ক্যাডারের ১শ’র বেশি সদস্য রয়েছে সেগুলোতে অন্তত একটি করে প্রথমশ্রেণীর পদ সৃষ্টি করতে হবে। অর্থাৎ পরিবার পারিকল্পনা, কারিগরি শিক্ষা, সমবায়, ইকোনমিক, পরিসংখ্যান এবং টেলিকমে অন্তত মোট ৬টি পদ সৃষ্টি করতে হবে। এতে প্রথম গ্রেডের ৩০টি পদের অতিরিক্ত আরও ৬টি পদ সৃষ্টি করা হবে। একইভাবে আনসার, সড়ক ও জনপথ, সাধারণ শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, প্রণিসম্পদ, মৎস্য, ডাক, গণপূর্ত, খাদ্য, বন এগুলোতে একটি করে দ্বিতীয় গ্রেডের মোট ১০টি পদ সৃষ্টি করতে হবে। এতে দ্বিতীয় গ্রেডে মোট পদের সংখ্যা হবে (৯১+১০) ১০১টি। একমাত্র বাণিজ্য ছাড়া প্রত্যেক ক্যাডারেই দ্বিতীয় শ্রেণীর পদ থাকবে।

তেমনি সমবায় এবং পরিসংখ্যান ক্যাডারে একটি করে তৃতীয় গ্রেডের মোট দুটি করে পদ সৃষ্টি করতে হবে। তৃতীয় গ্রেডে ২৪টি ক্যাডারের পদ রয়েছে। এই গ্রেডে পদ নেই বাণিজ্য, সমবায় এবং পরিসংখ্যান ক্যাডারে। নতুন দুটি পদ যোগ হওয়ায় শুধু বাণিজ্য ক্যাডারে এ গ্রেডে কোন পদ থাকবে না। এ গ্রেডে বর্তমানে ১,২৯৪ কর্মচারী রয়েছেন। নতুন পদ সৃষ্টির পর এ পদের সংখ্যা হবে ১,২৯৬টি। এছাড়া চতুর্থ গ্রেডে বিভিন্ন ক্যাডারের বর্তমান পদ রয়েছে ২,২৫২টি। প্রস্তাবিত নতুন পদ সৃষ্টি হলে ৩ শতাংশ কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবেন। এতে প্রশাসন ক্যাডারের পঞ্চম গ্রেড থেকে ৪৫টি চতুর্থ গ্রেডে আসবে। কৃষিতে ক্যাডার পদের মোট সংখ্যা পরিবর্তন না করে ৩৬টি পদ চতুর্থ গ্রেডে থাকবে। কারিগরি শিক্ষায় চতুর্থ গ্রেডে মোট পদের সংখ্যা পরিবর্তন না করে ৩০টি পদ থাকবে। প্রাণিসম্পদে মোট পদের সংখ্যা থেকে ৪০টি চতুর্থ গ্রেডে থাকবে। মৎস্য ক্যাডারেও একই শর্তে ২৫টি পদ থাকবে চতুর্থ গ্রেডে।

এতে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ রাখা হয়েছে। তবে সন্তোষজনকভাবে বিভিন্ন শর্তপূরণ করলে যে কোন কর্মচারী-কর্মকর্তা ১০ বছর চাকরির পর পরবর্তী গ্রেডে উন্নীত হবেন। সেই উন্নীত গ্রেডে ৬ বছর পূর্ণ করার পর তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী গ্রেডে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন। এ ব্যবস্থায় প্রত্যেকে জীবনে অন্তত দুটি পদোন্নতি পবেন।

৯ম গ্রেড থেকে তদুর্ধ চতুর্থ গ্রেডে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বিভিন্ন মেয়াদে সন্তোষজনকভাবে চাকরি করার শর্তে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্নীত হবেন। এর মধ্যে প্রথম গ্রেডে উন্নীত হতে কমপক্ষে ২০ বছর চাকরি করতে হবে। এছাড়া দ্বিতীয় গ্রেডে ১৭ বছর, তৃতীয় গ্রেডে ১৪ বছর, চতুর্থ গ্রেডে ১২ বছর, পঞ্চম গ্রেডে ১০ বছর, ষষ্ঠ গ্রেডে ৫ বছর, সপ্তম গ্রেডে ৪ বছর এবং ৮ম গ্রেডে উন্নীত হতে কমপক্ষে ৩ বছর সন্তোষজনকভাবে চাকরি করতে হবে।