১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উত্তরা থেকে জেএমবির তিন জঙ্গী গ্রেফতার ॥ ৫ দিনের রিমান্ডে

উত্তরা থেকে জেএমবির তিন জঙ্গী গ্রেফতার ॥ ৫ দিনের রিমান্ডে
  • বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পুলিশ, পীর ও মাজারকেন্দ্রিক লোকজনসহ আট ধরনের মানুষকে খুন করা জায়েজ; এ রকমই লেখা বিপুল পরিমাণ জিহাদী বইসহ জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দুই আধ্যাত্মিক নেতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। রাজধানীর উত্তরা থেকে জেএমবির তিন সদস্যকে আটকের পর পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি পুলিশ। রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম তাদের এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক আজিজুল হক সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলামের আদালতে।

শনিবার মধ্যরাতে জঙ্গী কর্মকা-ে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে উত্তরা থেকে জেএমবির দুই আধ্যাত্মিক নেতাসহ এই তিন সদস্যকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরা হচ্ছেন এএইচএম খায়রুল আসাদ ওরফে সোহাগ (কারিগরি সহযোগী), মীর মোয়াজ্জেম হোসেন সাইফী ওরফে জার্মিন (সাবেক শূরা সদস্য) ও মোঃ কফিল উদ্দিন বিন আমিন। তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল জ্যামার ও বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই জব্দ করা হয়। রবিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়ার সেন্টারে যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের মীর মোয়াজ্জেম হোসেন সাইফী ওরফে জার্মিন ও মোঃ কফিল উদ্দিন বিন আমিন জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা ছিলেন। তারা মূলত মগজ ধোলাইয়ের কাজটি করেন। ওয়াজ মাহফিলের আড়ালে বয়ানের মাধ্যমে লোকজনকে আকৃষ্ট করে থাকেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া বইয়ের একটি অংশে আট ধরনের মানুষকে খুন করা জায়েজ বলে উল্লেখ আছে। এর মধ্যে পুলিশ, পীর ও মাজারকেন্দ্রিক লোকজনের কথা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সোহাগের বিষয়ে বলা হয়, তার (সোহাগের) বাসা থেকে আগেও জেএমবির দুজন বড় নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তখন তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কিছুদিন আগে পুরান ঢাকার হোসেনী দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে বোমা হামলার ঘটনায় আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগের নাম চলে আসে। মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা জেএমবিকে কারিগরি সহায়তা দিতেন। জেএমবির শূরা সদস্যরা মিটিং করার সময় মোবাইল জ্যামার ব্যবহার করতেন। যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে। এর মধ্যে আটক সোহাগ একটি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে চাকরি করেন। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। বেতনের একটি অংশ তিনি সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকা-ে ব্যয় করতেন। তিনিই জ্যামারটি সংগ্রহ করেছেন। তবে সেটি তিনি কোথায় পেয়েছেন সে সম্পর্কে কিছু জানাননি।