২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শান্ত স্বভাবের মেধাবী তাসফিন যেভাবে জঙ্গী হয়ে ওঠে-

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারী সেবাকেন্দ্রে গত বুধবারের হামলায় অংশ নেয়া সৈয়দ রিজওয়ান ফারুক ও তাসফিন মালিক দম্পতি ছিল পাকিস্তান বংশোদ্ভূত। পাকিস্তানের এক বনেদি পরিবারে জন্ম নিলেও তাশফিনের বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে। মুলতানের বাহাউদ্দিন জাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। আর সেই তাসফিন মালিকের বুলেটবিদ্ধ দেহ সান বার্নারডিনোর রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে হতবাক তার পরিচিতজনরা। খবরে বলা হয়েছে, তাশফিনের স্বামী সৈয়দ রিজওয়ান ফারুকও স্নাতক সম্পন্ন করে ক্যালিফোর্নিয়ায় কাজ করতেন। তারপর ওখান থেকে চাকরি ছেড়ে বিয়ে করার জন্য মেয়ে খুঁজতে থাকেন। তিনি খুঁজে পান তাসফিনকে। যিনি কখনও যুক্তরাষ্ট্রে যাননি। কিন্তু কেন তারা জঙ্গীপনার দিকে ঝুঁকল? আর যারা কিছুদিন আগে সন্তান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা কিভাবে এই ধরনের গণহত্যার সঙ্গে জড়িয়ে গেল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এখন এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। তারা বলছে, এই দম্পতি কয়েক বছর আগেও একে অপরকে চিনত না। তারা কিভাবে ১৪ জনকে হত্যা করল? এখন প্রশ্ন, তারা কি আসলে ধর্মীয় উগ্রবাদে অনুপ্রাণিত হয়েছিল?

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, তাসফিন মালিক যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার আগেই ধর্মীয় উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ে। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

এ বিষয়ে ২৯ বছর বয়সী তাসফিনের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী আবিদা রানি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দ্রুত বদলে যেতে থাকে তাসফিন। ফার্মেসি বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে তাসফিন ইসলামিক স্টাডিজের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই সে শহরের বিভিন্ন মাদ্রাসায় যেত। সন্ধ্যার পুরো সময়টা তার কাটত মাদ্রাসায়। আর ওই মাদ্রাসাগুলো পরিচালনা করত কট্টরপন্থী সুন্নি সম্প্রদায়ের ওয়াহাবি মতবাদের লোকরা। রানি বলেন, বরাবরই খুব লাজুক স্বভাবের ছিল তাসফিন। বাইরে তো বটেই, ঘরেও বোরকা পরে থাকত। ক্লাসে কখনও প্রথম বেঞ্চে বসতে চাইত না। অচেনা যুবকদের সঙ্গে চট করে কথা বলতে চাইত না। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক আতিফ নিসার আহমেদ জানিয়েছেন, রক্ষণশীল হলেও খুবই শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল তাসফিন। বোরকা পরা না থাকলে নিজের ছবি তুলতে দিতে চাইত না।

আবিদা আরও বলেন, আমরা ৬ বছর এক সঙ্গে ছিলাম। তাসফিন ছিল ধার্মিক। আমরা যখন সামাজিক কর্মকা-ে অংশ নিতাম তাসফিন তখন টেলিভিশনে ইসলামিক চ্যানেল দেখত। তবে ও (তাসফিন) আমাদের সঙ্গে কখনও ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলেনি।

খালিদ জানবাজ নামে তাসফিনের অপর শিক্ষক বলেন, তিনি কখনও কাউকে ধর্মীয় উগ্রবাদে জড়াতে বলেননি। কিন্তু সেই তাসফিন কিভাবে এ ধরনের হত্যাকা- ঘটাল?

ওদিকে সৈয়দ রিজওয়ান ফারুকের বিষয়ে তার এক বন্ধু বলেন, আমরা মসজিদে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতাম। তার মুখে কখনও ধর্মীয় উগ্রবাদের কথা শুনিনি। কিন্তু সে কিভাবে এ ধরনের হত্যাকা- ঘটাতে পারে!

ক্যালিফোর্নিয়া হত্যাকা- সন্ত্রাসী কাজ ছিল কিনা তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে, শুক্রবার এফবিআই এ কথা জানিয়েছে। হামলায় অংশ নেয়া দুজনের একজন ছিলেন নারী। ইতোমধ্যে খবর পাওয়া গেছে ওই নারী ফেসবুকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস বা আইসিস) প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। আইএস দাবি করেছে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীলরা বুধবারের হামলাটি চালিয়েছে।