১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জলবায়ু চুক্তিকে কেন্দ্র করে মেরুকরণ-

কাওসার রহমান, প্যারিস থেকে ॥ একটি সর্বজনীন জলবায়ু চুক্তিকে কেন্দ্র করে জলবায়ু রাজনীতিতে মেরুকরণ ঘটছে। এ রাজনীতিতে একঘরে হয়ে পড়ছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও এখন তার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। রাশিয়া তো জলবায়ু সম্মেলনের শুরু থেকেই বিপরীতে অবস্থান নেয়। সেই সঙ্গে আয়োজক দেশ ফ্রান্স, প্রভাবশালী জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নও যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতমুখী অবস্থানে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই সুরে সুর মেলাত তারাও এখন চাইছে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় প্যারিসে একটি আইনী চুক্তি। এই রাজনীতির খেলায় শেষ পর্যন্ত সকল পক্ষকে খুশি করে প্যারিস বিশ্ববাসীকে কি উপহার দেয় সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। এটিই জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কাঠামো কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী রাজনৈতিক ফোরাম। এই বৈঠকের সিদ্ধান্তই কনফারেন্স অব দ্য পার্টির (কপ) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। গত ৫ ডিসেম্বর কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে চূড়ান্ত হওয়া প্যারিস জলবায়ু চুক্তির খসড়া দলিল আজ এই বৈঠকেই উপস্থাপন করা হবে অনুমোদনের জন্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে কোন্ দেশ কতটা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারবে তার ওপরই নির্ভর করবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ধরন।

আয়োজক দেশ হিসেবে এখানে ফ্রান্সের একটি সম্মানের বিষয় কাজ করছে জলবায়ু চুক্তির পেছনে। ফ্রান্স চাইছে না জলবায়ু চুক্তি ব্যর্থ হয়ে তার সম্মান নষ্ট করতে। ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ আন্তরিকভাবে চাইছে, প্যারিসে একটি সর্বজনীন জলবায়ু চুক্তিতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে। তবে এই চুক্তি কি আইনী চুক্তি হবে নাকি একটি সাধারণ চুক্তি হবে তা নির্ভর করছে মার্কিন বিরোধী জোট কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে তার ওপর। আবার দ্বিতীয় প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির বাইরে থেকে তার পরিণতি শেষ পর্যন্ত কিয়োটো প্রটোকলের মতো হতে পারে। এসব বিষয় কাজ করছে চুক্তির ধরন কি হবে তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে আইনী বাধ্যবাধকতার বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। আইনী বাধ্যবাধকতা না করেও যাতে চুক্তিটি কার্যকর করা যায় সেটাই এখন আয়োজক দেশ ফ্রান্সের মূল চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্যারিস চুক্তির মূল বিষয় হচ্ছে কার্বন কমিয়ে এ বিশ্বের উষ্ণায়ন অবস্থা প্রাক-শিল্পায়নের যুগে ফিরিয়ে আনা। এ জন্য কার্বন কমাতে হবে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি সীমাবদ্ধ রাখতে। কিন্তু উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো আইএনডিসির আওতায় স্বেচ্ছায় কার্বন কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২.৭ ডিগ্রী থেকে ৩ ডিগ্রী বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা প্রায় এক ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। ফলে আরও তিন ডিগ্রী বাড়লে বিশ্বের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। ফলে কার্বন নির্গমনের লক্ষ্যমাত্রা ২ ডিগ্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হলে উন্নত দেশগুলোকে কার্বন নির্গমন কমানোর মাত্রা আরও বাড়াতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সমন্বয়কারী ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ বলেন, ‘শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। উন্নত দেশগুলো ১৯৭০ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাদের জিএনআইয়ের ০.৭ শতাংশ উন্নয়ন সহায়তা দেবে। কিন্তু গত ৪৫ বছরে উন্নত দেশগুলো দিয়েছে মাত্র ০.৩২ শতাংশ অর্থ। জলবায়ু চুক্তির ক্ষেত্রেও এ ধরনের অবস্থা হলে চুক্তি কার্যকর হবে না।’ তিনি বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের চেয়ে বড় বিষয় হলো চুক্তি বাস্তবায়ন। এখানে আইনগত চুক্তি হচ্ছে না এটা স্পষ্ট। কিন্তু যে চুক্তিই হোক তা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। বাংলাদেশ সে লক্ষ্যে কাজ করছে।’

তবে এক্ষেত্রেও স্বল্পোন্নত দেশ এবং সিভিল সোসাইটি কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে তার ওপর করবে সেটা একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। সিভিল সোসাইটি অবশ্য শুরু থেকে আইনী চুক্তির সপক্ষে অবস্থান নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সিভিল সোসাটিও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। তারা স্বল্পোন্নত দেশের সিভিল সোসাইটির সঙ্গে মিলে জোরালোভাবে কণ্ঠ মেলাচ্ছে। এখন পর্যন্ত স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) ভূমিকা খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে এলডিসির নেতৃত্বে রয়েছে কঙ্গো। তারা এককভাবে যথাযথ নেতৃত্ব দিতে পারছে না। জলবায়ু সম্মেলনে অতীতে এলডিসিকে দিকনির্দেশনা দিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। কিন্তু গত বছর থেকে বাংলাদেশ অদৃশ্য কারণে সব কিছু থেকেই হাত গুটিয়ে বসে আছে। এবার সেই গুটিশুটি অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলেও, বাংলাদেশ দল নেতার কিছু মন্তব্য এলডিসির মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ‘বাংলাদেশ এখন আর জলবায়ুর ঝুঁকিপূর্ণ দেশ নয়, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বন্যা হয়নি, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের বিদেশী সাহায্যের প্রয়োজন নেই, কিংবা জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় অর্থায়নের ক্ষেত্রে সব দেশকেই নিজ নিজ পকেটে হাত দিতে’ বলার মতো মন্তব্যে বিব্রত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলও। এসব মন্তব্য বাংলাদেশের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীতে। এ কারণেই শুরুতেই সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে দাবি উঠেছিল, প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে নেতৃত্বদানের। প্রস্তুতি থাকার পরও প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে না আসায় পুরো বাংলাদেশ শিবিরে এক ধরনের হতাশা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুধু যোগ্য নেতৃত্ব থেকেই বঞ্চিত হয়নি, ১৫১টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে এক কাতারে শামিল হওয়ার দুর্লভ সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। এ ব্যাপারে সব দোষ গিয়ে পড়ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর। তারা যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের গুরুত্ব নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টির হয়েছে। তারা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যদেরও ‘প্যারিসে কিছু হবে না’ বলে বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। অথবা বিশ্বের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্ব নেতার উপস্থিতির রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে প্যারিসেই। যেখানে উপস্থিত ছিলেন না শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের মন্ত্রী গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডে স্বেচ্ছায় অবদান রাখার ব্যাপারে সকলের পকেটে হাত দিতে বললেও এর তীব্র বিরোধিতা করেছে ভারত। ভারতের সঙ্গে রয়েছে চীন ও সৌদি আরব। প্যারিস চুক্তির খসড়ায় অর্থায়ন বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল নাগাদ প্রতিবছর গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডে ১০০ বিলিয়ন ডলার করে প্রদানের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় সকল দেশকে অংশ নিতে হবে। ভারত শুধু এ ব্যাপারে আপত্তিই তোলেনি, তারা চাইছে এ অংশটি চুক্তির খসড়া থেকে বাদ দিতে। চীন স্বেচ্ছায় অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে রাজি থাকলেও তারা এ ব্যাপারে কোন আইনী বাধ্যবাধকতায় যেতে নারাজ। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আরও অনেক দেশ। ভারতের দাবি হচ্ছে, এটা উন্নত শিল্পোন্নত ৩৭ দেশের দায়। ফলে এ অর্থের যোগান তাদেরই দিতে হবে। জলবায়ু কনভেনশনেও বলা হয়েছে, উন্নত দেশগুলোই এই অর্থের যোগান দেবে। এবং ওই অর্থ হতে হবে নতুন এবং বিদ্যমান সহায়তার অতিরিক্ত। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক এ বিতর্কের সমাধান করতে হলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দরকার হবে বলে মনে করছেন জলবায়ু বিশ্লেষকরা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সমঝোতাকারী দলের অন্যতম সদস্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় উন্নতদেশগুলো অর্থ দেয়ার অঙ্গীকার করে থাকে। কিন্তু সেই অর্থ পুরোপুরি পাওয়া যায় না। অর্থ দেয়া আর প্রতিশ্রুতি দেয়া এক নয়। এবারও সে রকম কিছু হতে পারে। তবে আগে উন্নতদেশগুলোর প্রতিশ্রুতি থেকে অল্প কিছু টাকা দিয়েছিল।’

জলবায়ু বিশ্লেষক মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা বলেন, ‘অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়েও ভাবা হচ্ছে। সেটি হচ্ছে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ২০২০ সাল নাগাদ প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার করে দেয়ার। শিল্পোন্নত দেশগুলো আগে তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করুক। যদি অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয় তখন উন্নয়নশীল দেশগুলো গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডে স্বেচ্ছায় অবদান রাখবে। তবে আগে উন্নত দেশগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।’

জলবায়ুু বাস্তুচ্যুতদের জন্য বিশেষ নীতি সহায়তা দাবি ॥ ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ জলবায়ুতাড়িত বাস্তুচ্যুতদের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ নীতি সহায়তার দাবি করেছেন। বক্তারা কানকুন আলোচনার আলোকে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তিতে এই বিষয়ে বক্তব্য বা শর্ত উল্লেখের দাবিও করেন।

‘জলবায়ু তাড়িত বাস্তুচ্যুত : অধিকার এবং বাধ্যবাধকতা’ শীর্ষক এই সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ইক্যুইটিবিডির রেজাউল করিম চৌধুরী এবং এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিএসআরএলের জিয়াউল হক মুক্তা। আলোচক হিসেবে এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাসান মাহমুদ, ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটারিয়ান সামিটের এ্যান্টনি গেরাড, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন অফিস থেকে ক্যারোলিনা হার্নান্দেজ, নানসিন ইনেশিয়েটিভ’র অধ্যাপক ওয়াল্টার কেইলন, গ্লোবাল জাস্টিস নাউ-ইউকের নিক ডিয়ারডেন, নরওয়েজিয়ান রিফুইজি কাউন্সিলের লিনা ব্রেন, প্যান আফ্রিকান ক্লাইমেট জাস্টিস এলায়েন্সের মিথিকা ময়েন্ডা, এলডিসি ওয়াচের গৌরি প্রধান, সিএসআরএল বাংলাদেশের শরমিন্ড নিলর্মি, সিসিবি ইন্ডিয়ার সৌম্য দত্ত প্রমুখ।

ড. হাসান মাহমুদ বলেন, প্যারিস চুক্তিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ চেষ্টা করবে এবং জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যায়েও এই বিষয়টির সমাধানে সচেষ্ট থাকবে। তিনি বলেন, ১৯৫১ সালের রিফিউজি কনভেনশন নতুন করে আবারও লিখতে হবে।

এ্যান্টনি গেরাড বলেন, জলবায়ু উদ্বাস্তু ভবিষ্যতের জন্য বড় একটি নিরাপত্তা সঙ্কট, তাই বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে এই বিষয়ে নজর দিতে হবে। এটি একটি বড় মানব সঙ্কট। এই সঙ্কট মোকাবেলায় বিশ্বকে একটি কৌশল খুঁজে বের করতে হবে। অধ্যাপক ওয়াল্টার কেইলন বলেন, গত অক্টোবরে জেনেভায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ নতুন একটি বিশ্ব ব্যবস্থার কথা বলছিলেন, একই আশা অব্যাহত থাকতে হবে প্যারিস আলোচনাতেও। ক্যারোলিনা হার্নান্দেজ বলেন, প্যারিস চুক্তিতে অবশ্যই জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জীবন ও জীবিকার অধিকারের কথা থাকতে হবে। নিক ডিয়ারডেন বলেন, ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন সময় অভিবাসীদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে। তাদের কার্বন নিঃসরণের কারণেই জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটির জন্ম, তাই উন্নত দেশগুলোকে এর দায়িত্ব নিতে হবে।

জিয়াউল হক মুক্তা বলেন, জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুর সমস্যা সমাধান করতে হবে মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে। রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এই বিষয়টি এখন শুধু আর জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচনায় থাকলেই হবে না, এটাকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আলোচনাতেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।