২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে ॥ মুনতাসীর মামুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি মূল্যায়ন করছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, পাকিস্তানের (তাদের) সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি আমরা মূল্যায়ন (এ্যাসেসমেন্ট) করছি। কি করার দরকার, সেটিও ভাবছি। কিন্তু সম্পূর্ণ জিনিসটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। রবিবার ধানম-ির ডাব্লিউভিএ মিলনায়তনে ‘কালের কষ্টিপাথরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশকে ভারতের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ৪৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ১৯৭১ সালের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। তাঁর ভাষা এতটা শক্ত ছিল না, কিন্তু তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। আসমা জাহাঙ্গীর, হামিদ মীরসহ পাকিস্তানের অনেক বিশিষ্ট নাগরিকও যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এখন তো এসব বলে লাভ নেই যে তারা কিছুই করেনি।

ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে হৃদয়ের সম্পর্ক। দুই দেশের জনগণের সম্পর্কই আসল। দু’দেশের মানুষের সম্পর্ক এতটা গভীর যা নষ্ট বা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এটা হৃদয়ের সম্পর্ক। তবে ৭৫’র ১৫ই আগস্টের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। তখন থেকেই শুরু হয় ভারত বিরোধিতা। ভারতের অবদানকে অবমূল্যায়ন করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একাত্তরের পরাজিত শক্তি সে ধারণার প্রচলন ঘটায়।

পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কয়েকটি চুক্তির মধ্য দিয়ে উভয় দেশই লাভবান হয়েছে। সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ছিটমহলগুলোর সমস্যা ছিল, উভয় দেশেই মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছিল। তবে সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত ছিটের সমস্যার সমাধান হয়েছে। যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ণ এক সাফল্য। তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বেও সীমান্তে কিছু সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ছিটমহল সমস্যার সমাধান একটি দৃষ্টান্ত।

মন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার মানুষ আমাদের বন্ধু। ৭১’র তারা অশ্রয় দিয়েছিল। বর্তমানে ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আসছে। ভারত থেকে আমরা বিদ্যুত আমদানি করতে পারব এটা কেউ চিন্তাও করেনি। শীঘ্রই আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আসবে। যে বন্ধুত্ব এটা ভাতৃত্বের, এ সম্পর্ক হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এটা ছিল। তবে ৭৫’র এর পর সম্পর্কে বৈরিভাব দেখা দেয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিহাস-ঐতিহ্য-আবেগ ছাড়াও ‘দল’ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে মুনতাসীর মামুন বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার বহির্ভূতভাবে মন্তব্য করছে। তারা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চায়। ৭১’র পাওনা আদায়ে জনমত গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক ফোরামে এ দাবি তুলতে হবে। বহির্বিশ্বকে জানাতে হবে, এটা একটা বর্বর জাতি। পাকিস্তান তাদের মিথ্যাচার ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ যদি বন্ধ না করে তাহলে পাকিস্তানে বাংলাদেশের কোন হাইকমিশনার থাকবে কি থাকবে না, রাষ্ট্রকে তা ভেবে দেখতে হবে।

শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, আমরা দেশ স্বাধীন করতে পেরেছি, তবে শত্রুমুক্ত নয়। পাকিস্তানের দুই চর সাক-মুজার ফাঁসির পর পাকিস্তান যেন উন্মাদ হয়ে গেছে। পাকিস্তানী এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতেই হবে। অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও এদের নিশ্চিহ্ন করা যাচ্ছে না। সম্পদ ও শক্তিতে এরা অনেক বলিয়ান। এজন্যই তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে যুদ্ধাহত গরিব-দুঃখীর মধ্যে বণ্টন করতে হবে।

কান্তজিউ মন্দিরে বোমা হামলার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, কান্তজিউ মন্দিরে আমি বহুবার গিয়েছি। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, জঙ্গীগাষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমরা কি আমাদের জিহাদ ঘোষণা করতে পারব?

তিনি আরও বলেন, ’৬৯-এ রমনা থেকে কাঠমোল্লাদের যেভাবে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম তা যদি সম্ভব না হয় তবে দেশ কাঠমোল্লার দেশে পরিণত হতে বেশিদিন দেরি নেই। তরুণ সমাজকে আহ্বান জনাবো রাস্তায় নেমে আসুন। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মকুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।