২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আফ্রিদির কাছে ফের হারলেন গেইল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সবার দৃষ্টিতে ছিল গেইল-আফ্রিদি লড়াই। বিশেষ করে দুইজনের ব্যাটিংয়ের দিকেই নজর ছিল সবার। যে দলই জিতুক, একদিকে ক্রিস গেইলের ব্যাটিং তা-ব মিলবে; অন্যদিকে শহীদ আফ্রিদির ব্যাটিং ঝড় উঠবে। এমন আশাই ছিল। কিন্তু কোনটিই হলো না। গেইল এত ‘হাঁকডাঁক’ দিয়ে মাত্র ৮ রান করেই আউট হয়ে গেলেন। আর আফ্রিদি ব্যাটিংয়েই নামতে পারলেন না। তবে একটা জিনিস আগের মতোই হলো। আফ্রিদির কাছে আবারও হারলেন গেইল।

বরিশালের হয়ে খেলেন গেইল। আর সিলেট সুপার স্টারসের হয়ে খেলেন আফ্রিদি। দুই দল পরস্পরের বিপক্ষে রবিবার দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। বরিশালকে ৫৮ রানে অলআউট করে দিয়ে ১ উইকেট হারিয়ে ৬২ রান করে আফ্রিদির দল। ৯ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয়। এ ম্যাচটির আগে যখনই ‘বুমবুম’ আফ্রিদির মুখোমুখি হয়েছেন ‘ব্যাটিং দানব’ গেইল; এক ম্যাচ ছাড়া সব ম্যাচে আফ্রিদিরই জয় হয়েছে। রবিবারের ম্যাচসহ গেইল-আফ্রিদি চার ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। তিনবারই জিতেছেন আফ্রিদি।

সিলেট-বরিশাল ম্যাচটিসহ এ দুই ক্রিকেটার প্রতিপক্ষ ছিলেন চারবার। তিনবার আন্তর্জাতিক ম্যাচে আর একবার ঘরোয়া লীগের ম্যাচে দেখা হয় দুইজনের। ২০১৩ সালে দুইবার ও ২০১৪ সালে একবার পরস্পরের বিপক্ষে খেলেছেন। ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের ২ উইকেটে জেতা ম্যাচে মাত্র ৫ রান করেন গেইল। ম্যাচটিতে আফ্রিদি করেন ২৭ বলে ৪৬ রান। দলীয় ও ব্যক্তিগত-দুইভাবেই আফ্রিদির কাছে হার হয় গেইলের। সব ধরনের টি২০ ক্রিকেট মিলিয়ে এক ম্যাচে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান এখন গেইলের (১৭৫*)। সেই গেইল ২০১৩ সালে দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ১ রান করেন। আফ্রিদিও সেই ম্যাচটিতে ৬ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে এবারও পাকিস্তানের জয় হয় ১১ রানে। ২০১৪ সালে অবশ্য গেইল জেতেন। সেই ম্যাচে গেইল আবারও ব্যর্থ হন। মাত্র ৫ রান করেন। আফ্রিদি ব্যক্তিগত রান করার দিক দিয়ে গেইলকে হারান। করেন ১৮ রান। তবে দলীয়ভাবে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮৪ রানে জিতে। বেশিরভাগ সময় আফ্রিদিরই জয় হয়েছে। এবারও একই ঘটনা ঘটে। ব্যাট হাতে সিলেটের হয়ে নামতেই পারেননি আফ্রিদি। বরিশাল এত কম রান করেছে যে সেই সুযোগই মিলেনি। তবে গেইলের ৮ রানের বিপরীতে যে আফ্রিদি বল হাতে ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন, তাতেও আফ্রিদিরই জয় হয়েছে। দলও জিতেছে।

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ না গেইলের নাম ছিল, না আফ্রিদির নাম ছিল। বড় তারকা ক্রিকেটারদের দলগুলো ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে বোঝাপড়ার মাধ্যমেই দলে ভেড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। সেই সুযোগে গেইলকে নিয়েছে বরিশাল। আর আফ্রিদিকে নিয়েছে সিলেট। বিপিএলে দল পাওয়ার পরই আফ্রিদি বলেছিলেন, ‘বিপিএলে খেলার অপেক্ষায় আছি। এ টুর্নামেন্ট আমার পারফর্মেন্স আরও উন্নত করবে।’ প্রথম ম্যাচেই ৬২ রান করে সেই ঝলক দেখিয়েও দেন আফ্রিদি। দ্বিতীয় ম্যাচে বল হাতে ২ উইকেটও নেন।

কিন্তু গেইল প্রথম ম্যাচে কিছুই করতে পারলেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ ব্যাটসম্যান ঢাকায় পা রাখার আগেই বলে দিয়েছিলেন, ‘আরেকটি (শতক) ধরে রাখ।’ আর শুক্রবার ঢাকায় পা রেখে বলেছিলেন, ‘পরিকল্পনা শুধু ছক্কা হাঁকানো।’ কোনটিই বিপিএলের প্রথম ও দ্বিতীয় আসর মিলিয়ে তিন শতক করা গেইলের ব্যাটিং থেকে মিলল না। তাতে দলও বিপদে পড়ল। গেইল সমর্থকরাও চরম হতাশ হলেন। খেলা দেখতে তখনও স্টেডিয়াম ভরেনি। মাত্র স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে শুরু করেছে সব দর্শক। তার আগেই গেইলও আউট হয়ে যান, মাত্র সোয়া এক ঘণ্টার মধ্যে বরিশালের ইনিংসও গুটিয়ে যায়। এত কম রান হয়েছে যে আফ্রিদি সমর্থকরাও হতাশ হয়েছেন। আফ্রিদি যে ব্যাটিংয়েই নামার সুযোগ পাননি। এরপরও আফ্রিদিকে পছন্দ করেন যারা, তাদের উল্লাসই করার কথা। ম্যাচটিতে যে মুশফিকুর রহীমের পরিবর্তে আফ্রিদি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাতে গেইল-আফ্রিদি দৌরথে জয় হয়েছে আফ্রিদিরই।