১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুষ্টিয়ায় কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার পর খুনীর আত্মহত্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া, ৬ ডিসেম্বর ॥ কুষ্টিয়ায় এক কলেজ ছাত্রকে ধারালো বাটাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে হত্যাকারী। নিহত ওই কলেজ ছাত্রের নাম সুজন মাহমুদ (১৮)। গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যাকারী যুবকের নাম পলাশ (২৫)। রবিবার সকালে কুষ্টিয়া শহরতলীর হাটশ হরিপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, হাটশ হরিপুর গ্রামে রবিবার সকাল ৯টার দিকে পলাশ নামে ওই যুবক ধারালো বাটাল দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সুজন নামের এক কলেজ ছাত্রকে। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘাতক পলাশকে ধাওয়া করে। এর পরপরই পলাশ একই গ্রামে তার নানাবাড়ি গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। নিহত সুজন স্থানীয় বদর উদ্দিনের ছেলে এবং আমলা সরকারী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। সকালে সে নিজ বাড়ি থেকে হরিপুর বাজারে এলে পাশের শালদা গ্রামের মৃত নিন্টুর ছেলে পলাশের সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জের ধরে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পলাশ পাশের একটি কাঠমিস্ত্রির দোকান থেকে ধারালো বাটাল এনে সুজনের বুকে, পেটে ও গলায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। সুজনের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়। এদিকে, ঘটনার পর পলাশ দৌড়ে পাশেই তার নানা আলমের বাড়ির একটি ঘরে গিয়ে আত্মগোপন করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসী ঘরটি ঘিরে ফেলে। এ সময় ঘরের ভেতরে পলাশ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নুল আবেদীন জানান, দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আত্মহত্যাকারী পলাশ মাদকাসক্ত ছিল বলে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়।