২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিরহের পাখি- এইবার ঘরে আসো, হাতমুখ ধোও...

বিরহের পাখি- এইবার ঘরে আসো, হাতমুখ ধোও...
  • আলোকচিত্রে বাংলাদেশের পাখি

মোরসালিন মিজান ॥ পাখিদের আশ্চর্য সুন্দর জীবন! নিজের মনে ওড়ে বেড়ানো। ঘুড়ে বেড়ানো। আহা! কত মানুষ যে মনে মনে পাখি হলো! পাখি হতে চাইল। বার্ড ক্লাবের সদস্যরা হয়ত এ দলেই পড়বেন। পাখি হওয়া অসম্ভব। তাই তারা পাখির খুব কাছাকাছি থাকেন। দেশের যেখানেই পাখি, ছুটে যান। ছবি তুলেন। ক্যামেরার চোখে এইটুকুন পাখিও পরিষ্কার দেখা যায়। দুর্লভ দেখা। কী যে আনন্দ হয় তখন! বার্ড ক্লাব আনন্দটা বছরে একবার সাধারণ মানুষের সঙ্গে শেয়ার করে। প্রতিবছর আয়োজন করে একটি করে প্রদর্শনী। জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে চলছে এবারের আয়োজন। শিরোনাম- পাখির দেশ বাংলাদেশ। গ্যালারিতে প্রবেশ করতেই শিরোনামের যথার্থতা খুঁজে পাওয়া যায়। বড় হলো রুম। দেয়ালের পুরোটাজুড়ে পাখিদের ছবি। কত কত পাখি! যত দেখা যায় ততই বাড়ে কৌতূহল। পাখিরা বিভিন্ন পরিবারভুক্ত। একটি দুটি নয়, বহু পরিবার। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবার পার্থক্য আছে। পার্থক্য মাথায় রাখলে প্রদর্শনীতে পাখির সংখ্যা দাঁড়ায় ১০২টি। পরিবারগুলোর কথা বললে, কিছু মোটামুটি চেনা। এই যেমন- বক, চড়ুই, শালিক, মাছরাঙা, টিয়া, টুনটুনি, মুনিয়া, হাঁস, মুরগি, প্যাঁচা, ফিঙে, কাঠঠোকরা, কোকিল, প্রিনা ও ঈগল। কম জানা পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছে- ফটিকজল, রাজন, খঞ্জন, বনাবাবিল, শাহিন, মৌটুসি, চটক, গিদি, ফিদ্দা, ফুটকি, দামা ও বাতচরা। আরও বেশ কিছু পরিবারের খোঁজ মেলে। প্রতি পরিবারের একাধিক পাখি সম্পর্কে তথ্য দেয়া হচ্ছে প্রদর্শনীতে। এগুলোর কিছু সারাদেশেই কমবেশি দেখা যায়। আবার দুর্লভ পাখিও আছে। বিশেষ বিশেষ অঞ্চলেই শুধু দেখা যায়। উদাহরণ হতে পারে পাকরা-উল্টোঠুঁটি। হ্যাঁ, লম্বা সরু ঠোঁট আশ্চর্যরকম বাঁকা। শেষপ্রান্ত উপরের দিকে ওঠে গেছে। কোন এক উপকূল অঞ্চল থেকে তারেক উদ্দিন আহমেদ তুলেছেন ছবিটি। জলের গায়ে পাখির যে ছায়া সেটুকুও ফ্রেমবন্দী করেছেন তিনি। দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। মাছরাঙা পরিবারের সব থেকে ক্ষুদ্রটির নাম উদয়ী-বামনরাঙা। বেশ দুর্লভ। শুধু সিলেটেই দেখা যায়। নিয়াজ আবদুর রহমানের তোলা ছবিতে পাখিটির ছোট্ট শরীর কোন শিল্পী যেন রং তুলিতে এঁকে দিয়েছেন। যেন মিনিয়েচার। রঙিন যত, ততটাই অভিমানী আর একাকী দেখতে। ছবির দিকে তাকিয়ে প্রিয় কবিতা থেকে বলতে মন চায়- ‘পতনের মুহূর্ত থেকে/আমার বিরহের পাখি পালিয়ে গেছে/বিরহের পাখি- এই বার ঘরে আসো, হাত-মুখ ধোও...।’ কিছু দুর্লভ পাখির ছবি তোলা হয়েছে হাতিয়ার সোনাদিয়া দ্বীপ থেকে। সায়েম ইউ চৌধুরীর ক্যামেরায় ধরা দিয়েছে ডানলিন। মোটাঠুঁটো-বাটান দেখা যায় ফয়সাল আহমেদের ক্যামেরায়। গাজী মনসুর আজিজ গিয়েছিলেন হাতিয়ার আরেক দ্বীপ দমারচরে। সেখান থেকে তিনি তুলে এনেছেন ধলাপেট সিন্ধু ঈগলের ছবি। বুকের দিকটা সাদা বলেই এমন নামকরণ। একটি নয়, দুটি ধলাপেট সিন্ধু। পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। পরস্পর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে তারা। দেখে বোঝা যায়, চারপাশে সতর্ক নজর রাখতেই অমন করে বসা। হাতিয়ায় এই ঈগল দেখা যাচ্ছে গত প্রায় ৬ বছর ধরে। আর কোথাও তেমন দেখা মেলে না।

উপকূল এলাকার পাখি পাতি-চ্যাগাও নতুন দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবিটি তুলেছেন সজীব নজরুল হৃদয়। একই এলাকা চষে বেড়িয়ে নর্ডম্যান-সবুজপা পাখির ছবি তুলেছেন নাজিম উদ্দিন প্রিন্স। সুন্দরবন থেকেও খুঁজে নেয়া হয়েছে দুর্লভ প্রজাতি। সেগুলোর অন্যতম দাগিবুক কাঠকুড়ালি। বড়-মেটেকুড়ালি নামের তিনটি পাখি এক ফ্রেমে নেয়া হয়েছে। এখানে পারিবারিক আবহ। এরাও সুন্দরবনের শুধু। চন্দনা টিয়ার একটি জুটি ক্যামেরাবন্দী করেছেন সৌরভ মাহমুদ। খুব সম্ভবত ঢাকা থেকে তোলা। টিয়া দুটির গায়ের রং সবুজ। আর ঠোঁটে লাল রং মাখা। এরা বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের কথাই যেন স্মরণ করিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য একটি প্রদর্শনী।

আয়োজকদের তথ্যমতে, দেশে প্রায় ৭০০ প্রজাতির পাখি বর্তমান। আলোকচিত্রের মাধ্যমে সব প্রজাতি তুলে ধরতে চান তারা। এ জন্য দরকার হবে ১০টি প্রদর্শনীর। একটি প্রদর্শনী গত বছর অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয়টি চলছে। বাকি ৮টি প্রদর্শনী এখনও বাকি। সে লক্ষ্যেই কাজ করছে বার্ড ক্লাব। ৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া প্রদর্শনী চলবে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।