১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ

  • ২৯ উপজেলায় নয়া কর্মসংস্থানে সাড়ে ৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে কাল একনেকে উঠছে

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ দেশের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য ৩৬ কোটি ৬৪ লাখ ২৮ হাজার টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জীবনধারা এবং বাজার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকা-ের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণ শেষে মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। অনুমোদন পেলে ২০১৯ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সমবায় অধিদফতর।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য এ. এন. সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২৯টি উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের তৈরি হবে। ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ঘটবে। তিনি জানান, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে মধ্য মেয়াদী বাজেট কাঠামো (এমটিবিএফ) বরাদ্দ সংক্রান্ত ত্য এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিবের প্রত্যয়নপত্র সংযোজন করা হয়েছে। তাছাড়া এমটিবিএফ মন্ত্রণালয় হিসেবে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ প্রকল্পটির ডিপিপি অনুযায়ী পরবর্তীতে বছরভিত্তিক বরাদ্দ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রত্যয়ন করেছে। তাই এ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের পাহারী ও সমতল উভয় এলাকায় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বসবাস করে। এদের মধ্যে অনেক সম্প্রদায় পাহারে বনজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে। ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ, বনজ সম্পদের ঘাটতি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্রমেই তাদের ঐতিহ্যগত জীবিকায়নের পথ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। বিকল্প জীবিকায়নের উপায় না পেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে হাতাশাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন অনুৎপাদনশীল অভ্যাস গড়ে তুলছে। যেমন স্থানীয়ভাবে মদ তৈরি করে তা বিক্রি ও ব্যবহার করছে। আবার কোন কোন সম্প্রদায় সমতল এলাকায় বসবাস করে কৃষি কাজ, মৎস্য চাষ বা আহরণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদি পেশায় যুক্ত হয়ে কোন রকমে জীবনযাপন করছে। এদের জন্য ইতোপূর্বে আলাদাভাবে তেমন কোন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়নি। ফলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন শীর্ষক এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, এক হাজার ৫৯৭টি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করা, প্রকল্প এলাকায় ১০ হাজার ৬০০ জন সুবিধাভোগী নির্বাচনের জন্য জরিপ পরিচালনা করা, ২৬৫টি সমবায় সমিতি গঠন করা এবং জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে মোট ২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার সম্পদ হস্তান্তর করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থবছর ভিত্তিক বরাদ্দ চাহিদা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরে ৮ কোটি ১৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৩ কোটি ৬৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ কোটি ৪০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং প্রকল্পের শেষ অর্থবছর ২০১৮-১৯-এ ৪ কোটি ৪০ লাখ ৫ হাজার টাকা।