২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফেসবুক বন্ধেও থামছে না জঙ্গী হুমকি

  • চোরাগোপ্তা অবস্থান থেকেই চালানো হচ্ছে এ তৎপরতা ;###;গত ৩ মাসে হুমকি দেয়া হয়েছে ৩০ বিশিষ্ট জনকে

শংকর কুমার দে ॥ ফেসবুক বন্ধ করার পরও বন্ধ হচ্ছে না জিহাদীদের জঙ্গী হামলার হুমকি প্রদর্শন। সর্বশেষ জিহাদীদের জঙ্গী হামলার হুমকি পেলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমও। গত ৩ মাসে অন্তত ৩০ জন রাজনীতিবিদ, পুলিশ, খ্রীস্টান ধর্মযাজক, লেখক, প্রকাশক, ব্লগার, বুুদ্ধিজীবীদের হত্যার জন্য জঙ্গী হামলার হুমকি দিয়েছে জিহাদীরা। জিহাদী তৎপরতা ও উগ্র ধর্মান্ধতা রোধকল্পে রাজধানী ঢাকার ৯ সহস্রাধিক মসজিদে ও নামাজের সময়ে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সর্বশেষ ই-মেইল এ্যাকাউন্টস মিশন জিহাদের নামে হুমকি দেয়া হয় সিপিবি সভাপতি সেলিমকে সেই বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। জিহাদীদের হত্যার হুমকির তালিকায় রয়েছেন আরেক নেতা ফজলে হোসেন বাদশাকেও। ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে জিহাদীদের হুমকির তালিকা। আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ফেসবুক ছাড়াও বেনামী ই-মেইল, এসএমএস, মোবাইল ফোন, হাতের লেখা চিঠি দিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এসব হুমকির পর সংশ্লিষ্ট থানায় জেনারেল ডায়েরি (জিডি) করা হচ্ছে। জিডির ভিত্তি ধরে তদন্ত করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানান, গত ৩ মাসে রাজনীতিবিদ, পুলিশ, খ্রীস্টান ধর্মযাজক ও লেখকসহ অন্তত ৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিয়ে মোবাইলে মেসেজ বার্তা পাঠিয়েছে জিহাদীরা। তাদের তালিকায় যোগ হচ্ছে রাজনীতিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবির নাম। জিহাদী সংগঠনের পরিচয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। হুমকিদাতারা কারা? বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা ছাড়া বেশিরভাগ ঘটনার বিষয়ের সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তবে সংস্থাগুলোর ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জিহাদী সংগঠন ইসলামী স্টেটসের (আইএস) ভাবধারায় অনুপ্রাণিত সংঘবদ্ধ একটি গ্রুপ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে হুমকির বার্তা পাঠাচ্ছে। আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

পুলিশ সদর দফতরে ওলামাদের সঙ্গে শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক মসজিদগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আইজিপির ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন মসজিদে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। ঢাকায় ৯ হাজার মসজিদে পর্যায়ক্রমে নজরদারি করা হবে। কোন কোন মসজিদের ইমাম নামাজের আগে পরে কী বয়ান করছেন বা কোন ইমাম জঙ্গীবাদকে উৎসাহিত করে বক্তব্য দিচ্ছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে দেশের প্রধান প্রধান মসজিদে আগে এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানান, যেসব মোবাইল ফোন থেকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে সেগুলোর তদন্ত করে হুমকিদাতার হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। ফলে জিহাদীদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হত্যা, হুমকি চোরাগোপ্তা অবস্থান থেকেই চালানো হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী জঙ্গী তৎপরতা ও হুমকির ধরন থেকে ধারণা করা হচ্ছে আগামীতে বাংলাদেশেও এ ধরনের হুমকির ঘটনা আরও বাড়তে পারে। ২০১৩ সালের পর থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জিহাদীর হাতে খুন হয়েছেন এক ডজন ব্যক্তি। এ সকল হত্যাকা-ের সঙ্গে কারা জড়িত তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইউনিটগুলোর মধ্যেও বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। দেশের ভেতরে এই হত্যাকান্ডগুলোর সঙ্গে স্থানীয় জিহাদী গোষ্ঠীগুলো জড়িত বলে মনে করেন গোয়েন্দারা। তবে এসব ঘটনায় চালিত জিহাদীরা বিদেশী শক্তির প্রভাবে থাকার ইঙ্গিত বহন করছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, সম্প্রতি জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসারউল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), আনসার-আল ইসলাম (এআই) ও মুজাহিদ অব বাংলাদেশ (এমবি) দেশের ভেতরে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছে। এসব সংগঠনই হত্যাকা- ও হুমকির মতো ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে বলে মনে করছে গোয়েন্দারা। বিগত বছরগুলোতে এ সকল দলের ৩০ জনেরও অধিক জিহাদীকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছে। এসব হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জিহাদীদের ওয়েবসাইট বলে পরিচিত সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের ওয়েবসাইটে। এতেই বিদেশী শক্তির প্রভাব থাকার ইঙ্গিত স্পষ্ট করে দিয়েছে তদন্তকারী গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, তবে দেশে কোন কাউন্টার টেররিজম ইউনিট না থাকার কারণে জিহাদীদের কার্যক্রম সর্বক্ষণিক মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কাজটি করতে হচ্ছে পুলিশকে এককভাবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের পাশাপাশি জিহাদী কার্যক্রমের ওপর নজরদারি তদন্ত পুলিশকে অনেকটাই চাপের মধ্যেই রেখেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, বিগত তিন বছরে দেশের প্রগতিশীল ব্লগার, বিদেশী নাগরিক, প্রকাশনার মালিক, পুলিশ, মাজারভিত্তিক কথিত পীর ও খাদেমকে হত্যার ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে জিহাদীরা অত্যন্ত সংগঠিত ও সংঘবদ্ধ। পর্দার অন্তরাল থেকে তাদের সংগঠিত করে এই ধরনের অপরাধী কর্মকা-ে উদ্বুদ্ধ করে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ