২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণে বোমা বিস্ফোরণে জঙ্গী কানেকশন স্পষ্ট

  • মেলায় বিঘ্ন সৃষ্টি ও সংখ্যালঘুদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টিই ছিল লক্ষ্য

সাজেদুর রহমান শিলু, দিনাজপুর ॥ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মীয় রাসমেলায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জঙ্গী কানেকশনের বিষয়টি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে এসেছে। তদন্তকারী দলের এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণ কোন বোমা নয়। যাত্রা প্যান্ডেলে বিস্ফোরিত বোমাটি দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে তারসহ একটি মোবাইল ফোনের ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। দিনাজপুর র‌্যাব-১৩ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-১ এর কমান্ডার মেজর মাহমুদ আল রাজু জানান, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল থেকে তারা বেশকিছু আলামত সংগ্রহ করেছেন। এসব আলামত ও বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে তারা তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদকে শনিবার সন্ধ্যায় প্রত্যাহার করে দিনাজপুর পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় মেলায় বোমা বিস্ফোরণ বিষয়ে ওই আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপাল বলেন, যারা এদেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়, যারা বাঙালীর শিল্প সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে চায়, তারাই পরিকল্পিতভাবে এ বোমা হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে দলমত নির্বিশেষে দেশ থেকে জঙ্গীবাদের শিকড় উপরে ফেলার। এমপি গোপাল রবিবার দুপুরে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বোমা বিস্ফোরণে আহত ৬ জনকে দেখতে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আহত ব্যক্তিদের আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

ঐতিহাসিক কান্তনগর মন্দির চত্বরে শুক্রবার রাতে যাত্রা প্যান্ডেলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্দিরের আশপাশের সব গ্রামে বসবাসরত অধিকাংশ জনগোষ্ঠী হলো জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত। ১৯৪৫ সালে দেশ বিভাগের পর ভারতের মালদহ জেলা থেকে ওসব ভাসমান জনগোষ্ঠী দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্তনগর এলাকায় আস্তানা গেড়ে বসে। তারা কান্তজিউ মন্দিরের নামে দানকৃত জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। ক্রমে ক্রমে ওসব জনগোষ্ঠী মন্দিরের ২শ’ ৫০ একর জমির মধ্যে ২শ’ ৩৭ একর জমি অবৈধভাবে দখল নিয়ে বসবাস ও চাষাবাদ শুরু করে। এ বছরের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে কান্তজিউ মন্দির কমিটি বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। একপর্যায়ে অবৈধ দখলদারদের সঙ্গে মন্দির কমিটির লোকজনদের বেশ কয়েকবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। সে সময় জামায়াত ও বিএনপি জেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার অবৈধ দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায়। দিনাজপুর রাজদেবোত্তর স্টেটের পক্ষ থেকে মন্দিরের জমি উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। প্রেরিত চিঠিতে কান্তজিউ মন্দিরের নামে জমি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এ চিঠির খবর অতিরঞ্জিত করে জামায়াতের কয়েকজন নেতা ওই এলাকায় বসবাসরত লোকজনদের মাঝে প্রচার করে। যার ফলে ওই এলাকার লোকজনদের মধ্যে উচ্ছেদের ভীতি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা যে কোন পন্থায় উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারপর থেকে শুরু হয় ষড়যন্ত্র। জানা যায়, রাসমেলা শুরু হওয়ার বেশ কিছুদিন আগে থেকে ওই এলাকায় অজানা লোকজনের আনাগোনা বেশ চোখে পড়ে।