২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি আপাতত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে ॥ নাসিম

  • নুরুল ইসলামের স্মরণসভা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আমাদের সমাজে একশ্রেণীর নিরপেক্ষ মহল আছেন, যারা এ কুলও খাবে, আবার ও কুলও খাবে। এরাই নিরপেক্ষ। তাদের নিয়েই আমার সবচেয়ে বেশি ভয়। কারণ বিএনপি এসব নিরপেক্ষ লোকদের সাহায্য নিয়ে এগোতে চায়। রবিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) গেমস রুমে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলামের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভার আয়োজন করে নাগরিক কমিটি। এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুরুল ইলাহী, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী, মরহুম নুরুল ইসলামের সহধর্মিণী কবি রুবি রহমান, ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

বিএনপি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এখনও তৎপর রয়েছে। তবে পরাজিত হয়ে আপাতত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। আমাদের সমাজে ‘নিরপেক্ষ’ লোক আছে, তাদের নিয়ে বিএনপি এগোতে চায়। তবে সাহস পাই এখনও মুক্তিযুদ্ধের শক্তি পাশে আছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়েছি দাবি করে নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর দীর্ঘ সময় ছিল যখন আমরা বিচারও চাইতে পারতাম না। কয়েক বছর আগে কেউ ভাবতেও পারেনি কাদের মোল্লা-মুজাহিদ-সাকার বিচার এবং ফাঁসি হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা সম্ভব হয়েছে। আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছি। কেউ এখন বলতে পারবে না, আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি। এ সময় তিনি নুরুল ইসলাম হত্যাকা-ের বিচারের আশ্বাস দিয়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে বলে জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, যারা নুরুল ইসলামের বিরেইধতা করত, তিনি তাদেরও তাঁর কাছের মানুষে পরিণত করেছিলেন সততা ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে। কিন্তু নুরুল ইসলাম ও তাঁর ছেলের মৃত্যুর কোন সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ আছে। এটাকে আমরা মৃত্যু বলব না, হত্যাই বলব। আমরা আশ্বাস পাচ্ছি সরকার এ হত্যার বিচার করবেন। আশা করি দ্রুত এর সুরাহা হবে। রাশেদ খান মেনন বলেন, হত্যাকা-ের পর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচারের আশ্বাস দিলেও এখনও হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচন হয়নি। তদন্তের কোন অগ্রগতি নেই। যদি প্রচ- রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা যায় তবে তদন্তের কার্যক্রমের অগ্রগতি ঘটবে। এ সময় বিচার চাওয়ার পাশাপাশি মরহুম নুরুল ইসলামের স্মৃতিগুলো ধরে রাখতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আমাদের মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবেন বলে মন্তব্য করেন। অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, নুরুল ইসলামের ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকা- এতে কোন ধরনের সন্দেহ নেই। যতদিন এ হত্যাকা-ের বিচার হবে না ততদিন ক্ষোভ, দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি বিচার চাইতে থাকব। একসময় এ হত্যাকা-ের বিচার অবশ্যই হবে। উল্লেখ্য, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিজের ফ্ল্যাটে রহস্যজনক অগ্নিকা-ে নিহত হন গণতন্ত্রী পার্টির তৎকালীন সভাপতি ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম এবং তাঁর ছেলে ইসলাম তমোহর। ওই নির্বাচনে নোয়াখালীর একটি আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের প্রার্থী ছিলেন তিনি।