২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচন কমিশন দলীয় ভূমিকা পালন করছে ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচন কমিশন দলীয় ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পাঁচদিন পর রবিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিএনপি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক স্পেস না থাকলে জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সকল গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হলে জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা সম্ভব।

এর আগে অনেক দিন পর রবিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করলে দলের নেতারা তার হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কিছুক্ষণের মধ্যেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বিএনপি কার্যালয় সরগরম হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ। উল্লেখ্য, ১ ডিসেম্বর নাশকতার তিন মামলায় কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর থেকে তিনি উত্তরার বাসায় অবস্থান করলেও দলীয় কার্যালয়ে যাননি। অবশ্য রবিবার মির্জা ফখরুলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়ার আগাম সংবাদ আগের দিনই দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এবারের ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও আগে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন যেমন হয়েছে ঠিক তেমনি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, আমাদের নির্বাচন কমিশন প্রথম থেকে যে ভূমিকা পালন করছে, তা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নয়। তাই পৌর নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে, কতটা অবাধ হবে তা খুব স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন একটু চেষ্টা করলেই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোর সময়ে তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পৌর নির্বাচনে নিরপেক্ষতার চিহ্নমাত্র দেখতে পাচ্ছি না। অপরদিকে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের যে বিধি দিয়েছে তাতেও নিরপেক্ষতার চিহ্ন নেই। এরপরও জনগণ ভোট দিতে পারলে এবং বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রচার চালাতে পারলে অবশ্যই আমরা ভাল করব। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার, মৌলিক অধিকার ও দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই বিএনপি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট সময় না দিয়ে খুব তাড়াহুড়ো করে নির্বাচনের বিভিন্ন বিধি তৈরি করায় সব দলের পক্ষে ভোটের প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হয়নি।

শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি খুব একটা ভাল নেই, তবে চলার মতো আছি। কারাগারে গেলে ওজন কমে যায়, সমস্যাও হয়। প্রতিমাসে রক্ত পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন। সে জন্য চেকআপের জন্য দেশের বাইরে যেতে হয়। ২৪ নবেম্বর একটি ডেট ছিল। কিন্তু তখন মুক্তি পাইনি। নতুন তারিখ এখনও পাইনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গত এক বছরে ৫৫ জন রাজনৈতিক নেতা গুম হয়েছেন। এছাড়া অনেকেই নিহত, আহত ও বিনা কারণে কারাবরণ করেছেন। যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র না থাকায় দেশে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের অভাব এবং মত প্রকাশের সুযোগ না থাকলে উগ্রবাদের আশঙ্কা থাকে। দেশে কিছু গুপ্তহত্যা হয়েছে। এ কারণে দেশে-বিদেশে এমন একটি অবস্থা তৈরি হয়েছে, যাতে দেশ সত্যিকার অর্থেই একটি বিপন্ন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। আজকে বিভিন্ন জায়গায় প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে কি জঙ্গীবাদের উত্থান হচ্ছে বা সেখানে কি ‘মিলিটারিসি’ শুরু হয়েছে? এগুলো আমাদের খুব ভাবিয়ে তুলেছে। তাই সবাইকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। বর্তমানে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। দেশে যে বিপদ এবং রাজনৈতিক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তাতে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। তাই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সেই আহ্বান সামনে রেখে সমগ্র জাতির আজ ঐক্যবদ্ধ হওয়া বড় প্রয়োজন।