২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যালিফোর্নিয়া হত্যাকাণ্ড

ইসরাইল ফ্রান্স জাপানের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা বেশি- এমন বক্তব্য খোদ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের চার্লসটনে কৃষ্ণাঙ্গদের গির্জায় ঢুকে গুলি করে নয়জনকে হত্যাকা-ের পরিপ্রেক্ষিতে এক টুইটার বার্তায় আমেরিকায় বন্দুক হামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলেন তিনি। সে সময় টুইটার এ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওবামার পোস্টে বলা হয়, মাথাপিছু জনসংখ্যার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় ২৯৭ জনকে হত্যা করা হয়, যা জাপান, ফ্রান্স ও ইসরাইলের চেয়ে বেশি। চলতি বছর দু’দফায় প্যারিসে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি সতর্কাবস্থা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় সংঘটিত হত্যাকা-ের ঘটনাকে সন্ত্রাসীদের পূর্ব-পরিকল্পিত কাজ বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে। সত্যি বলতে কি, ইউরোপে একের পর এক সন্ত্রাসী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রেও ‘গৃহ কোণে বেড়ে ওঠা’ জঙ্গীবাদী সন্ত্রাসীদের নিয়ে উদ্বেগ চরমে। ২০১১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দেশীয় সন্ত্রাসীদের উত্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নিউইয়র্কের টাইম স্কোয়ারে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণসহ কয়েকটি ঘটনায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ সচকিত হয়ে ওঠে। এসব ঘটনায় অন্তত কিছু মুসলমান যুবকের জঙ্গী ভাবাদর্শে লিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী কাজে জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছিল সেনা ছাউনিতে নির্বিচারে গুলি ছোড়া, বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলা ইত্যাদি। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক কোন সম্পৃক্ততা অবশ্য পাওয়া যায়নি। জঙ্গী নেতাদের বক্তব্যে প্রভাবিত হয়ে এরা নিজেরাই সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। অর্থাৎ এদের কোন সংগঠন নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। পারিবারিক পরিবেশ, ব্যক্তিগত হতাশা, সমাজ বিচ্ছিন্নতা, বিভ্রান্তিসহ ধর্মীয় উন্মাদনাকে এসব জঙ্গীর উত্থানের কারণ বলে মনে করছেন পশ্চিমা সমাজ বিশ্লেষকরা। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে মুসলমানদের ওপর নজরদারির অভিযোগ উঠেছে আগে থেকেই। তবে মসজিদসহ মুসলমানদের স্থাপনায় সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি সত্ত্বেও গৃহকোণে বেড়ে ওঠা জঙ্গীদের উত্থান যে ঠেকানো যাচ্ছে না তারই প্রমাণ ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক হামলা।

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল-কলেজে গুলিবর্ষণের বিষয়টি প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের রক্তাক্ত অধ্যায়ের সর্বশেষ সংযোজন ওরেগন হত্যাকা-। তথ্যানুযায়ী ২০১২ সালের স্যান্ডি হুক হত্যাকা-ের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১৪২টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আর সবমিলিয়ে ২০১৫ সালেই নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় তিন শ’ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এসব হামলার মধ্যে ৪৫টি সংঘটিত হয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

বুধবার বার্নার্ডিনোতে সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জঙ্গী যোগসূত্র থাকার প্রমাণ এখনও মেলেনি। তাই এটি অভ্যন্তরীণ উগ্রপন্থীদের কাজ, নাকি আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনের সন্ত্রাসী হামলা- এটি নিশ্চিত করে বলা না গেলেও ওই ঘটনার ফলে ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ১৪ জন সাধারণ নাগরিক, আহতের সংখ্যা একুশ। ক্ষুদ্র বা বৃহৎ- যে পর্যায়েই সন্ত্রাস পরিচালিত হোক না কেন তার চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই। মানুষ জীবন পায় একবারের জন্যই, সেই জীবন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে অকালে যাতে ঝরে না যায় বিশ্ববাসীর সেটাই প্রত্যাশা। সন্ত্রাসবাদ মানবতার শত্রু হিসেবেই শনাক্ত হয়। বিশ্বের শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সব সময়েই সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে। বিশ্বনেতাদের কর্তব্য হচ্ছে এই গ্রহ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করার জন্য সম্মিলিতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া, সন্ত্রাস উস্কে দেয়া নয়।