২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুচি ভবিষ্যত নেতা ॥ সাবেক সেনাশাসক থান শোয়ে

মিয়ানমারের সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল থান শোয়ে আউং সান সুচিকে এক সময়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সুচিকে দেশের ভবিষ্যত নেতা হিসেবে দেখছেন। এক গোপন বৈঠকে তিনি সুচির প্রতি সমর্থন প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। সাবেক এই জেনারেলের নাতি নেই শোয়ে থোউ আউং এ কথা বলেছেন। খবর বিবিসির।

সুচি ও শোয়ের মধ্যকার শুক্রবার অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন শোয়ের নাতিই। নে শোয়ে বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, বৈঠকটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছে। মিয়ানমারে নবেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) বিপুল বিজয় অর্জন করেছে। দলটি প্রায় ৮০ শতাংশ আসন পেয়েছে। মিয়ানমারে গত ২৫ বছরে এটাই প্রথম অবাধ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন। এখন নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশটির সেনা সমর্থিত প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও প্রভাবশালী সেনাপ্রধান মিন আউং হলাইংয়ের সঙ্গে গত সপ্তাহে বৈঠক করেন সুচি। এই আলোচনাকে উষ্ণ ও খোলামেলা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এবার সুচির বৈঠক সাবেক সেনাশাসক থান শোয়ের সঙ্গে। ৮০ বছর বয়স্ক জেনারেল থান শোয়ে দেশের রাজনীতিতে এখনও ব্যাপক প্রভাব রাখেন। তিনি ২০১১ সালে সেনা প্রধানের পদ ছাড়েন। ওই সময়ে দেশটির সামরিক সরকার একটি কথিত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। জেনারেল শোয়ের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত থেইন সেইন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। নে শোয়ে বলেন, জেনারেল থান শোয়ে বৈঠকে বলেছেন, নির্বাচনে জয়ের পর সুচি যে মিয়ানমারের ভবিষ্যত নেতা হবেন, এই বাস্তবতা সবাইকে স্বীকার করতে হবে এবং তার প্রতি আমার যথাসাধ্য সমর্থন থাকবে। দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার ব্যাপারে সুচির রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতা। সংবিধানে রয়েছে, কারও সন্তান বিদেশী নাগরিক হলে তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না এবং সুচির সন্তানরা বিদেশী নাগরিক। তাই এটা স্পষ্ট নয়, শোয়ের মন্তব্য সুচির সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারা পরিবর্তনের কোন প্রতিশ্রুতি কিনা আর সুচিকে ভবিষ্যত নেতা বলতে আসলে কি বোঝানো হয়েছে, তাও স্পষ্ট নয়।