১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরে চালু হলো ই-জিপি

  • টেন্ডার ডকুমেন্ট অনলাইনে সংগ্রহ দাখিল করা যাবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরে চালু করা হয়েছে ‘ইলেক্ট্রনিক পরিচালনা পদ্ধতিতে সরকারী ক্রয় কার্যক্রম (ই-জিপি)। রবিবার কার্যক্রমটির উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সরকারী ক্রয়কার্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের বাস্তব বহির্প্রকাশই হলো ‘ই-জিপি’। এই সিস্টেমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় পুরো প্রক্রিয়াটিই কাগজবিহীন। অনলাইন মূল্যায়ন কার্য সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় এটি একটি অবাঞ্চিত ও অনৈতিক চাপমুক্ত প্রক্রিয়া। এ সিস্টেমে কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না বলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব। দেশে সুশাসনের ভিত্তি মজবুত রাখতে এ প্রক্রিয়া খুবই সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

রবিবার পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে ই-জিপি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অধিদফতরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিচালক (উপকরণ ও সরবরাহ) আব্দুস সালাম সরকার এবং ই-জিপি বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন পরিচালক (এমআইএস) আব্দুল মান্নান ইলিয়াস। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী চিন্তা-চেতনা ও উজ্জীবিত নেতৃত্বে বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। পেছানোর সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন বয়ে আনার পুরস্কারস্বরূপ একের পর এক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়ন। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত । স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ই-জিপি কার্যক্রম চালু করার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়ন একধাপ এগিয়ে কেনাকাটা। ক্রয়সংক্রান্ত নিয়ে গড়ে ওঠা তথাকঠিত ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটা মুছে যাবে। বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে মারামারি, দলাদলি থেকে শুরু করে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটবে না। এতে সংশ্লিষ্ট সেক্টরের জনবলের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কর্মপরিবেশ থাকবে শৃঙ্খলাপূর্ণ। স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ক্রয়কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়নে যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে। এভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন্যান্য বিভাগও এ সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদার বলেন, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ‘ভিশন-২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্গত পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরে এ পদ্ধতিতে সরকারী ক্রয় কার্যক্রম চালু করতে পেরে তৃপ্তি পাচ্ছি। এ কার্যক্রম সফল করে তোলার পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিবের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ সিস্টেম চালু হওয়ায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি সিপিটিইউ নিবন্ধিত সকল দরদাতার কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যায়, যা দরপত্র বিজ্ঞপ্তির প্রচার নিশ্চিত করে। কোন প্রকার বাধা-বিপত্তি ছাড়া ঘরে বসে দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টা টেন্ডার ডকুমেন্ট অনলাইনে সংগ্রহ এবং দাখিল করা যাবে। যেহেতু বেশ কিছু দিনব্যাপী ‘প্রি-টেন্ডার মিটিং’ অনুষ্ঠিত হয়, সেহেতু দরদাতা ও ক্রয়কারীর মধ্যে দরপত্র বিষয়ে কোন প্রকার অস্পষ্টতা থাকলে তা অনলাইনে পরিষ্কার করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা পুলিশ বাহিনীর কোন প্রকার উপস্থিতি ছাড়া নির্বিঘেœ দরপত্র উন্মুক্তকরণ ও দাখিল করা যাবে। অডিট কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছ।

নির্বাচিত সংবাদ