২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরিশালকে লজ্জা দিল সিলেট

বরিশালকে লজ্জা দিল সিলেট
  • হতাশ করলেন গেইল

মিথুন আশরাফ ॥ কী আত্মবিশ্বাস, কী বড় বড় কথা তার। ঢাকায় আসার আগেই বলেছেন, ‘আরেকটি (শতক) ধরে রাখা।’ আর ঢাকায় এসে পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছিলেন, ‘প্লান শুধুই ছক্কা হাঁকানো।’ কোন কথাই সিলেট সুপার স্টারসের বিপক্ষে ম্যাচে ক্রিস গেইলের টিকল না। একটা ছক্কা হাঁকালেন ঠিক, কিন্তু ৮ রানেই সাজঘরে ফিরলেন! গেইলের এমন দুর্দশা যেন বরিশাল বুলসকেও ঘিরে ধরল। মাত্র ৫৮ রানেই অলআউট হয়ে গেল বরিশাল! বিপিএলে যা কোন দলের সর্বনিম্ন রান! বরিশালকে লজ্জা দিয়ে ৬২ রান করে ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল সিলেট। সেই সঙ্গে শেষ চারে ওঠার আশাও জিইয়ে রাখল।

একদিকে টি২০’র সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ক্রিস গেইলের ছোঁয়ায় লজ্জা পেল বরিশাল বুলস। আরেকদিকে শহীদ আফ্রিদির ছোঁয়ায় হারের গোলকধাঁধা থেকে মুক্তি মিলল সিলেটের। দলের চেহারা যেন পুরোই বদলে গেল। কী আত্মবিশ্বাস যুক্ত হলো ক্রিকেটারদের মধ্যে! ৬ ম্যাচে ১ জয় নিয়ে যে অস্বস্তিতে ছিল দলটি, দলের ক্রিকেটাররা; তা এখন ৭ ম্যাচে ২ জয়ে পরিণত হলো। মুশফিকুর রহীমের কাছ থেকে নেতৃত্ব নিজের কাঁধে বুঝে নিয়েই দলকে জেতালেন শহীদ আফ্রিদি।

ম্যাচে টস জিতে সিলেট। টস করতে আসেন শহীদ আফ্রিদি। তখনই বোঝা যায় আফ্রিদিই অধিনায়ক। টস জিততেই আফ্রিদির মুখে হাসি দেখা যায়। সেই হাসি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও থাকে। আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ‘বুমবুম’ আফ্রিদি। টস যখন হয়, তখন নেতৃত্ব নেয়ার বিষয়টি খোলাসা করেন আফ্রিদি। বলেন, ‘মুশফিক স্বস্তি (অধিনায়কত্ব নিয়ে) পাচ্ছিল না। দলের মালিকের সঙ্গে এ নিয়ে কথাও বলেন। তাই আমি দায়িত্ব নেই।’ সেই দায়িত্ব নিয়েই জয়ের মুখ দেখেন।

শুরু থেকেই চাপে থাকে বরিশাল। যে দলটি ৬ ম্যাচের ৫টিতেই জিতে, সপ্তম ম্যাচে এসে এমনভাবে ভেঙ্গে পড়ে! কাররই বিশ্বাস হচ্ছিল না। কী এমন হলো যে এমন মুছড়ে পড়ল বরিশাল? সেই প্রশ্নও উঠে। দুইজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেন। মোহাম্মদ সামি শেষদিকে ১৬ রান করেন। এর আগে শুরুতেই এভিন লুইস ১২ রান করেন। দলে গেইল, লুইস, রনি তালুকদার, মেহেদি মারুফ, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান রুম্মনের মতো ব্যাটসম্যানরা থাকতেও কিছুই করতে পারল না বরিশাল। যে ওপেনিং জুটিকে ধরা হচ্ছিল, এবারের সেরা, আকর্ষণীয় জুটি হবে; সেই গেইল-লুইস জুটি ১৫ রানেই শেষ! গেইলকে নিয়েই মূলত সব ভরসা করা হয়েছে। অথচ তিনিই ব্যর্থ। সেই ব্যর্থতায় বরিশাল ১৬ ওভারে ৫৮ রান করতেই অলআউট হয়ে গেল। এর আগে বিপিএলে দলীয়ভাবে সবচেয়ে কম রান করেছিল খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস। ২০১৩ সালে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে চিটাগাং কিংসের বিপক্ষে ৬৭ রানে অলআউট হয়েছিল। সেই লজ্জাকেও এবার ছাপিয়ে গেল বরিশাল।

রবি বোপারা ৪ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। দশম ওভারেই ৩ উইকেট নেন বোপারা। আফ্রিদি তো অসাধারণ বোলিং করেন। ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ৫ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। বিপিএলের ইতিহাসে ৪ ওভার বল করে সবচেয়ে কম রান আফ্রিদিই দিয়েছেন। ইকোনমিক রেটের দিক দিয়ে সবার উপরে আফ্রিদিই। ইকোনমিক ১.২৫। এ রেকর্ডে দ্বিতীয় সেরা হচ্ছেন জেকব ওরাম। ২০১৩ সালে চিটাগাংয়ের হয়ে ঢাকার বিপক্ষে ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন ওরাম। ইকোনমিক-১.৭৫। গেইলকে আউট করার সঙ্গে মোহাম্মদ শহীদ ও রুবেল হোসেন ২ উইকেট করে নেন।

ম্যাচ যে জিতবে সিলেট, তা বরিশালের ইনিংস শেষ হতেই সবাই নিশ্চিত হয়ে যায়। ১১.২ ওভারে জুনায়েদ সিদ্দিকীর অপরাজিত ৩৪ ও নুরুল হাসানের অপরাজিত ২৩ রানে ১ উইকেট হারিয়ে ৬২ রান করে ম্যাচ জিতে যায় সিলেট। মনে করা হচ্ছিল ১০ উইকেটেই জিতবে সিলেট। কিন্তু রানের খাতা খোলার আগেই দিলশান মুনাভিরাকে আউট করে দেন মোহাম্মদ সামি। এরপর আর কোন উইকেটই হারায়নি সিলেট। জুনায়েদ-নুরুল মিলেই ম্যাচ শেষ করেন। যে বরিশাল এত দাপট দেখিয়ে খেলেছে, রবিবার সিলেটের কাছে এসে সব দাপট শেষ হয়ে গেছে। বরিশালকে শুধু লজ্জা দিয়ে হারায়নি সিলেট, প্রথম লেগে হারের প্রতিশোধও নিয়েছে।