২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যে কারণে মুশফিকের পরিবর্তে অধিনায়ক আফ্রিদি

মোঃ মামুন রশীদ ॥ অধিনায়কত্ব নিয়ে এর আগেও বাড়তি চাপ অনুভব করেছেন। একইসঙ্গে উইকেটরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন, দলের অপরিহার্য ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাটিংয়ে চাপ এবং দলকে নেতৃত্ব দেয়া। এ কারণে গত বছর নবেম্বর-ডিসেম্বরে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে হোমসিরিজে ওয়ানডে ও টি২০ অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে শুধু টেস্টের নেতৃত্বে রাখা হয়েছিল মুশফিকুর রহীমকে। চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি২০ আসরে সিলেট সুপার স্টারসকে ৬ ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়ার পর দলীয় বাজে নৈপুণ্যের কারণে পাকিস্তানী অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদিকে অধিনায়ক করা হয় রবিবার দলটির সপ্তম ম্যাচে। এর কারণ হিসেবে টসের সময় আফ্রিদি দাবি করেছিলেন অধিনায়ক হিসেবে স্বস্তি পাচ্ছিলেন না তাই সরে গেছেন মুশফিক। আর ম্যাচ শেষে দলের কোচ সারোয়ার ইমরান সংবাদ সম্মেলনে দাবি করলেন চাপ থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন মুশফিক নিজেই। সে কারণে দলের মালিকপক্ষই আফ্রিদিকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

টানা ৬ ম্যাচে একেবারেই বাজেরকমের ছিল সিলেট সুপার স্টারসের নৈপুণ্য। এক ম্যাচে জিতেছে তারা মুশফিকের নেতৃত্বে। দলের আইকন এ ক্রিকেটার অবশ্য ব্যক্তিগত পারফর্মেন্সে দারুণ ধারাবাহিক। কিন্তু দলকে নেতৃত্ব দেয়ার আত্মবিশ্বাসটাই হারিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিক। এ বিষয়ে রবিবার টসের সময় আফ্রিদি বলেন, ‘মুশফিক ঠিক স্বস্তি পাচ্ছিলেন না এবং সেটা দলের মালিককে বলেন। কারণ হিসেবে শেষ ৬ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়াটাকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি।’ এর আগেও বাংলাদেশের নৈপুণ্যে হতাশ হয়ে জাতীয় দলের নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন মুশফিক। ২০১৩ সালের এপ্রিল-মে মাসে জিম্বাবুইয়ে সফরে মুশফিকের নেতৃত্বে টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করার পর ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। সে সময় একেবারেই ক্ষণভঙ্গুর একটি দল জিম্বাবুইয়ে। তাই হতাশায় সফরের মাঝপথেই সিরিজ শেষে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন মুশফিক। সে সময় বলেছিলেন, ‘দলের ক্রিকেটারদের ওপর আমার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। আমি এই চাপ সইতে পারছি না।’ অবশ্য পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হস্তক্ষেপে নেতৃত্বে বহাল থাকেন মুশফিক। কিন্তু গত বছর ডিসেম্বরে নানামুখী চাপ (ব্যাট হাতে বাজে নৈপুণ্য, দলের টানা পরাজয় এবং উইকেটরক্ষক হিসেবে বাজে ফর্ম) কমাতে ওয়ানডে ও টি২০ নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয় মুশফিককে।

এখনও বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিক। কিন্তু জাতীয় দলের নেতৃত্বে থাকা এবং বিপিএলে সুপার স্টারসের আইকন হওয়া সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা দিল তার। কোনভাবেই দলকে বাজে ফর্ম থেকে ফেরাতে পারছিলেন না। ৬ ম্যাচে দলকে জেতাতে পেরেছেন মাত্র এক ম্যাচ। সে কারণেই রবিবার নিজেদের সপ্তম ম্যাচে সুপার স্টারসকে নেতৃত্ব দিলেন আফ্রিদি। এ বিষয়ে দলের কোচ সারোয়ার বলেন, ‘আমি যতদূর জানি আর কি, শুনেছি, শিওর না, মুশফিক নিজে থেকেই বলছে অধিনায়কত্ব বদল করলে ভাল হয়, কারণ এত চাপ। একটা ছেলে কিপিং করছে, ক্যাপ্টেন্সি করছে, সামনে দিয়ে উইকেট পড়ছে দুটো ১ রানে হার, একটি ৬ রানে হার। ও একটু মুক্তি চাচ্ছিল। শহীদ আফ্রিদি মুশফিককে বলেছিল অধিনায়কত্ব চালিয়ে যেতে, তবে মুশফিক বলেছে আফ্রিদিকে করতে। সামনাসামনি মিটিংয়ে কথা হয়েছে। সে চাচ্ছে বিপিএলে এবার আর অধিনায়কত্ব না করতে। নতুন অধিনায়ক সেভাবেই দলকে উজ্জীবিত করেছে। মুশফিক পুরো সহায়তা করেছে। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল, আফ্রিদিকে শতভাগ সহায়তা করবে মুশফিক ও রবি বোপারা। বোলিং পরিবর্তন থেকে শুরু করে সবকিছু মুশফিকের সঙ্গে আলোচনা করেই করেছে। বোপারাও অনেক অভিজ্ঞতা আছে এখানে খেলার। এ জন্যই আমি পরিকল্পনা দিয়েছি তিনজন মাঠে অধিনায়কত্ব করবে। অফিসিয়ালি অধিনায়ক আফ্রিদি।’