২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রংপুর ৬ উইকেটে জয়ী, হারের বৃত্তেই ঢাকা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে প্রথম লেগেও জিতল রংপুর রাইডার্স। ফিরতি লেগেও রবিবার ৬ উইকেটের জয় তুলে নিল। এ জয়ে ৮ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট হয়ে গেল রংপুরের। শেষ চারে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা তৈরি করে রাখল। কিন্তু ঢাকা বিপাকে পড়ে থাকল। ৭ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট পেয়েছে ঢাকা। এখনও শেষ চারে স্থান করে নেয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সেই নিশ্চয়তা এখনই মিলছে না। হারের বৃত্তেই যে আটকে আছে ঢাকা। চট্টগ্রামে টানা দুই ম্যাচে হারের পর ঢাকাতেও হেরেছে ঢাকা। টানা তিন ম্যাচে হারল।

দিনের প্রথম ম্যাচে বরিশাল ৫৮ রানেই অলআউট হয়। মনে হয়েছিল, দ্বিতীয় ম্যাচেও কম স্কোর হবে। অনেক বেশি রান হয়নি। তবে যে রান স্কোরবোর্ডে জমা করেছে ঢাকা, তা কম নয়। নাসির হোসেনের ৩০, সাঙ্গাকারার ২৯ রানে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান করে। আরাফাত সানি ২ উইকেট নেন। অবশ্য এ রান অতিক্রম করতে গিয়ে খুব বেশি সমস্যা হয়নি রংপুরের। ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮.২ ওভারে ১৩৬ রান করে জয় তুলে নেয় রংপুর।

রংপুরের শুরুটা দুর্দান্ত হয়। সৌম্য সরকার ও লেন্ডল সিমন্স মিলে ভাল ব্যাটিং করতে থাকেন। ৩৮ রানে গিয়ে সৌম্য (২১) আউট হন। এরপর ৫৫ রানে সিমন্সের (১৮) উইকেটও পড়ে। জিততে যখন ৫৪ বলে ৬২ রানের প্রয়োজন এমন সময়ে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে কট এ্যান্ড বোল্ড হন সাকিব (৮)। দল চাপে পড়ে যায় এবার। জহুরুল ইসলাম অমি ও ড্যারেন সামি মিলে মুহূর্তেই সেই চাপ দূর করেন। বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন। একটা সময় গিয়ে ৩০ বলে রংপুরের জিততে ২৩ রান প্রয়োজন থাকে। যেখানে বলের চেয়ে রান বেশি ছিল, জহুরুল-সামি জুটি মিলে রান কমিয়ে আনেন। বল বেশি থাকে। জিততে যখন ২৫ বলে ১৭ রানের প্রয়োজন, এমন সময়ে গিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে লম্বা বোলার, ৭ ফুট ১ ইঞ্চির মোহাম্মদ ইরফানের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড আউট হন সামি (২৩)। জহুরুল ও সামির জুটিও (৪৫ রানের জুটি) ভেঙ্গে যায়। এবার জহুরুলের সঙ্গে যুক্ত হন থিসারা পেরেরা। ১৮ বলে জিততে ৯ রানের দরকার থাকে। রংপুরের জয় যেন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। শেষে ১০ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় রংপুর। জহুরুল ৩৫ রানে ও পেরেরা ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে এ ম্যাচে ২৩টি রান অতিরিক্ত থেকে আসে। সেটিও সবার নজরে বিশেষ করে এসেছে।

টস জিতে ব্যাটিং করে ৩৯ রানেই ৩ উইকেট হারায় ঢাকা। বিপদে পড়ে যায়। সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা ও সহ-অধিনায়ক নাসির হোসেন। দুইজন মিলে ৪৫ রানের জুটি গড়ে দলকে ৮৪ রানে নিয়ে যেতেই আবার বিপত্তি ঘটে। সাঙ্গাকারা (২৯) রান আউট হয়ে যান। ১৩.৪ ওভারে আরাফাত সানির বলে সাঙ্গাকারার একটি ক্যাচ মিস হয়। সেই সুযোগটি মুহূর্তেই হাতছাড়া হয় সাঙ্গাকারার। পরের বলে মিডঅনে বল ঠেলে দিয়েই এক রান নিতে যান। মিড অনে থাকা সাকিব বল ধরেই সরাসরি উইকেটের উদ্দেশে মারেন। রান আউট হয়ে যান সাঙ্গাকারা। দুর্দান্ত থ্রো করেন সাকিব। সাঙ্গাকারা আউটের পর ঢাকা যেন খাদের কিনারাতেই পড়ে যায়। সেখান থেকে দলকে একটু এগিয়ে নিয়ে যান নাসির। ডয়েশচেট নেমেই ৬ রান করে আউট হয়ে যান। ১০১ রানে নাসিরও (৩০) আউট হন। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও (১৩) চেষ্টা করেন। কিন্তু ভুল করে রান আউট হয়ে যান। দল অনেক চেষ্টার পর ১৩৫ রান করে। খুব ভাল বল না করলে যে এ রান করে জয় সম্ভব নয়, তা বোঝাই গেছে। শেষে তাই হয়েছে।