১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ গাইবান্ধা, মাগুরা ও শেরপুর হানাদারমুক্ত দিবস

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ আজ গাইবান্ধা ও মাগুরা হানাদারমুক্ত দিবস। এছাড়া বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, ফেনী, বীরগঞ্জ ও কলাপাড়া মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।

গাইবান্ধা ॥ ৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা হানাদারমুক্ত দিবস। এ দিনে কোম্পানি কমান্ডার মাহবুব এলাহী রঞ্জুর (বীরপ্রতীক) নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের কালাসোনার চর থেকে বালাসীঘাট হয়ে গাইবান্ধা শহরে প্রবেশ করে। এ খবর পেয়ে আগের রাতেই পাকবাহিনী তল্পিতল্পা গুটিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্টের উদ্দেশে পালিয়ে যায়। মুক্ত দিবস উপলক্ষে সোমবার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে শহরে র‌্যালি, দোয়া খায়ের, আলোচনা সভা।

মাগুরা ॥ ৭ ডিসেম্বর মাগুরা মুক্ত দিবস। এ উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ড বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে বিজয় র‌্যালি, সৈয়দ আতর আলী পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল। দিবসটি মাগুরাবাসীর কাছে আনন্দের ও গর্বের। এ দিনে মাগুরায় উঠেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। জয়বাংলা ধ্বনিতে চারিদিক মুখরিত হয়ে উঠেছিল। যশোর পাকহানাদার মুক্ত হওয়ার পর পাকিস্তানী সেনারা যশোর ত্যাগ করে মাগুরার দিকে অগ্রসর হয়। মুক্তিবাহনী ও মিত্রবাহিনীর আক্রমণে পাকিস্তানী সেনারা মাগুরা ত্যাগ করে কামারখালী হয়ে ফরিদপুরের পালিয়ে যায়।

কুড়িগ্রাম ॥ র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কুড়িগ্রাম।

রবিবার সকাল ১০টায় শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে স্বাধীনতার বিজয় স্তম্ভে এসে পুষ্পমাল্য অর্পণসহ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু, ডেপুটি কমান্ডার আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ লাল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল বাতেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক শ্যামল ভৌমিক, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি জ্যোতি আহমদ, সাধারণ সম্পাদক দুলাল বোস, মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি রওশন আরা চৌধুরী ও নারী নেত্রী সুব্রতা রায় প্রমুখ।

ঝিনাইদহ ॥ রবিবার সকালে শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের এক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহর ঘুরে উজির আলী হাইস্কুল মাঠে গিয়ে এক সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মকবুল হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হাই এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও পৌরমেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি এমপি, আনোয়ারুল আজিম আনার এমপি, জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ প্রমুখ। জেলা সমস্ত মুক্তিযোদ্ধা এ সমাবেশে অংশ নেন।

ফেনী ॥ মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক র‌্যালি নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে আনলাচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন ১০ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাফর ইমামের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ভোররাতে ফেনী প্রবেশ করে। ৬ ডিসেম্বর ভোরে ফেনীর আকাশে লাল সবুজের পতাকা ওড়ে।

দিনাজপুর ॥ ব্যাপক কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে পালিত হলো বীরগঞ্জ শত্রুমুক্ত দিবস। রবিবার বেলা ১১টায় বীরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরির আয়োজনে বীরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শেষে পুরাতন শহীদ মিনার মোড়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যক্ষ খয়রুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম, গোপাল দেব শর্মা, আমিনুল ইসলাম মিন্টু, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, লতিফুর রহমান, রোকনুজ্জামান বিপ্লব প্রমুখ।

কলাপাড়া ॥ রবিবার বেলা ১১টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে সংসদ কার্যালয়ে কমান্ডার বদিউর রহমান বন্টিনের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব তালুকদার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক হাবিবুল্লাহ রানা, এসএম নাজমুল হুদা সালেক, আবুল কালাম আযাদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মাসুম খান।

শেরপুর ॥ ৭ ডিসেম্বর; শেরপুর পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সহায়তায় বাংলার সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধারা শেরপুর অঞ্চলকে শত্রুমুক্ত করে। এদিন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার ও মিত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা হেলিকপ্টারযোগে শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌরপার্ক মাঠে অবতরণ করেন। এ সময় শেরপুরের মুক্তিকামী ছাত্রজনতা জেনারেল অরোরাকে সংবর্ধনা দেন।