২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রান্নাঘরের টুকিটাকি

কোন মানুষের রুচি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য তার বাড়ির রান্নাঘর পরিদর্শনই যথেষ্ট। কেননা একজন মানুষের রুচির ব্যত্যয় ঘটাতে রান্নাঘরের পরিবেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। রান্নাকে যদি শিল্পের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে রান্নাঘর হচ্ছে সেই শিল্পের বিকাশের এক অন্যতম জায়গা। আসবাবপত্র দিয়ে ঘরবাড়ি সাজাতে যতটা গুরুত্ব দেই, রান্নাঘরের বেলায় সেই গুরুত্ব কেন জানি হ্রাস পায়। কিন্তু অল্প খরচেই নিজেদের রান্নাঘরকে নানান রঙে ও ঢঙে সাজিয়ে নিতে পারি।

একটি আদর্শ রান্নাঘরের জায়গা অবশ্যই বড় হওয়া উচিত। কেননা ঘিঞ্জি পরিবেশের রান্নাঘরে রান্না করতে গেলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে যিনি রাঁধুনি তার অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তো থেকেই যায়। তাই রান্নাঘর তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ নজর দেয়া উচিত।

ঢাকা শহরের বাসাবাড়িগুলো এখন অনেকটা এ্যাপার্টমেন্টনির্ভর। তাই ১০০০, ১২০০ কিংবা ১৩০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটগুলোতে সেভাবে বড় পরিসরের রান্নাঘর তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই ছোট ঘরের মধ্যেই সবটুকু প্রয়োজনীয় উপাদান দিয়ে সাজিয়ে নিতে হবে পুরো রান্নাঘরটি। রান্নাঘরের দেয়ালটি অবশ্যই যেন প্লাস্টিক পেইন্ট কিংবা টাইলসের হয়। এতে তেলের আঁষটেভাব সহজেই পরিষ্কার করা সম্ভব হবে। তবে সাধারণ ডিসটেম্পার হলে রান্নাঘরে কালো দাগ পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থেকে যায়। তবে এখন অনেকেই রান্নাঘরের দেয়ালটি প্লাইউড কিংবা কাঠ দিয়ে মুড়ে দিন। এতে আধুনিকতার ছোঁয়া থাকে। সৌন্দর্য এবং স্থায়িত্বের দিক থেকেও মজবুত হয়। বিভিন্ন শোরুমের রেডিমেড কিচেন কেবিনেট আপনার রান্নাঘরকে আপডেট রাখতে সহায়তা করবে। পান্থপথ, নিউমার্কেট, কাঁটাবন, গুলশান ও ধানম-ির বিভিন্ন কিচেন কেবিনেট শোরুমে সাজানো কেবিনেটগুলো যে কাউকে মুগ্ধ করবে। প্লাইউডগুলো আয়তনভেদে দাম পড়বে ২৮ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রয়োজনে অর্ডার দিয়েও বানিয়ে নিতে পারেন কম দামের মধ্যে। দাম পড়বে ২০ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকা।

রান্নাঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং বেডরুম ও ড্রইংরুম যতটা সম্ভব রান্নাঘর থেকে দূরে হতে হবে। তা না হলে সমগ্র ঘরে রান্নাঘরের তাপমাত্রা ছড়িয়ে পড়বে। ভেন্টিলেশনের জন্য রান্নাঘরের দেয়ালে পাখা এবং চিমনির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে করে রান্নাঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে।

চুলা রান্নাঘরের এক কোনায় রাখা ভাল। এতে রান্নাঘরে চলাফেরা সহজ হবে। চুলার ঠিক পাশেই স্টিলের তৈরি সিঙ্ক রাখা যেতে পারে, যাতে রান্নার পর সহজেই ধোয়ামোছার কাজটি করা যেতে পারে। রান্নাঘরের আরেক পাশে ছোট একটি ফ্রিজ রাখা যেতে পারে। ইচ্ছা করলে ফ্রিজের পাশেই একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন রাখতে পারেন।

রান্নাঘরের কেবিনেটগুলো বিভিন্নভাবে সাজিয়ে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। যেমনÑ প্লাইউড, কাঠ কিংবা প্লাস্টিকের কেবিনেট ডোর দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন নিজের মনের মতো করে। রান্নাঘরে ব্যবহৃত বিভিন্ন মসলার জার, থালা-বাসন অথবা আনুষঙ্গিক জিনিসগুলো কেবিনেটের ভেতর অথবা বিভিন্ন প্লাস্টিকের র‌্যাকে সাজিয়ে রাখা যায়। আর রান্নাঘরের সঙ্গে যদি ছোট বারান্দা থাকে, তাহলে তুলনামূলক কম প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সেখানে রাখা যেতে পারে। এতে রান্নাঘরে চলাফেরা সহজ হবে।

রান্নাঘরে বিভিন্ন ফলমূল কিংবা শাকসবজির ছবি ঝুলিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে রান্নাঘরের চেহারাটাই পাল্টে যাবে। রান্না করার সময় অবশ্যই এ্যাপ্রোন, গ্লাভস এবং মাথায় টুপি পরা উচিত।

রান্নাঘরের কিছু কিছু জায়গা অব্যবহৃতই থেকে যায়। সেসব জায়গায় র‌্যাক বা হুক লাগিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস ঝুলিয়ে রাখা যেতে পারে। মসলার সরঞ্জাম রাখার জন্য অতিরিক্ত কাবার্ডের ব্যবস্থা না থাকলে দেয়ালে তাক করে সেখানে সাজিয়ে রাখা যায়। রান্নাঘরে পানি এবং ময়লাও বেশি হয়। তাই রান্নাঘর সময়মতো পরিষ্কার করে নেয়া জরুরী। রান্নার পর ব্যবহৃত জিনিস পরিষ্কার করে যথাস্থানে গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করা দরকার।

রান্নাঘরের যতœ

রান্নাঘর সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। প্রতিবার কাজের পর রান্নাঘর পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখা আবশ্যকীয়। সপ্তাহে অন্তত একবার গরম পানিতে সাবান মিশিয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করা দরকার।

রান্নাঘরে বিভিন্ন রকমের মসলা ব্যবহারের জন্য ঝাঁজালো গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে। রান্নাঘরেই হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন কিছু জিনিস ব্যবহার করে এই ঝাঁজালো গন্ধের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

রান্নাঘরে যদি ইঁদুরের উপদ্রব থাকে তাহলে শসা ছোট ছোট টুকরা করে রান্নাঘরে রেখে দেয়া যেতে পারে। এতে ইঁদুরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

নাসিফ শুভ

মডেল : জেনিফার কামাল

ছবি : জাওয়াদ