২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গী তৎপরতা দমনে সীমান্তে বিজিবি সতর্ক রয়েছে ॥ ডিজি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যে কোন ধরনের জঙ্গী তৎপরতা ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সর্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। দায়িত্ব নেয়ার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে রবিবার পিলখানায় বিজিবির সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ কথা বলেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও নিজের বিভিন্ন অর্জন নিয়ে কথা বলেন বিজিবি মহাপরিচালক। ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর দায়িত্ব নেন সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা।

গত তিন বছরে বিজিবির অর্জিত সফলতা শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ জানান, তিন বছরে বিজিবির জন্য ২৭৬টি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও বাংলাদেশের ৩৩১ কিলোমিটার স্থলসীমা অরক্ষিত। তিনি জানান, স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের ৫৩৯ কিলোমিটার স্থলসীমা অরক্ষিত ছিল। তবে এখন ২০৮ কিলোমিটার আমাদের নজরদারিতে চলে এসেছে। আগামী এপ্রিলের মধ্যে আরও ৮০ কিলোমিটার সীমানা নজরদারিতে নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন। তবে আজিজ আহমেদ জানান, সীমান্ত এখনও অরক্ষিত এটা আমাদের জন্য অনেক লজ্জাজনক। যে কোন জাতির জন্যই লজ্জাজনক। ২০১৬ সালের মধ্যে শতভাগ সীমান্ত নজরদারিতে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

বিজিবির মহাপরিচালক জানান, রণকৌশল নির্ধারণে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রশিক্ষণে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবারই প্রথম বিজিবিতে একশ’ নারী সদস্য যুক্ত হচ্ছে। জানুয়ারিতে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জঙ্গী কর্মকা- ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক জানান, সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এটা সত্য। তবে কিছুটা কমে এসেছে। রাতের আঁধারে সীমান্ত অতিক্রম না করলে এটা আরও কমে আসবে। মাদক পাচারও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে দাবি করে তিনি জানান, ফেনসিডিল অনুপ্রবেশ কমে এসেছে। এরপরও যা আসছে তা আমাদের উদ্বেগের কারণ। এক্ষেত্রে চাহিদার জায়গা নিয়ন্ত্রণ করলে সাপ্লাই কমে যাবে। কেবল সীমান্ত এলাকা দিয়ে নয়, বিমান ও নৌপথেও অনেক সময় নিষিদ্ধ মাদক দেশে আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব ঘটনায় বিজিবির কেউ জড়িত থাকছে কি না জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, আমাদেরও দুর্বলতা আছে। আমি কখনও বলব না, আমাদের শতভাগ লোক ধোয়া তুলসীপাতা। তবে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। চোরাচালানে সম্পৃক্ততা ও ‘নারীঘটিত’ কারণে গত তিন বছরে প্রায় একশ’ জনকে বিজিবি থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজিবির মহাপরিচালক জানান, ভারত ছাড়াও সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের সঙ্গেও এখন সম্পর্কের অনেক উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নের ফলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভূমি সমস্যার নিষ্পত্তি হয়েছে। সীমান্ত পার্শ্ববর্তী লোকদের গ্রেফতার এখন অনেক কমেছে বলেও জানান তিনি। আজিজ আহমেদ বলেন, এছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। ২০১৪ সালে আমরা প্রথম মিয়ানমারের বিজিপির সঙ্গে বৈঠক করি। আগে কোন কিছু জানতে চাইলে দীর্ঘদিন পর জবাব আসত সেখান থেকে। কিন্তু এখন যে কোন মুহূর্তে তাদের সাড়া পাওয়া যায়। বিজিপি আমাদের সঙ্গে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ডিজি পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন করতে আগ্রহী হয়েছে।