১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে প্রতিবছর দরিদ্র হচ্ছে ৬৪ লাখ মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে গিয়ে প্রতিবছর দেশের প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, বহু মানুষ ক্যান্সার ও কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক রোগের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পারছে না। ডায়রিয়া, জ্বর ও নিউমোনিয়াই এখন পর্যন্ত শিশু মৃত্যুর প্রধান তিনটি কারণ। দেশে পাঁচ বছর কম বয়সী শিশুদের ২৬ শতাংশ ডায়রিয়া, ২১ শতাংশ জ্বর, ১৬ শতাংশ নিউমোনিয়া, ১৩ শতাংশ সাধারণ ঠান্ডা ও ১১ শতাংশ পুষ্টিহীনতায় ভুগে। তবে নবজাতকের মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ’সঙ্গত ও ইতিবাচক’ ফল অর্জন করেছে। এমনকি এক্ষেত্রে আরও ভালো উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

সোমবার রাজধানী ঢাকার আইসিডিডিআর,বি তে শুরু হওয়া দুইদিন ব্যাপী স্বাস্থ্য বিষয়ক এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। তৃতীয় পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন দিবস উপলক্ষে পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং ফেইথ বাংলাদেশ এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম মুজাহেরুল হক বলেন, বাংলাদেশে যথেষ্ট সংখ্যক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মী থাকলেও নাগরিকরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো চিকিৎসা গ্রহণের জন্যও বাংলাদেশের মানুষের অর্থিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। তাই বাংলাদেশের উচিৎ রোগ প্রতিরোধের উপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যতটুকু স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা রয়েছে, সেটুক কাজে লাগিয়ে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মেলনের প্রথম দিন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি, শিশুস্বাস্থ্য, অসংক্রামক ব্যাধি এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে ২৫ টি গবেষণা প্রতিবেদন ও নিবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

‘ঢাকার একটি হোমিওপেথি মেডিকেল সেন্টারের কয়েকজন আক্রান্ত রোগীর হেপাটাইসিস বি সংক্রমণের বিষয়ে জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি এবং চর্চা’ শীর্ষক নিবন্ধে বলা হয়, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদকগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ অন্যের ব্যবহৃত সূঁচের সাহায্যে মাদক গ্রহণ করে। ফলে তারা এইডস ও হেপাটাইটিস বি-এর মতো সংক্রামনণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ মাত্রার ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।

হেপাটাইটিস বি বিষয়ে মানুষের জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও চর্চা মূল্যায়নের লক্ষ্যে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ঢাকার একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ১৫০ জন রোগীর ওপর চলতি বছর এ গবেষণা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের শিক্ষক ডা. সাজিয়া হক গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ বহুগামী যৌনাচারে অভ্যস্ত যাদের মধ্যে ৬১ দশমিক ২ শতাংশ শারীরিক সম্পর্কের সময় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেন না। অন্যদিকে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ পরীক্ষাহীন রক্ত গ্রহণ করেছেন। আর ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরপ্রদানকারী জানিয়েছেন, তারা কখনো হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা নেননি। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা এসব প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে পূর্ণবয়স্ক মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।

আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ পরিচালিত একটি গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডায়ারিয়া, জ্বর ও নিউমোনিয়াই এখন পর্যন্ত শিশু মৃত্যুর অন্যতম তিনটি কারণ। পাঁচ বছর কম বয়সী ২০৮ জন শিশুর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে ওই শিশুদের ২৬ শতাংশ ডায়রিয়া, ২১ শতাংশ জ্বর, ১৬ শতাংশ নিউমোনিয়া, ১৩ শতাংশ সাধারণ ঠান্ডা ও ১১ শতাংশ পুষ্টিহীনতায় ভুগছিলো।

আরেকটি গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ধূমপান, হতাশা, চাকরি-সম্পর্কিত মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের সঙ্গে সন্তান জন্মদানে অক্ষমতার সম্পর্ক রয়েছে। নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা-সম্পর্কিত ১৬০টি ঘটনা নিয়ে ওই গবেষণা চালায় এবং সংশ্লিষ্ট ৪৫ শতাংশ উত্তরকারী জানান তারা ধূমপায়ী। এছাড়া উত্তরপ্রদানকারীদের ৩৮ দশকিম ৫ শতাংশ হতাশা, ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ চাকরি নিয়ে মানসিক চাপ, ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপ, ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ ডায়াবেটিকস এবং ২৪ শতাংশ পারিবারিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সর্দার মাহমুদ হোসেন এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডা. রজত দাশগুপ্ত এক নিবন্ধে বলেন, নবজাতকের মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ‘সঙ্গত ও ইতিবাচক’ ফল অর্জন করেছে। এমনকি এক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়ার জন্যে আরও উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। আগামীকাল শেষ হবে এ বৈজ্ঞানিক সম্মেলন।