১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দশ মিটারে স্থাপনা নয়

দশ মিটারে স্থাপনা নয়
  • রাস্তার পাশ থেকে সরিয়ে নিতে হবে শিল্প-কারখানা, হাট-বাজার বেদখলে রাখা সব কিছু মাঝখানে থাকবে বিভাজক

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ ‘মহাসড়কে প্রতিটি লেনের রাস্তার প্রশস্ত হতে হবে তিন দশমিক ৬৫ মিটার। অর্থাৎ ১২ ফুট। দুই লেনের মহাসড়ক হলে এর প্রশস্ত হবে ২৪ ফুট। রাস্তার দু’পাশে আট ফুট করে ১৬ ফুট জায়গায় কোন ধরনের স্থাপনা নয়। মহাসড়কে স্বল্প গতির, অযান্ত্রিক বা অনুমোদনহীন কোন পরিবহন চলবে না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে রাস্তার মাঝখানে থাকবে বিভাজক। হাট-বাজার, কারখানা থেকে শুরু করে সকল প্রকার স্থাপনা নিষিদ্ধ।’ সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদ- নির্ধারণ এগুলোই নিয়মের কথা। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মহাসড়কের অবস্থা একেবারেই বেহাল। সকল প্রকার অরাজকতাই যেন সড়ক ঘিরে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নিরাপদ সড়ক যোগাযোগের জন্য যা কিছু করা হয়েছে আমাদের দেশে তা একেবারেই বিপরীত। তবে সোমবার হাইকোর্টের রায়ে রাস্তার দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, দশ মিটারের মধ্যে কোন স্থাপনা তৈরির অনুমতি দেয়া যাবে না।

সারাদেশে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি জাতীয় মহাসড়কের এক কিলোমিটারও নিরাপদ নয়। রাস্তার পাশে দেদার নির্মাণ হচ্ছে শিল্প কারখানা। চলছে দখল। সড়কের পাশে হাটবাজার-পরিবহন টার্মিনাল-দোকান-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সবই আছে। মৃত্যুদূত হয়ে সড়ক চষে বেড়াচ্ছে লাইসেন্সবিহীন চালক। অগণিত অনুমোদনহীন যান। রাজধানী ঢাকা থেকে ৮০টির বেশি রুটে নিয়মিত বাস চলাচল করে। দখল আর নানা প্রতিবন্ধকতায় সব সড়কেই যানজট। স্বাভাবিক গতিতে পরিবহন চলতে পারে না। উদ্বোধনের আগেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ফোর লেনের পাশে অর্ধশত কাঁচাবাজার বসছে। রাস্তার দু’পাশের জমির ধরন বদলাচ্ছে রাতারাতি। শতাধিক অবৈধ পরিবহন টার্মিনাল বসছে এই সড়কে। বালু ও মাছের ট্রাক, কার্গো, পণ্যবাহী পরিবহন থেকে শুরু করে মহাসড়কে হাজারো গাড়ির সারি।

সম্প্রতি নিরাপদ মহাসড়কের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে। কিন্তু সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছু হটে সরকার। রাজনৈতিক কারণে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হলে এই রায় পুরোপুরি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এই রায়কে যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন অনেকে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে ৫৫ জনের মতো। বছরে এ সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। যার মধ্যে ৩২ শতাংশই হচ্ছে পথচারী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২টি দেশের মধ্যে প্রতি ১০ হাজার যানবাহনে বাংলাদেশে নিহতের হার সর্বোচ্চ এবং এ সংখ্যা ১৬৯ জন।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি সবখানেই ॥ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ফিটনেস গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। রাজধানীতে গত জুলাই পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করা প্রায় ৯ লাখ গাড়ির মধ্যে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫১টি গাড়িই ফিটনেসবিহীন। সূত্রমতে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ১৯২টি বাসের নিবন্ধন করা হয়।

অবৈধ চালক দেশজুড়ে ॥ বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যার তুলনায় সনদধারী চালক প্রায় ১০ লাখ কম বলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন। সম্প্রতি সংসদে মন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে লাইসেন্সবিহীন চালকের সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে লাইসেন্সধারী গাড়ি চালকের সংখ্যা ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন। অন্যদিকে রেজিস্ট্রেশন করা মোটরযানের সংখ্যা ২৪ লাখ ৪ হাজার ১১৪টি।

ভুয়া লাইসেন্সধারী চালক ও মোটরযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের ধরতে বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের রায় ॥ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ের (মহাসড়ক) পাশ থেকে অনুমোদনহীন স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ১০ মিটারের মধ্যে কোন স্থাপনা তৈরির অনুমতি দানের বিধান বাতিল করার পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আদালত কতকগুলো নির্দেশনা দিয়েছে। ১. ঢাকা থেকে জেলা পর্যায়ে যাওয়ার জন্য সংযোগকৃত মহাসড়কের কার্যকরী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মহাসড়কের পাশের স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং মহাসড়ক যানবাহন নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০০১-এর ৮ বিধিতে স্থাপনা তৈরির অনুমতি প্রদানসংক্রান্ত সরকারের ক্ষমতা বাতিলে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ২. মহাসড়কের দুর্ঘটনা রোধে আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটির সুপারিশসমূহ কার্যকর করতে নির্দেশ ৩. ড্রাইভারদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির বিধান করা, ৫ বছরের অভিজ্ঞতাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ। ৪. মহাসড়কের রোড ডাইভারশন তৈরি, পথচারী চলাচলে প্রয়োজনীয় স্থানে আন্ডারপাস, স্কুল সিলেবাসে ট্রাফিক রুলসের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ। ৫. মোটর আইনের অপরাধীর সাজা, জরিমানা বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ।’

এর আগে ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এমপি মোকতাদির চৌধুরীর ১১ জন কর্মী নিহতের ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। এ রিট আবেদনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকরী রোড ম্যানেজমেন্ট ও মহাসড়কের যান চলাচল আইনের বাস্তবায়নে জনস্বার্থে এ রিট করা হয়। ওই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে রুল জারি করে এবং প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। রুলের নিষ্পত্তি করে সোমবার আদালত এ আদেশ দেয়। স্বরাষ্ট্র সচিব, যোগাযোগ সচিব, অর্থ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিআইজি (হাইওয়ে), যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) এবং ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ ১১ জনকে রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়।

কার নির্দেশ কে মানে ॥ নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিক্সাসহ অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে। এক আগস্ট থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। এ নিয়ে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অব্যাহত চাপের মুখে অনেকটাই পিছু হটতে শুরু করে সরকার। একপর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, এসব পরিবহন সকালে দুই ঘণ্টা সিএনজি সরবরাহের জন্য মহাসড়কে উঠতে পারবে। পরবর্তীতে বলা হয়, দেশের ২২টি মহাসড়কে এসব পরিবহন চলাচল করতে পারবে না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ সব মহাসড়কেই অনুমোদনহীন যানবাহন চলছে!

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৮ লাখ নসিমন, করিমন, ভটভটি বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে। যার একটিও সরকারীভাবে অনুমোদিত নয়। ৩ লক্ষাধিক ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক মহাসড়কে চলতে দিয়ে কোন অবস্থাতেই নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমাদের দেশে প্রতি ১০ হাজার যানবাহনের মধ্যে ৮৬ দশমিক ৬টি যানবাহন প্রতিবছর মারাত্মক দুর্ঘটনায় পড়ছে। এই পরিসংখ্যানে নিহতের সংখ্যা এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১৬৯ জন। দুর্ঘটনার কারণে দেশের ২ শতাংশ জিডিপি ক্ষতি হচ্ছে।

এক লাখ কিলোমিটার সড়ক ॥ যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডি ও সড়ক জনপথ অধিদফতর মিলে মোট সড়কের পরিমাণ এক লাখ কিলোমিটারের বেশি। এর মধ্যে সারাদেশে প্রায় ২৫ হাজার কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীনে সারাদেশে সড়কের পরিমাণ ২১ হাজার ৫৭১ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ৬ হাজার ৪৪৫ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪ হাজার ১০৫ কিলোমিটার।জেলা সড়ক রয়েছে ১০ হাজার ৬০৬ কিলোমিটার। সারাদেশের জাতীয় আঞ্চলিক ও জেলাওয়ারী ৮৩৩টি মহাসড়ক রয়েছে। পাকা সড়ক আছে ১৮ হাজার ৭৭২ কিলোমিটার, কাঁচা সড়ক ৬৪৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা ও চলাচলের ক্ষেত্রে জাতীয় মহাসড়ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় মহাসড়কের মানদ- রক্ষার কেউ নেই ॥ প্রকৌশলীরা বলছেন, আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক মানদ-ের কোন রাস্তা নেই। বাস্তবতা হলো- আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রতিটি লেনের রাস্তার প্রশস্ত হতে হবে তিন দশমিক ৬৫ মিটার অর্থাৎ ১২ ফিট। দুই লেনের মহাসড়ক হলে এর প্রশস্ত হবে ২৪ ফিট। ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-ময়মনসিংহ মহাসড়কগুলো এই মানদ-ে নির্মাণ করার কথা জানিয়েছে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রাস্তার দু’পাশে আট ফুট করে ১৬ ফুট জায়গায় কোন ধরনের স্থাপনা হতে পারবে না। এটি রাস্তার শোল্ডার হিসেবে থাকবে। একেক চাকার জন্য আট টন ওজন নির্ধারণ করে রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। অর্থাৎ চার চাকার ট্রাকের ক্ষেত্রে ৩২ টন মালামাল পরিবহন করা যাবে। তবে এই মানদ- রক্ষার দায়িত্ব পালনে তেমন কেউ নেই।

জানতে চাইলে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাওয়েদ আলম জনকণ্ঠ’কে বলেন, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী আমাদের দেশে রাস্তা নির্মাণ শুরু হলেও এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। ফলে রাস্তায় হাটবাজার বসছে। দখল হচ্ছে সড়কের শোল্ডার। এ কারণে একদিকে যেমন দ্রুত রাস্তা নষ্ট হচ্ছে তেমনি দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। যাত্রী ভোগান্তি তো সব সময়ের ঘটনা।

সকল হাইওয়েতে যানজট ॥ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী রাজধানী ঢাকা থেকে ৮০টির বেশি রুটে নিয়মিত বাস চলাচল করে। সকল রুটেই দিন দিন যানজটের মাত্রা বাড়ছে। কোন কোন রুটে রাস্তায় সময় যাচ্ছে তিন থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত। গন্তব্যে পৌঁছাতে যত সময় লাগে এর চেয়ে বেশি সময়ক্ষেপণ হয় যানজটের কারণে। পরিবহন মালিকরা বলছেন, ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে যানজটের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জনকণ্ঠ’কে বলেন, এই টার্মিনাল থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪০টি রুটে বাস চলাচল করে। দখল, হাটবাজার, অবৈধ টার্মিনালসহ নানা অরাজকতার কারণে দেশের সব হাইওয়েতে যানজটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা অনেকবার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিভিন্ন সড়কে দেখা যায়, অর্ধেক রাস্তা পর্যন্ত দখলে থাকে। আশুলিয়া চন্দ্রা এলাকার যানজট নিয়ে যুগের পর যুগ আলোচনা হলেও সমস্যা তিমিরেই রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ জনকণ্ঠ’কে বলেন, দেশের বিভিন্ন হাইওয়েতে সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চলছে অথচ সরকার বলছে, এসব পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি সিলেটে গিয়ে এ দৃশ্য দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তিনি আরও বলেন, রাস্তার দু’পাশে দখল করে বাজারসহ নানা স্থাপনা হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের চোখের সামনেই। সড়ক বিভাগ এ ব্যাপারে কিছু বলছে না। সবাই দেখেও না দেখার ভান করলে যাত্রীসহ পরিবহন মালিক শ্রমিকদের দুর্ভোগ কোনদিনই লাঘব হবে না।

বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি রুস্তম আলী জনকণ্ঠকে বলেন, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুট ও চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাস্তার দু’পাশে দখলের উৎসব চলছে। একটু পর পর বাজারসহ স’ মিলের শেষ নেই। রাস্তার ওপর রাখা হচ্ছে কাঠ। অবৈধ টার্মিনাল তো আছেই। এসব সমস্যা দূর করতে দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।