২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যানজট কমাতে ঢাকার পূর্বপাশ দিয়ে ২৪ কিমি নতুন রাস্তা হচ্ছে

  • ফলে রাজধানী ঘিরে ৯১ কিমি বৃত্তাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে

রশিদ মামুন ॥ রাজধানী ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে পূর্ব পাশ দিয়ে ১১ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে রাজধানী ঘিরে বৃত্তাকার ৯১ কিলোমিটারের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ না করে যে কোন যানবহন সড়ক পথে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছাতে পারবে। আশা করা হচ্ছে এতে রাজধানীর যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। এজন্য পানি নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সঙ্গে ইস্টার্ন বাইপাস বহুমুখী সড়কের একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে। সরকারের অনুমোদন পেলে শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়।

ঢাকাকে ঘিরে বৃত্তাকার নৌরুট থাকলেও পূর্ণাঙ্গ কোন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতার অভাব আর নৌযানের অপ্রাপ্যতার পাশাপাশি ভয়ঙ্কর দূষণের কবলে থাকায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যার প্রতি আগ্রহ নেই কারও। সরকারী উদ্যোগে আমিনবাজার থেকে গাবতলী পর্যন্ত ওয়াটার ট্যাক্সি চালু হলেও তা সাধারণের মধ্যে সাড়া ফেলতে পারেনি। তবে বৃত্তাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এর আগে পশ্চিম পাশ দিয়ে আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর হয়ে বিরুলিয়া, বিরুলিয়া থেকে গাবতলী, গাবতলী থেকে বাবুবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হলেও তা পূর্ণাঙ্গ নয়। আব্দুল্লাহপুর হয়ে মিরপুর মাজার রোড পর্যন্ত সড়ক ব্যবহার হলেও সদরঘাট-বাবুবাজার অংশে দখলে সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় ব্যবহার কম। এছাড়া সড়কটি সংকীর্ণ ভাঙ্গাচোরা হওয়ায় দ্রুতগাতি পরিবহন সড়কটি ব্যবহার করে না বললেই চলে। দু’একটি বাস সার্ভিস ছাড়া রাজধানীর কোন গণপরিবহন এই সড়ক ব্যবহার করে না বললেই চলে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজধানীর পূর্ব পাশ দিয়ে ২৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করবে। এর ওপর দিয়ে সড়ক বিভাগ সড়ক নির্মাণ করবে। এর সঙ্গে ঢাকা ওয়াসা তিনটি খালের কাজ করবে। থাকবে অভ্যন্তরীণ সড়কের সংযুক্তি, পাম্প স্টেশন, রেগুলেটর সব মিলিয়ে ১১ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে প্রকল্প শেষ করতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেন্ট্রোল জোনের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে সড়ক বিভাগ, ওয়াসা, রাজউক কাজ করবে। সরকারের নির্দেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ এই সড়ক নির্মাণে সমন্বয় করবে। ইতোমধ্যে সকল মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ কার কি কাজ তা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন সরকারের অনুমোদন পেলে ভূমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কাজ করা হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, সরকার ঢাকার চার পাশে বৃত্তাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকার যানজট, জলাবদ্ধতা ও নদী দূষণ দূর করাও সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন বিদ্যমান এই সড়কগুলোকে ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা দুই লেন সার্ভিস রোডসহ চার লেন সড়কে উন্নীত করা এবং সড়কের মাঝে পাঁচ মিটার-বিশিষ্ট বিভাজক রাখা আর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে ফ্লাইওভারের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল নিশ্চিত করা হবে। সড়ক বিভাজনের ওপর এলিভেটেড ট্রেন লাইন স্থাপন এবং তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু পুনর্খননের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নৌরুট চালু করার কথাও প্রধানমন্ত্রী ওই সময় জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সড়ক বিভাগের সচিবকে আহ্বায়ক করে সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে বলা হচ্ছে বৃত্তাকারভাবে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে ৯১ কিলোমিটার বিকল্প সড়ক পথ চালু করতে হবে। এর মধ্যে এখন ৬৭ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। সেখানে কিছু সংস্কার কাজ করতে হবে আর ২৪ কিলোমিটার সড়ক নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।

বিদ্যমান এই ৬৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে গাবতলী থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দুই লেন বিশিষ্ট সড়ক পথকে চার লেনে উন্নীত করা হবে। আব্দুল্লাহপুরের কাছে আরও ১৮ কিলোমিটার দুই লেন বিশিষ্ট সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হবে।

বৃত্তাকার ৯১ কিলোমিটার সড়কের রুট হবে আব্দুল্লাহপুর থেকে তেরমুখ, তেরমুখ থেকে পূর্বাচল হয়ে ডেমরা, ডেমরা থেকে শিমরাইল দিয়ে সাইনবোর্ড হয়ে বিশ্বরোড থেকে চাষাড়া, চাষাড়া থেকে ফতুল্লাহ হয়ে সদরঘাট, সদরঘাট বাবুবাজার হয়ে গাবতলী, গাবতলী থেকে বিলুরিয়া-ধেউর হয়ে আব্দুল্লাহপুর।

ঢাকার চার পাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং এর ওপর সড়ক চালুর পরিকল্পনা আশির দশকে প্রথম গ্রহণ করা হয়। ওই সময় ঢাকার চার পাশে নৌপথ এবং অভ্যন্তরীণ খালগুলোকে নাব্য করে শহরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ নৌবন্দর প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছিল ইউএনডিপি। পরে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করে বিদ্যমান খালকে আরও ভরাট করে ফেলা হয়। রাজধানীর খালগুলোও দখল হয়ে গেছে। এখন রাজধানীর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে এটাকে দায়ী করা হচ্ছে।