১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জেএমবিসহ সব জঙ্গী গোষ্ঠীর জন্মদাতা জামায়াত

  • সংগঠন নিষিদ্ধ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াফত করার দাবি ফরিদউদ্দীন মাসউদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জামায়াতকে সন্ত্রাসের ‘উর্বর প্রজননক্ষেত্র’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে উগ্রবাদী এ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ। জামায়াতের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াফত করে জনগণের মালিকানায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলাটিমসহ সন্ত্রাসী জঙ্গী গোষ্ঠীর জন্মদাতা জামায়াত। এরা দেশ ও ইসলামের শত্রু। সন্ত্রাসকে রুখতে হলে এদের নিষিদ্ধ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াফত করা ছাড়া বিকল্প নেই। শুধু ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের রোখা যাবে না। আইএসের নামে একদল মুনাফিক ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে সারা পৃথিবীতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে চলছে বলেও মন্তব্য করেন আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জমিয়াতুল উলামা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ। সাধারণ মানুষকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইমাম বলেন, যারা ইসলামের নামে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে সন্ত্রাসের প্রতি পা বাড়িয়েছেন, তাদের উদাত্ত আহ্বান জানাই, সন্ত্রাসের পথ ইসলাম কায়েমের পথ নয়। যে পথে আপনারা যাত্রা করেছেন, এ পথ জাহান্নামের পথ। নাজাতের পথ নয়। আপনারা ইসলাম, দেশ-জাতি ও নিজেদের স্বার্থে তওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসুন। এ সময় সংগঠনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘আইএস, জামায়াত-শিবির এবং তাদের দোসরদের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে’ সংবাদ সম্মেলন। জামায়াতসহ সকল সন্ত্রাসী জঙ্গী গোষ্ঠীর কর্মকা-, আইএসসহ আন্তর্জাতিক জঙ্গী গোষ্ঠী দমনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ নিয়ে কথা বলেন দেশের বিশিষ্ট এ ইসলামী চিন্তাবিদ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জমিয়াতুল উলামার উপদেষ্টা মাওলানা রুহুল আমীন উজানবী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী, সম্পাদক মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা দেলওয়ার হুসাইন সাইফী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সদরুদ্দীন মাকসুন, মুফতি ইবরাহীম শিলাস্থানী, মাওলানা আবদুল হালিম ফরিদী প্রমুখ।

শোকালিয়া ঈদগাহের ইমাম বলেন, জামায়াত নামক দলটি আমাদের দেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একটা উর্বর প্রজনন ক্ষেত্র। জেএমবি আনসারুল্লাহ বাংলাটিমসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্ম এদের উদর থেকে।

জাতিকে দায়মুক্ত করার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে কার্যক্রম চলছে সে জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে ফরিদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, কয়েক যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকরে পাকিস্তান যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তাতেই প্রমাণিত হয় এই সন্ত্রাসী দলটি (জামায়াত) মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের চর ছিল। এখনও তারা পাকিস্তানের চর হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি ফ্রান্সের প্যারিসে ঘটে যাওয়া জঙ্গী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, মসজিদে ঢুকে কোন মুসলমান আক্রমণ করতে পারে না। বগুড়ায় শিয়া মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর বর্বর হামলারও তীব্র নিন্দা জানাই। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিদেশী নাগরিকসহ যেসব হত্যাকা- ঘটছে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। তিনি দেশীয় সন্ত্রাসবাদের লালনকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি তারাই আজ দেশের শান্তি বিনষ্টের পেছনে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামিক স্টেটের নামে উগ্রবাদীরা যে হামলা চালাচ্ছে, তা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আইএসের মতো জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো ইসলামের অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে সারা পৃথিবীতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে চলেছে।

ইসলামের নামে ‘ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে’ যারা ইসলামিক স্টেটের মতো গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত হয়েছে তাদের সেই পথ থেকে ফিরে আসারও আহ্বান জানান তিনি। সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির উপর আঘাত মেনে নেয়া হবে না বলে মন্তব্য করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান ফরিদ উদ্দীন মাসউদ।

দেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গীদের তৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, আইএসের বিষয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা আছে। কেউ বলছেন এখানে আইএস আছে, কেউ অস্বীকার করছেন। আমার মতে, বাংলাদেশে আইএস বা আইসিস নামের কোন সংগঠন সাংগঠনিকভাবে গড়ে ওঠেনি। তবে, আইএস মনোভাবাপন্ন কিছু লোক আছে। আইএসসহ আন্তর্জাতিক জঙ্গী গোষ্ঠী দমনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তালেবান, উসামা বিন লাদেন সৃষ্টিতে যাদের অবদান, আজকের আইএসও তাদেরই সৃষ্টি। রাশিয়া আইএস দমনে যতটা উৎসাহী, আমেরিকা চাইলে সেটা অনেক আগেই দমন সম্ভব হতো। ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইএসের নামে উগ্রবাদীরা যে হামলা চালাচ্ছে- এতে পৃথিবীর মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আইএসের নামে হামলা মূলত ইসলামের অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে এক মারাত্মক ষড়যন্ত্র।

জঙ্গী দমনের জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহর ইমাম বলেন, ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা ব্যতীত ধর্মের নামে সন্ত্রাসের মহাদানবকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। যেহেতু ধর্মের অপব্যাখ্যার পিঠে চড়ে বিস্তৃতি লাভ করছে, সুতরাং এ ক্ষেত্রে আলেমদের নীরবে বসে থাকার কোন অবকাশ নেই। সেই দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে জমিয়াতুল উলামা সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, উলামা সমাবেশ দলমত নির্বিশেষে গোলটেবিল বৈঠক ও মহাসমাবেশ কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।