১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিজামীর অপরাধের সাজা একটাই হতে পারে, তা মৃত্যুদণ্ড ॥ এ্যাটর্নি জেনারেল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ-ের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর আমির আলবদর কমান্ডার মতিউর রহমান নিজামীর আপীলে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপীল বেঞ্চে এ মামলার দশম দিনের শুনানি হয়। এদিন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তার সঙ্গে আরও ছিলেন অতিরিক্তি এ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ মোমতাজ উদ্দিন ফকির। অন্যদিকে নিজামীর প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের সঙ্গে ছিলেন এ্যাডভোকেট এসএম শাজাহান। আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের জবাব দেবেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। যুক্তিতর্ক শেষে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর চারটি অভিযোগে যেন মৃত্যুদ- বহাল থাকে তার জন্য আদালতে জোরালো বক্তব্য (যুক্তি) উপস্থাপন করেছি। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, চারটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। সেটা যেন বহাল থাকে তার জন্য জোরালো বক্তব্য দিয়েছি। ২, ৪ ও ৬ নম্বর অভিযোগে সাক্ষীরা বলেছেন, নিজামীর উপস্থিতির কথা। আর ১৬ নম্বর অভিযোগে হচ্ছে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ। এ ব্যাপারে শুধু বুদ্ধিজীবীর পরিবাররাই নয় সারাদেশের মানুষ বিচার প্রার্থী। মানুষ ন্যায়বিচার চায়। এ অপরাধের সাজা একটাই হতে পারে। সেটা হচ্ছে মৃত্যুদ- বহাল থাকা।

এর আগে গত বুধবার নিজামীর আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। এ্যাটর্নি জেনারেল সেদিন শুনানির জন্য দাঁড়ালেও যুক্তি উপস্থাপন শুরুর আগেই শুনানি মুলতবি হয়ে যায়। সেদিনের শুনানিতে নিজামীর আইনজীবী এ জামায়াত নেতার অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন বলে এ্যাটর্নি জেনারেল পরে দাবি করলেও আসামিপক্ষের উকিল তা অস্বীকার করেন। শুনানির পর মাহবুবে আলম সেদিন সাংবাদিকদের বলেন, “উনারা যা সাবমিশন করেছেন, আমি যা বুঝেছি, তাতে আমার মনে হলো, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের শীর্ষ আইনজীবীরা এই প্রথম তাদের অভিযুক্ত একজন নেতা যে অপরাধী, তা তারা স্বীকার করে নিলেন এবং স্বীকার করে নিয়ে শুধু মৃত্যুদ-ের হাত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আবেদন করলেন।” অন্যদিকে অপরাধ স্বীকার করে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে নিজামীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “আমাদের কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?”এ্যাটর্নি জেনারেল ওই বক্তব্য “এটা বিভ্রান্তিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য।”

বুদ্ধিজীবী গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করা, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, “আদালত সম্মত হয়েছে যে, তিনি যে মাত্রায় হত্যা, গণহত্যা ঘটিয়েছেন, তাতে সর্বোচ্চ সাজা না দিলে তা হবে ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা।”

পরে রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৩ নবেম্বর আপীল করা হয়। ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট পেশ করে তাতে ১৬৮টি কারণ উল্লেখ্য করে দ- থেকে খালাস চেয়ে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এ আপীলটি দাখিল করেন। ১২১ পৃষ্ঠায় মূল আপীল আবেদনের সঙ্গে ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্র দাখিল করা হয়েছে। মূল আপীলে ১৬৮টি গ্রাউন্ড পেশ করে দ- থেকে খালাস চাওয়া হয়েছে।

নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। ১, ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। এর মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে নিজামীকে মৃত্যুদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। ১, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়। এছাড়া ৫, ৯, ১০ থেকে ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি (খালাস) দেয়া হয়।