২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্যারিসে বাধ্যতামূলক জলবায়ু চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের শঙ্কা

কাওসার রহমান, প্যারিস থেকে ॥ জলবায়ু বিপর্যয় থেকে পৃথিবীকে রক্ষার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়ে সোমবার প্যারিসের লে বুর্জ কনফারেন্স সেন্টারে শুরু হয়েছে জলবায়ু সম্মেলনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। আর এ বৈঠকের মধ্যদিয়ে ১৯৫ দেশের প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন জটিল পর্বে প্রবেশ করেছে। তবে বাংলাদেশ মনে করছে, প্যারিসে একটি চুক্তি হবে, তবে সেই চুক্তি কতটা শক্তিশালী এবং বাধ্যতামূলক হবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্যারিস থেকে হয়তো আমরা খালি হাতে ফিরব না। একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার ব্যাকুলতা সবার মধ্যে কাজ করছে। কিন্তু সেই চুক্তি কতটা শক্তিশালী ও বাধ্যতামূলক হবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’

জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঋণ মেনে নেবে না বলে আবারও আন্তর্জাতিক বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জলবায়ুর অর্থায়ন হতে হবে নতুন এবং অতিরিক্ত। এ অর্থায়ন সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিদ্যমান তহবিলগুলোতে এমন সব শর্তজুড়ে দেয়া হয়েছে যে, উন্নয়নশীল দেশগুলো সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারছে না। তাই অর্থায়নের বিষয়টি সহজ হতে হবে।

তিনি বলেন, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের সঙ্গে বিদ্যমান ফান্ডগুলো চালু থাকতে হবে। প্রযুক্তি হস্তান্তর হতে হবে ইন্টিলেকচুয়াল প্রপারটি রাইট বিহীন এবং বিনা পয়সায়। কোন কোন প্রভাবশালী দেশ চাইছে এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বি^ত করতে। ডারবানে আমরা দেখেছি, কিভাবে প্রক্রিয়া ৮ বছর পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এখানেও সেই প্রচেষ্টা আছে। আশা করছি, প্যারিসে সেই চক্র সফল হবে না।

জলবায়ু সম্মেলনের এ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের উদ্বোধন করতে গিয়ে জাতিসংঘ প্রধান বান কি মুন বিশ্বের নীতি নির্ধারকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘ঘড়ির কাঁটা ক্রমেই জলবায়ু বিপর্যয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এখনি সময় বিশ্বকে তপ্ত অবস্থা থেকে রক্ষা করার। এজন্য আপনাদের এমন একটি চুক্তিতে উপনীত হতে হবে যাতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াম (৩.৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট) বৃদ্ধি না পায়।’

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্ব সমাজের সকল পর্যায় থেকে কাজ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্যারিসে একত্রিত হয়েছি একটি নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছার জন্য। আমরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ভূমি রেখে যাওয়ার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ এখানেই নিতে চাই। তাই প্যারিসকে অবশ্যই একটি শান্তিময়, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধশালী পৃথিবীর পথ রচনা করতে হবে।’

স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় মূল প্ল্যানারি হলে এ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর পরই শুরু হয় সম্মেলনে আগত ১৯৫টি দেশের মন্ত্রীদের নীতি নির্ধারণীমূলক জাতীয় বিবৃতি প্রদান। এ পর্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন বক্তৃতা দেবেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে তার বক্তৃতা দেয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার এবং মঙ্গলবার এ দুই দিনে সকল দেশের মন্ত্রীদের বক্তৃতা প্রদান শেষ হবে। এরপর বহুপাক্ষিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর প্রধানদেরও এবার বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চলবে জলবায়ু চুক্তির খসড়া দলিলের ওপর আলোচনা। আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে।

এ চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন, এক সপ্তাহ আগে ১৫০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এসে একটি জলবায়ু চুক্তিতে পৌঁছার জন্য আমাদের সমর্থন দিয়ে গেছেন। একই উদ্দেশে একই দিনে একই সঙ্গে এতো সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে একত্রিত হতে আমি আর দেখিনি। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আশ্বাস দিয়ে গেছেন, জলবায়ু চুক্তিতে পৌঁছার পথে সব বাধা তারা অপসারণ করবেন। তারা গ্রীন হাউস গ্যাস কমানোর ব্যাপারেও দৃঢ় ও জোরাল আহ্বান জানিয়ে গেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শতাধিক মেয়র এখানে এসেছেন আমাদের প্রতি সমর্থন জানাতে। শতাধিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী এখানও যোগ দিয়েছেন, বিভিন্ন দেশে যাদের ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। পাঁচ লাখ লোক রাজপথে মিছিল করেছে এ বিশ্বকে জলবায়ু বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে।

বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বান কি মুন বলেন, আপনাদের দিকে বিশ্ববাসী বড় আশা করে তাকিয়ে আছে। আমাদের প্রথম চাওয়া হচ্ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে আটকে রাখতে প্যারিকে একটি কার্যকর চুক্তি স্বাক্ষর। যদিও অনেক দ্বীপ দেশ ও স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে যারা ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লেই তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।