২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্ধেক পৌরসভাতেও প্রার্থী দিতে পারেনি জাতীয় পার্টি

  • অনেক জেলা সদরেই প্রার্থী নেই

রাজন ভট্টাচার্য ॥ অর্ধেক পৌরসভাতেও প্রার্থী দিতে পারেনি বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। কয়েকটি জেলা সদরেও প্রার্থী পায়নি জাপা। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে মাত্র ৯১টিতে প্রার্থী দেয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন ৯১ জন। তাদের প্রত্যেককেই দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তুলে নেয়ার আবেদন করেছেন বিরোধী দলের একাধিক প্রার্থী। এর মধ্য দিয়ে দলের বেহাল সাংগঠনিক চিত্র ফুটে উঠল। দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থার কারণে খোদ দলের চেয়ারম্যানসহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতাই হতাশা প্রকাশ করেছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কারও কারও বক্তব্য- দেশের রাজনীতি বিরোধী দলের এমন নাজুক পরিস্থিতি বিগত কোন সময়েই আর দেখা যায়নি। এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও প্রার্থী পাচ্ছে না জাতীয় পার্টি।

সূত্র বলছে, ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২০টি দল পৌর নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২৫টি দল প্রার্থী দেয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পাঁচটি দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। ১৪ দলের মধ্যে শরিকরা পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ নানা কৌশলে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জামায়াতও। সাতটি দল মাত্র একজন করে প্রার্থী দিয়েছে।

সংবিধান সংরক্ষণ দিবসের আলোচনায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা স্বীকার করে বলেন, দলের অবস্থা এতই করুণ যে সব পৌরসভায় নিজেদের প্রার্থী পেলাম না। তাই সব পৌরসভায় জাপার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। বিষয়টি আমাকে খুবই কষ্ট দেয়। যা হওয়ার কথা ছিল না। এটা খুবই হতাশার কথা। তিনি আরও বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাদের কোন প্রার্থী নেই। এভাবে তো সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। সামনে আরও কঠিন সময়। তা মোকাবেলা করতে হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া।

লড়াইয়ে ২০টি দল ॥ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ২০টি রাজনৈতিক দল। ইতোমধ্যে মেয়র পদে মোট মনোনয়ন জমা পড়েছে ১ হাজার ২১৯টি। এর মধ্যে দলীয় ৭১১ ও স্বতন্ত্র ৫০৮টি মনোনয়ন জমা পড়ে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে ২৫টি দল কমিশনকে জানিয়েছিল। এর মধ্যে চারটি দলের মনোনয়নপত্র পাওয়া যায়নি। ইসির হিসাব অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২৩৬টি পৌরসভায় ২৩৯ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপি ২৩৪ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি জাপা ৯১ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ২৬ জন, জাতীয় পার্টি (জেপি) ৬ জন, ওয়ার্কার্স পার্টি ৯ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৬১ জন, ন্যাশন্যাল পিপলস পার্টির ১৭ জন, খেলাফত মজলিশ ৮ জন, ইসলামী ঐক্যজোট ৩ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৪ জন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-এলডিপি ২ জন করে প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়া বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল-পিডিপি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপের একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

২৩৪ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করা হবে ৩০ ডিসেম্বর। প্রাথমিকভাবে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩৬টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশে মংলা ও মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারের পৌরসভার নির্বাচনে শুধু মেয়র পদে দলীয়ভাবে ভোট হবে। আর সংরক্ষিত ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে নির্দলীয়ভাবে।

দলের প্রার্থী ৯১ জন ॥ অর্ধেক পৌরসভায়ও প্রার্থী দিতে পারেনি বিরোধী দল। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার ৯৩টি পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে দুইজনের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। মনোনীতদের নাম উল্লেখ করে বুধবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের কার্যালয় থেকে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। নবেম্বরের শেষ দিকে বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার নেন এরশাদ এবং তার স্ত্রী ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় তথ্য গবেষণা ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মিলন জনকণ্ঠকে বলেন, সব নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দেবে। এরই ধারাবাহিকতায় দলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে আমরা ২৬ জেলায় সম্মেলন শেষ করেছি। সকল পৌরসভায় প্রার্থী আছে। কিন্তু যোগ্য প্রার্থীর সঙ্কট রয়েছে। সব মিলিয়ে পৌর নির্বাচনে যোগ্যতার ভিত্তিকে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার কথা জানান তিনি। সামাজিক কাজে অবদান, ক্লিন ইমেজ ও জনপ্রিয়তার মানদ- বিবেচনায় নিয়ে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল পৌরসভায় প্রার্থী দিতে না পারলেও আমাদের অধিকাংশ প্রার্থী বিজয়ী হবে।

মাঠ পর্যায়ে প্রার্থী সঙ্কট ॥ পৌর নির্বাচনে অংশ নিতে অনেকটা আগেভাগেই কাজ শুরু করেছিল বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এরই ধারাবাহিকতায় দলের পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২০ নবেম্বরের মধ্যে মেয়র প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এতে খুব একটা সাড়া মেলেনি। খুব কম জেলা থেকেই তালিকা কেন্দ্রীয় দফতরে আসে। এরপর দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন বিক্রি শুরু হয়। ১৫১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৯৩ জন জমা দেন। দলের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য তাদের প্রত্যেককেই মনোনয়ন দেয়া হয়। ইতোমধ্যে ফেনী সদরে জাপা মনোনীত মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য সোমবার নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন এম এম ইকবাল আলমগীর। ফলে সেখানে সদ্য জাপা থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া মেয়র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র হাজী আলাউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। দলের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে কোন আলোচনা ছাড়াই ইতোমধ্যে জাপার কয়েক মেয়র প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের চিঠি দেয়ায় খোদ দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে তাদের এমন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারও কারও মতে, আর্থিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে আপোস করে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াচ্ছেন জাপার মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা। এ প্রসঙ্গে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী জনকণ্ঠ’কে বলেন, যোগ্য প্রার্থীদের দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে আমাদের বেশিরভাগ প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসবেন এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।